রোগীকে ‘সরি’ বলে টাকা ফেরত দিলো আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:২৫, জুন ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩০, জুন ০৩, ২০২০

আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সেই বিলকরোনা আক্রান্ত রোগীকে ‘সরি’ বলে তার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দিয়েছে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। বুধবার (৩ জুন) সকালে সাইফুর রহমান নামের ওই রোগীকে সেখান থেকে ফোন করে যেতে বলা হয়। রোগীর ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম সুমন যাওয়ার পর তাকে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৫ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে হাসপাতালটি।

তবে গত ৩১ মে সরকার নির্ধারিত ‘কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল’ তালিকা থেকে সরে আসায় ওই রোগীর কাছ থেকে ১ ও ২ জুনের চিকিৎসা বিল ৫৪ হাজার ৮৮০ টাকা কেটে রেখেছে আনোয়ার খান মডার্ন কর্তৃপক্ষ।

গত ২৩ মে করোনা ধরা পড়ার পর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন সাইফুর রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন) ছাড়া পান তিনি। ১১ দিনে চিকিৎসার ব্যয় ধরা হয় ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ টাকা। বিল দেখে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে বের হতে পারছিলেন না। গতকাল রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হাসপাতালে আটকে রাখা হয় তাকে। শেষমেশ অনেক অনুরোধ করে দেড় লাখ টাকা দিয়ে ছাড়া পান তিনি।

সাইফুর রহমান মঙ্গলবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার কোনও অপারেশন হয়নি। আইসিইউতে ছিলাম না। অক্সিজেন নেওয়া লাগেনি। দুটি এক্সরে ও দুটি রক্ত পরীক্ষা করিয়েছে। কেবল নাপা ও গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে। বাকি ওষুধ বাইরে থেকে কিনেছি। অথচ বিল এসেছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ টাকা!’

আজ রোগীর পরিবারকে টাকা ফেরত দিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন কর্তৃপক্ষ বলে, ‘সবাইকে জানাবেন, আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। বিলটি এমন হওয়ার কথা ছিল না।’ এছাড়া পরিবারটিকে ‘সরি’ বলে দুই দিনের বিল রেখেছে তারা।

টাকা ফেরত দেওয়া প্রসঙ্গে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. ইহতেশামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা টাকা ফেরত দিয়েছি। বাংলা ট্রিবিউনকে ধন্যবাদ, আপনারা যদি আমার দৃষ্টিতে বিষয়টি না আনতেন, তাহলে রোগীরা উপকার পেতো না। আমাদের কর্মীরা আরও ভুল করতো। আমাকে সহযোগিতা করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।’

সাইফুর রহমানের বিলের কাগজে দেখা গেছে, ২ জুন পর্যন্ত চিকিৎসকের খরচ ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৭০০ টাকা, হাসপাতাল বিল ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৭০ টাকা, ইনভেস্টিগেশন বিল ১৯ হাজার ৪৭৫ টাকা, ওষুধের বিল ৫ হাজার ২২৬ টাকা ৮৫ পয়সা, এর সঙ্গে সার্ভিস চার্জ ১২ হাজার ৯০৩ টাকা। সব মিলিয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ টাকা ৮৫ পয়সা। মোট বিল আসে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ টাকা।'

গতকাল রাতে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. ইহতেশামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে আমাদের যে চুক্তি হয়েছিল, তা গত ৩১ মে থেকে বাতিল করেছি। সরকারের সঙ্গে কোভিড প্রজেক্টে আমরা আর নেই। আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলবে হাসপাতাল। এ কারণে রোগীকে নিজেই চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হবে। তাই ওই রোগীর কাছ থেকে দুই দিনের বিল রাখতে বাধ্য হয়েছি আমরা।’

হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, আনোয়ার খান মডার্ন সরকারি চুক্তি বাতিল করেছে বলে রোগীকেই সব খরচ বহন করতে হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘৩১ মে পর্যন্ত সরকারি নিয়মে চলতে হবে তাদের। মূল কথা হচ্ছে, করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে এদিন পর্যন্ত করোনা রোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া যাবে না। তবে ১ জুন থেকে তারা চিকিৎসা খরচ নিতে পারবে।’

কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালের তালিকা থেকে আনোয়ার খান মডার্নের বেরিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘তারা আর থাকতে চাচ্ছে না। তবে গণমাধ্যম সচেতন ছিল বলেই রোগীর কাছ থেকে বেশি বিল রাখার একটা প্রতিকার হয়েছে।’

আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালরাজধানীতে করোনা ডেডিকেটেড হিসেবে যে ১৩টি হাসপাতাল রয়েছে তার মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালের তালিকায় ছিল আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। গত ১৬ মে হাসপাতালটির ২০০ বেডের কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড ভবন উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এছাড়া এতে রয়েছে ১০টি আইসিইউ, ১০টি এইচডিও ও পাঁচটি ভেন্টিলেটর। পাশাপাশি কোভিড-১৯ টেস্টের জন্য এখানে পিসিআর মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন খান এমপি সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, 'সরকারের সঙ্গে আমাদের যে অঙ্গীকার ছিল, তা আমরা পালন করেছি। আমরা মানবতার কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমি অন্য কিছু কখনও চাইনি। আমরা এখানে কোনও চিকিৎসা সেবার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করবো না বা রোগীর সঙ্গে ব্যবসা করবো না। সেবা দেওয়াই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।’
আরও পড়ুন-

রক্ত পরীক্ষা, এক্সরে আর নাপা দিয়েই আনোয়ার খান মডার্ন নিলো দেড় লাখ টাকা!

/জেএ/জেএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ