স্বাভাবিক জীবন ফিরছে পূর্ব রাজাবাজারে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১১:৪৪, জুলাই ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৪, জুলাই ০১, ২০২০

লকডাউন তোলার পরের ছবি

আবারও শুরু হয়েছে রিকশার টুংটাং আওয়াজ, সবজি বিক্রেতার হাঁকডাক ও অফিসগামীদের পথ চলা। সব মিলিয়ে দীর্ঘ ২১ দিনের লকডাউন শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারবাসী। কিন্তু তাদের সংশয়, যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানা হয় তবে সংক্রমণ আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে।

বুধবার (১ জুলাই) পূর্ব রাজাবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দোকান খুলতে শুরু করেছে। । রাস্তার পাশে ভ্যানে চলছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচা। সড়কে বের হয়েছেন অফিসগামীরা। অনেকে ওই এলাকায় প্রবেশও করছেন বাইরে থেকে। আবার অনেককে বাসা পরিবর্তন করতেও দেখা গেছে। সবমিলিয়ে স্বাভাবিক চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে এখনও সব প্রবেশ পথ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি।

সবকিছু আগের মতো চলা শুরু করলেও এলাকাবাসীদের সংশয়, যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানা হয় তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধের ২১ দিনের লকডাউনের কার্যকারিতা কিছুই থাকবে না। সংক্রমণ আরও বাড়বে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আহাদ উদ্দিন মাহমুদ ২১ দিন পর আজ প্রথম অফিসে যাচ্ছেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, '২১ দিনের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল। কিন্তু লকডাউনের কার্যকারিতা খুব বেশি হবে এমনটা মনে হচ্ছে না। কারণ, শুধু একটা জায়গায় লকডাউন ছিল। কিন্তু বাইরের এলাকাগুলোতে তো লকডাউন ছিল না। এখন সবাই বাইরে বের হবে, আবারও যদি সংক্রমিত হয়, তাহলে লকডাউনের কার্যকারিতা কতটুকু থাকবে সেটা ভেবে দেখার বিষয়।'

লকডাউন সময়ের নিদের্শনা এখনও মেনে চলতে হবে এমনটা আশা করে অলিম্পিক কোম্পানির কর্মকর্তা রাসেল রানা বলেন, '২১ দিন পর আজ অফিস যাচ্ছি। এই সময়টুকু আমরা নিরাপদেই ছিলাম। এখন আবার বাইরে যেতে হচ্ছে। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে লকডাউন সময়ের নিরর্দেশনা মানতে হবে। না হলে লকডাউনের কোনও কার্যকারিতা থাকবে না।'

সমরিতা হাসপাতালের স্টাফ এস এম আবদুল মোতালেব সংশয় প্রকাশ করে বলেন, 'হাসপাতারের চাকরির সুবাদে আমাকে প্রতিদিনই বাইরে বের হতে হয়েছে। লকডাউন শেষে আজ বের হয়ে যেটা দেখছি তাতে আমি অবাক। কাউকে নিয়ম-শৃঙ্খলা খুব একটা মানতে দেখছি না। একে অপরের সঙ্গে গায়ে গায়ে মিশে চলাচল করছেন। ২১ দিন মানুষ ঘরে ছিল, তাতে তাদের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ছিল। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে এই সুযোগটা আর থাকবে না।'

এলাকার দোকানিরা বিপাকে

২১ দিন সবকিছু বন্ধ থাকায় বিপাকে ওই এলাকার দোকানিরা। তারা দীর্ঘ এই সময় পর দোকান খুলতে এসে দেখেন, দোকানের অনেক মালামাল ইঁদুরে নষ্ট করে ফেলেছে। তাদের প্রত্যেককেই মালামাল বের করে দোকান পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। তারা বলছেন, যদি তাদের ভেতরে থেকেই দোকানের জিনিস বিক্রি করার সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুন থেকে ১৪ দিনের জন্য পূর্ব রাজাবাজারে পরীক্ষামূলক লকডাউন শুরু হয়। পরে আরও সাত দিন লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। লকডাউন শুরুর প্রথম দিন গত ১০ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ১১ দিনে এই এলাকার মোট ২০৫ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ৪০ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়, যা মোট আক্রান্তের সাড়ে ১৯ শতাংশ। ওই ১১ দিনের মধ্যে প্রথম সাত দিনে (১০ জুন থেকে ১৬ জুন) ১৩১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়, যা আক্রান্তের ২৫ শতাংশ। আর শেষ ৫ দিনে (১৬ জুন থেকে ২১ জুন) ৭৪ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে ৭ জনের পজিটিভ ফল আসে, যা আক্রান্তের সাড়ে ৯ শতাংশ। এরমধ্যে ১৮ জুন ২২ জনের পরীক্ষা করা হয়। এদিনের পরীক্ষায় কারও শরীরে করোনা শনাক্ত হয়নি। ২০ জুন ১৯ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে। ওই দিনও কারও করোনা শনাক্ত হয়নি। লকডাউনের শেষ ৯ দিনের তথ্য পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে ডিএনসিসি কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় লকডাউনের সমন্বয়কারী ডিএনসিসির উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. গোলাম মোস্তফা সারওয়ার।

আরও খবর: তুলে নেওয়া হলো পূর্ব রাজাবাজারের লকডাউন

 

/এইচএন/এএইচ/

লাইভ

টপ