'নিয়মিত কোর্ট না খুললে পেশা ছেড়ে দিতে হবে আইনজীবীদের'

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৪০, জুলাই ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৪, জুলাই ০৮, ২০২০

সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের নিম্ন আদালতগুলোয় নিয়মিত কোর্ট না বসলে অনেক আইনজীবীকে পেশা ছেড়ে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। বুধবার (৮ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

জয়নুল আবেদীন বলেন, 'লকডাউন পরবর্তী সময়ে জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে সরকারের পক্ষ থেকে অফিস, দোকানপাট, মিল, কল-কারখানা, বাস, লঞ্চ খুলে দেওয়া হয় এবং মহামারি প্রকট আকার ধারন করে। এই অবস্থায় সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান বিচারপতি অল্প কয়েকজন বিচারপতিকে নিয়ে ভার্চুয়াল আদালত চালু করেন। নিঃসন্দেহে এটি একটি ভাল কাজ হয়েছে এবং এজন্য প্রধান বিচারপতি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু সাধারণ আইনজীবীরা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে পরিলক্ষিত করছেন যে, ভার্চুয়াল পদ্ধতিকে একটা স্থায়ী পদ্ধতির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সাধারণ আইনজীবী ও বার (আইনজীবী সমিতি) সংশ্লিষ্ট সব আইনজীবীরা এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতিতে বাংলাদেশের তিন শতাংশ আইনজীবীও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেননি এবং পাঁচ শতাংশ বিচারপ্রার্থীও এর সুফল ভোগ করতে পারেননি। যেই কারণে সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্ষোভের সুরাহা হওয়া দরকার।'

সব সিনিয়র আইনজীবী এবং জুনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে আদালত খুলে দেওয়ার বিষয়ে জয়নুল আবেদীন তার কিছু ব্যক্তিগত মতামত পেশ করেন। এগুলো হলো- ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনা কোনও চিরস্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে না। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষ ব্যবস্থায় আদালত খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিৎ, যাতে সাধারণ আইনজীবীরা বিচারপ্রার্থী মানুষের পক্ষে কাজ করতে পারে। সব বিচারপতিকে মোশন (মামলা গ্রহণের) ক্ষমতা দিয়ে সপ্তাহে আপতত তিন দিন নির্দিষ্ট করে নিয়মিত আদালত চালানো যেতে পারে। আইনজীবীরা এবং বিচারপতিরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে আদালতে উপস্থিত হতে পারে। আইনজীবী সমিতি এবং কোর্ট প্রশাসন কোর্টে বসার ব্যবস্থাপনা একইভাবে করা, যাতে স্বাস্থ্যবিধি কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়। বর্তমানে এই ব্যবস্থায় চলাকালীন সদস্য নন এমন কোনও আইনজীবী যাতে আদালতে প্রবেশ করতে না পারেন, তা আইনজীবীর সমিতি নিশ্চিত করবেন। যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের কোনও অরিজিনাল জুরিসডিকশন নেই, তাই মক্কেল তার নিযুক্ত আইনজীবীর সঙ্গে আদালত অঙ্গনের বাইরে আলোচনা করবেন। নিম্ন আদালতগুলোও একই পদ্ধতিতে খোলা রাখা যেতে পারে, যাতে আইনজীবীদের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের পক্ষে বিচার ব্যবস্থা সম্পন্ন হতে পারে। বিচার ব্যবস্থার স্বার্থে, দেশের স্বার্থে আমাদের সবার দায়িত্ব আছে, সেটা হলো সম্পন্ন আইনজীবীদের এই পেশায় রাখা। এছাড়াও অনেক বিষয় রয়েছে যা প্রধান বিচারপতি সব সিনিয়র আইনজীবী এবং বারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিয়মিত আদালত পরিচালনার ব্যবস্থা কীভাবে করা যায়, তার ব্যবস্থা করবেন।



 

/বিআই/এএইচ/

লাইভ

টপ