সিনহা হত্যা: ফাঁস হওয়া ফোনালাপ যাচাই করছে র‌্যাব

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:১৬, আগস্ট ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩২, আগস্ট ০৯, ২০২০

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহাঅবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার ঘটনায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের (এসপি) সঙ্গে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীর ফোনালাপের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব। তদন্তে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।






















শনিবার (৮ আগস্ট) বিকালে র‌্যাব সদর দফতরে সংবাদিকদের এই তথ্য জানান তিনি। ফোনালাপ ফাঁসের বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে (এসপি) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কিনা? সংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে লেফট্যানেন্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘সিনহা হত্যাকাণ্ড সংশ্লিষ্ট যে ফোনালাপ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা র‌্যাবের নজরে এসেছে। এই ফোনালাপের বিষয়টি আমরা যাচাই-বাছাই করছি। এছাড়াও অন্যান্য বিষয়গুলো বিস্তরভাবে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ কী ছিল? এবং এই হত্যাকাণ্ডে কোন কোন ব্যক্তি নির্দিষ্টভাবে দায়ী? তাদের চিহ্নিত করাই র‌্যাবের মূল লক্ষ্য জানিয়েছে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নিহতের বড় বোন যে মামলাটি করেছেন, ওই মামলায় ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে সাত জন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। বাকি দুই জনের বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, বাহারছড়া কেন্দ্রে এই দুটি নামের কোনও পুলিশ সদস্য নেই। এরপরও এই দুই জনের বিষয়ে র‌্যাবের তদন্ত চলছে।’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর প্রসঙ্গে আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘নিহত মেজর (অব.) সিনহার বড় বোন যে মামলাটি দায়ের করেছেন, ওই মামলার গুরুত্বপূর্ণ একজন সাক্ষী হলো সিফাত। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ যে মামলাটি দায়ের করেছে, ওই মামলায় সিফাত একজন অপরাধী। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে আছেন। এই বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব পর্যালোচনা করছে। র‌্যাবের বক্তব্য হচ্ছে- যেহেতু পৃথক দুটি মামলা হয়েছে, পুলিশের করা মামলার ক্ষেত্রে যে আইনজীবী আছেন তিনি সিফাত ও শিপ্রাকে মুক্ত বা জামিনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। এর বাইরে র‌্যাবের তদন্তকারী কর্মকর্তা, সিফাত ও শিপ্রার হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ, হার্ডডিক্স, ঘড়ি উদ্ধারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি মামলা। এই মামলার তদন্তে র‌্যাব সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এর পাশাপাশি যে বিষয়গুলো গণমাধ্যমে এসেছে, সকল বিষয় সমন্বিত করে তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করবেন। তদন্ত কর্মকর্তা মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে যদি প্রয়োজন মনে করেন, তবে বাহিনীর যে কারও সহযোগিতা নিতে পারেন। এখানে আইনি কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।’

হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্ট আসামিকে এখনও র‌্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘আগামীকাল (রবিবার) তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব হেফাজতে নেওয়া হবে। তাদের পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই (শুক্রবার) রাতে টেকনাফ বাহারছড়া চেকপোস্টে তল্লাশির সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইন্সপেক্টর লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ৬ আগস্ট বরখাস্ত ওসি প্রদীপসহ সাত আসামি কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। মামলার শুনানিতে র‌্যাবের পক্ষে প্রত্যেক আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালতের বিচারক ইন্সপেক্টর লিয়াকত, ওসি প্রদীপ এবং এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাকি চার জনকে কারা ফটকে দুই দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। এছাড়াও এই মামলায় পলাতক থাকা অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

/আরজে/এনএস/

লাইভ

টপ