চীনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত আগামী সপ্তাহে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৫৭, আগস্ট ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৪৪, আগস্ট ১৪, ২০২০

করোনা ভাইরাস

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত চীনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বুধবার (১২ আগস্ট) সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনলাইন বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুধবার অনলাইন বৈঠকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নাসহ অন্য ভ্যাকসিন উদ্ভাবক কোম্পানিগুলো তাদের ভ্যাকসিন সরবরাহ করার জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে। এসব ভ্যাকসিনের জন্য যেসব দেশ আগে থেকে অ্যাডভান্স করে রাখছে, তাদের আগে ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে কোম্পানিগুলো। আমরাও এসব কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি করা কিংবা অ্যাডভান্স দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের মিটিং ঠিক করা হয়েছে। সেই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে চীনকে বাংলাদেশে তাদের ভ্যাকসিন পরীক্ষা করতে দেওয়া হবে কিনা।’ তিনি বলেন, ‘সে মিটিংয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হলে চীন বাংলাদেশে কত মানুষের ওপর ভ্যাকসিন দেবে, কত টাকা দেবে, পরীক্ষা হলে চীন কী শর্তে ভ্যাকসিন দেবে—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর চীনকে পরীক্ষা করতে দেওয়া হবে।’

এর আগে গত ৪ আগস্ট করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চীনের তৈরি ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলক ব্যবহার করার জন্য অনুমোদন দেওয়ার কথা ভাবছে বাংলাদেশ বলে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মান্নান। তিনি বলেছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া গেলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ভ্যাকসিনটি প্রয়োগের অনুমোদন দেওয়া হবে।

তিনি জানান, চীনের একটি ওষুধ কোম্পানির ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পর তা তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশে আইসিডিডিআর,বি’র কাছে আবেদন করে। সেই আবেদন নিয়ে আইসিডিডিআর,বি প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠক শেষে সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘চীনা কোম্পানির করা আবেদনপত্রটি আইসিডিডিআর,বি’র মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদফতর হয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এসেছে। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। আমাদের করা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়ার পর যদি এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়, এরপর এর ফলাফল পেতে ছয় মাস সময় লেগে যাবে। এরমধ্যে যদি বিশ্বের অন্য কোনও দেশে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়ে যায়, তবে আমরা সেটি পাওয়ার জন্যও যোগাযোগ রাখছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে জেনেছি, চীনের সিনোভ্যাক ওষুধ কোম্পানিটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি কোম্পানি। এর সঙ্গে চীনা সরকারের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। এই প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ভ্যাকসিন ইতোপূর্বে চীনে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে নিরীক্ষা চালিয়ে সফল হয়েছে। সেটা বিবেচনায় রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে যদি তা সন্তোষজনক হয়, তবে আমাদের দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর প্রয়োগের জন্য আইসিডিডিআর,বি’র মাধ্যমে এ ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেওয়া হবে।’

/জেএ/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ