‘আটটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০২:১২, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:১২, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

কক্সবাজার মাতারবাড়ী ও মহেশখালীতে প্রস্তাবিত আটটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবকটি নির্মিত হলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে এবং এ কারণে বায়ুদূষণ-জনিত রোগে ভুগে মারা যেতে পারে ৩০ হাজার মানুষ। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জীবনকাল ৩০ বছরের মধ্যে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টর ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ)-এর ‘বায়ুর মান, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানায় বাপা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বাপা’র সহ-সভাপতি রাশেদা কে চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং বাপা’র সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল এ সংবাদ সম্মেলনে বৈজ্ঞানিক গবেষণাভিত্তিক বক্তব্য দেন সিআরইএ এর গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান বিশ্লেষক লরি মিলিভিরতা। অনুষ্ঠান বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. খালেকুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব, ডা. আব্দুল মতিন, অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া ও  ফজলুল কাদের চৌধুরী।

মহেশখালী ও মাতারবাড়ীতে প্রস্তাবিত ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবকটি নির্মাণ হলে এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ হাব। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রভাব নিরূপণ করায় চরম গাফিলতি করা হয়েছে এবং এগুলোর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিও খুব দুর্বল। বলা হয়, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘময়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণ হতে পারে।  যেমন, বায়ুতে বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও আশেপাশের এলাকায় পর্যটকের সংখ্যা কমতে পারে। প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর মতো মহামারি আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে। দেশে বায়ুদূষণ-জনিত রোগে এমনিতেই বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাতাসে আরও বিষাক্ত পদার্থ মিশলে এ ধরনের মহামারিতে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বড় হতে পারে।

বাপা জানায়, এই গবেষণা করা হয়েছে মাতারবাড়ী ও মহেশখালীতে প্রস্তাবিত ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর, যাদের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৮.৭ গিগাওয়াট। এগুলোর বিষাক্ত পদার্থ নির্গমণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা খুবই অপ্রতুল।

গবেষণায় দেখা যায়,  মাতারবাড়ী-মহেশখালীত প্রস্তাবিত ৮টি কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র তাদের ৩০ বছরের জীবনকাল যে বিষাক্ত পদার্থ বাতাসে নিঃসরণ করবে, তা ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হবে। এর মধ্য ৪ হাজার ১০০ জন দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগে, ৭ হাজার জন হৃদরোগে, ২০০ শিশুসহ ২ হাজার ৯০০ জন ফুসফুসের প্রদাহে, এক হাজার ৩০০ জন ফুসফুস ক্যান্সারে, ৬ হাজার ৪০০ জন স্ট্রোকে এবং ২ হাজার ৪০০ জন নাইট্রাজন-ডাই-অক্সাইডর বিষক্রিয়ায় মারা যেতে পারে। 

রাশেদা কে চৌধুরীর বলেন, ‘আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু সেই উন্নয়ন হতে হবে টেকসই, সমতাভিত্তিক এবং পরিবেশকে ঠিক রেখে।’

অধ্যাপক ড. খালেকুজ্জামান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে আমরা উন্নত দেশগুলোর দূষণের সমালোচনা করছি এবং ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের নেতৃত্ব দিছি। অথচ আমরাই যদি মাতারবাড়ী-মহেশখালীর মতো কয়লাবিদ্যুৎ হাব নির্মাণ করি, তাহলে অন্যদের সমালোচনা করার অধিকার হারাবো।’  

 

 

/এসএনএস/আইএ/

লাইভ

টপ