সরকার দুর্নীতির তথ্য নিয়ন্ত্রণে বেশি তৎপর: টিআইবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:০৫, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৭, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

টিআইবিবিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, সরকার দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ নিয়ন্ত্রণে অনেক বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন— ‘‘দুর্নীতির যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তা ‘হিমশৈলের চূড়ামাত্র’। নানা কৌশলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিসরকে সংকুচিত করে রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের পক্ষে যথাযথ ভূমিকা পালন করা কঠিন।’’

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ‘আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস’ উদযাপনের অংশ হিসেবে ‘তথ্য অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা ও ‘দুর্নীতি বিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২০ ঘোষণা’ উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এমন অভিযোগ করা হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ।

এতে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, এমআরডিআই-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের নির্বাহী পরিচালক তালাত মামুন, এনটিভির বার্তা প্রধান জহিরুল আলম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রিজওয়ান-উল-আলম, সিনিয়র সাংবাদিক শরিফুজ্জামান পিন্টু, এমআরডিআই-এর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিষয়ক হেল্প ডেস্কের পরিচালক ও  সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বাবুসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকরা। 

বাংলাদেশের গণমাধ্যম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে পারছে না মন্তব্য করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক আফসান চৌধুরী বলেন, ‘গণমাধ্যম এখন নিজেকে সংবাদমাধ্যম হিসেবে না ভেবে, উপরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ভাবছে। তারা অনুসন্ধানী না হয়ে এখন হেডলাইন নির্ভর। গণমাধ্যমকর্মীদের সফল হওয়ার চেষ্টা নেই, তারা প্রস্তুত না, এমনকি মালিকপক্ষও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয় না। এ থেকে বের হতে না পারলে গণমাধ্যম মুক্ত হতে পারবে না, গণমাধ্যমকর্মীরাও তাদের দায়িত্বপালনে সফল হবে না।’

বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যমই গতানুগতিক উল্লেখ করে ড. গীতিআরা নাসরিন বলেন, ‘‘গণমাধ্যম ওয়াচডগের ভূমিকা কতটা পালন করতে পারছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। সব মিডিয়া একই ধরনের তথ্য প্রদান করছে। একধরনের ‘সহমত ভাই’ সাংবাদিকতা শুরু হয়েছে। জনগণ ভাবতে পারছে না যে, সাংবাদিকরা তাদের পাশে আছে। প্রচলিত কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে এ ধারা থেকে বের হতে না পারলে গণমাধ্যমের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন এবং আশা তৈরি সম্ভব হবে না।’

সাংবাদিক জুলফিকার আলী মানিক বলেন, ‘সাংবাদিকতায় বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় চাপ আছে, ছিল এবং চাপ থাকবেই। এর মধ্যদিয়েই সততা এবং সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। দেশের রাজনীতি যতটুকু নষ্ট হয়েছে সাংবাদিকতাও ততটুকুই নষ্ট হয়েছে। আবার সাংবাদিকতা যতটুকু নষ্ট হয়েছে রাজনীতিও ঠিক ততটা নষ্ট হয়েছে। সাংবাদিকতায় অপশক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির অনৈক্য প্রকট। তাই শুভশক্তির ঐক্য হলেই সাংবাদিকতার অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত শক্তির মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানানো গেলেও এই আইনের বাস্তবায়নে সরকারের একাংশের মানসিকতা হলো ‘তথ্য হচ্ছে সরকারি সম্পত্তি’,  এর নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে এবং সরকার যেভাবে যতটুকু তথ্য প্রকাশ করতে চাইবে, ততটুকুই প্রকাশিত হবে। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাবানদের একাংশের সমালোচনা সইবার সৎ সাহসের  ঘাটতি থাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় বিবেচনায় তথ্য প্রকাশ একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তাই রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় তথ্য প্রকাশ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।’

অনুষ্ঠানে টিআইবির দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২০ ঘোষণা করা হয়। এবছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চার জন সাংবাদিক এবং একটি প্রামাণ্য অনুষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।

প্রিন্ট মিডিয়া (আঞ্চলিক) ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে টিআইবির অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার বিজয়ী হয়েছেন— যশোরের ‘দৈনিক গ্রামের কাগজের’ সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ফয়সাল ইসলাম এবং চট্টগ্রামের সাপ্তাহিক ‘চাটগাঁর বাণী’ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম। জাতীয় সংবাদপত্র বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন— কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার আরিফুর রহমান। টেলিভিশন (প্রতিবেদন) বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার সফিক শাহিন। টেলিভিশন (প্রামাণ্য অনুষ্ঠান) বিভাগে বিজয়ী হয়েছে চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘সার্চলাইট’।

 

/এসএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ
X