সাত আসামির জামিন আদেশ রিকল চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৫৮, অক্টোবর ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:০০, অক্টোবর ০১, ২০২০

সুপ্রিম কোর্ট

তথ্য গোপন করে খুলনার তেরখাদার জোড়া খুন মামলার সাত আসামির জামিন নেওয়ার ঘটনায় আদেশটি রিকল (প্রত্যাহার) চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি এম. আতোয়ার রহমানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামী ৪ অক্টোবর আবেদনটির ওপর শুনানি ও আদেশের দিন নির্ধারণ করেছেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আবেদনটি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন, ‘একই মামলায় সাত আসামির জামিনপ্রাপ্তির বিষয়টি জানার পর কারাবন্দি আরও তিন আসামি হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চে জামিন আবেদন করেন। তাদের জামিন আবেদনে মামলার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান সত্ত্বেও অন্য সাত আসামির জামিন পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এরপর বিচারপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিষয়টি আমাকে অবহিত করেন। পরে আমি নথি যাচাই করে বিষয়টি আমার কোর্টের বিচারপতিদের নজরে এনে আবেদন জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় বিচারিক আদালতে তিন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া সত্ত্বেও অপর সাত আসামি হাইকোর্টে জামিন চাইতে জবানবন্দির তথ্য গোপন করে। তাই জামিন নেওয়ার বিষয়টি নজরে আসায় আসামিদের জামিন বাতিলের পাশাপাশি তাদের গ্রেফতারের জন্য আদালতের নির্দেশনা চেয়েছি। একইসঙ্গে নথিতে তথ্য গোপনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেছি।’

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট খুলনার তেরখাদায় পূর্ব শত্রুতার জেরে নাঈম শেখ (২৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় আহত হন নিহতের বাবা হিরু শেখ (৫৫)। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।   ঘটনায় পরদিন তেরখাদা থানায় ১৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ইতোমধ্যে ওই মামলায় তেরখাদার ইউপি চেয়ারম্যান এম. দীন ইসলামসহ ১৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।

এই মামলার তিন আসামি শেখ সাইফুল ইসলাম, আব্দুর রহমান ও খালিদ শেখ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

এরপর ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর খুলনার জেলা ও দায়রা জজ এই মামলার আসামিদের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। পরে তারা চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন জানায়। ওই জামিন আবেদনে তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার তথ্য গোপন রাখা হয়। আসামিদের পক্ষে মামলাটি শুনানি করেন আইনজীবী এমএ শহীদ চৌধুরী। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। পরে কারাগার থেকে সাত আসামি মুক্তি পায়। তারা হলো— শেখ সাইফুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, খালিদ শেখ, ইস্কান্দার শেখ, জমির শেখ, জিয়ারুল শেখ ও আব্বাস শেখ।

 

/বিআই/এপিএইচ/

লাইভ

টপ