X
বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২
২০ আশ্বিন ১৪২৯

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে যত প্রশ্ন

বেলায়েত হুসাইন
০৮ জুলাই ২০২২, ১০:৩০আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২২, ১০:৩০

কোরবানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পশুর চামড়া। তবে এ নিয়ে প্রচলিত আছে অনেক ভুল ধারণা। যেমন, কেউ মনে করেন কোরবানির পশুর চামড়া মানেই সেটা গরিবদের হক। আবার কেউ এ চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সেটা ফেলেও দেন। দুটো ধারণা বা কাজই ভুল। 

 

কোরবানির পশুর চামড়া নিজে ব্যবহার করা যাবে?

কোরবানিদাতা চাইলে ওই চামড়া নিজে ব্যবহার করতে পারবেন এবং ইসলামে এ কাজে উৎসাহও দেওয়া হয়েছে। আবার চাইলে কোরবানিদাতা এ চামড়া ধনী বা গরিব যে কাউকে উপহার দিতে পারবেন।

তবে চামড়া বিক্রি করা হলে সেই টাকা কিছুতেই কোরবানিদাতা নিজে খরচ করতে পারবেন না। কোনও ধনীকেও ওই টাকা উপহার দিতে পারবেন না। জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিকেই ওই টাকা দান করতে হবে।

 

কীভাবে দান করবেন?

জাকাতের মতো কোরবানির পশুর চামড়া অথবা বিক্রিত মূল্য দান করার ক্ষেত্রেও কাউকে মালিক বানিয়ে দেওয়া আবশ্যক। কিন্তু কোরবানির চামড়া অনেক সময় কোনও দাতব্য সংস্থা বা সরাসরি মাদ্রাসায় দান করা হয়। সেক্ষেত্রে কিন্তু প্রথমেই কাউকে ওই চামড়ার মালিক বানানো হচ্ছে না। এরপরও তা জায়েজ হয় এইভাবে যে, ওই সংস্থা বা মাদ্রাসার কর্তাব্যক্তি ওই চামড়া প্রদানকারীর পক্ষে উকিল হিসেবে তা গ্রহণ করেন। পরে তা বিক্রি করে জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিকেই মালিক বানিয়ে দেন। এতে স্বয়ং কোরবানিদাতাই জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিকে দান করলেন।

 

যাদের চামড়ার মূল্য দেওয়া উত্তম

জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিদের চামড়ার বিক্রিত মূল্য দান করতে হবে। এক্ষেত্রে ইসলামি স্কলারগণের অভিমত হলো, সুযোগ থাকলে নিজের গরিব আত্মীয়দের দিতে হবে।

এতে দু’টি উপকারিতা— প্রথমত, দান করার সওয়াব ও দ্বিতীয়ত, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াব। অনুরূপভাবে মাদ্রাসার এতিম-গরিব শিক্ষার্থীদেরও দেওয়ার কথা বলেন অনেকে। এখানেও দুই ধরনের সওয়াব। প্রথমত, দানের সওয়াব ও দ্বিতীয়ত, ইলমে দ্বীন শিক্ষাদানে সহযোগিতার সওয়াব।

 

জনহিতকর কাজে চামড়ার মূল্য ব্যবহার করা যাবে?

মসজিদ, মাদ্রাসা, বিদ্যালয়, রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও হাসপাতাল নির্মাণের ক্ষেত্রে চামড়ার অর্থ খরচ করা যাবে না। কারণ এসব ক্ষেত্রে চামড়ার অর্থের মালিক ব্যক্তি বিশেষকে বানিয়ে দেওয়া হয় না। আবার এই ধরনের কাজে ধনী-গরিব সমানভাবে উপকারিতা লাভ করে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি চামড়ার টাকা গ্রহণ করে এই বলে যে, এ টাকা শুধু হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নেওয়া গরিবদের চিকিৎসায় খরচ করা হবে, তাহলে দান করা জায়েজ।

 

কসাই বা শ্রমিকদের কি চামড়ার মূল্য দেওয়া যাবে?

কোরবানির চামড়ার বিক্রিত মূল্য কসাই কিংবা শ্রমিকদের পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে না। এ প্রসঙ্গে হজরত আলি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাকে তাঁর কোরবানির পশুর দেখাশোনার নির্দেশ দিয়েছেন। পশুর গোশত, চামড়া ও ওপরে থাকা চাদর সদকা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এগুলোর কোনও কিছু কসাইকে দিতে নিষেধ করেছেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৪০৭)।

এ থেকে বোঝা যায়, যে ব্যক্তি কোরবানি করবে, সে কোরবানির চামড়া বিক্রি করে সেই মূল্য নিজের কাজে লাগাতে পারবে না এবং তা দিয়ে কসাইয়ের মজুরিও দিতে পারবে না। তবে যদি ওই কসাই বা শ্রমিক জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয় তবে পারিশ্রমিকের বাইরে তাকে চামড়ার বিক্রিত মূল্য দেওয়া হলে তা সদকা হিসেবে বিবেচ্য হবে।

 

তথ্যসূত্র : ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া : ৩/১৯৮-২০৮, দুররুল মুখতার : ৩/১৭১-১৭৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ৫/৩০১, আল মুহিতুল বুরহানি ফিল ফিকহিন নুমানি : ৬/৯৫, দারুল উলুম দেওবন্দের ওয়েবসাইটের ৫৫৬৪৯ নম্বর ফতোয়া ও জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া আল্লামা ইউসুফ বানুরি টাউনের ওয়েবসাইটের ১৪৩৯০৯২০১২১১ নম্বর ফতোয়া অবলম্বনে।

 

লেখক : গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষক-মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়্যাহ ঢাকা।

/এফএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
রোহিঙ্গাদের নিয়ে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবি: আরও ২ লাশ উদ্ধার
রোহিঙ্গাদের নিয়ে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবি: আরও ২ লাশ উদ্ধার
কবীর সুমনের ঢাকা লাইভ চূড়ান্ত
কবীর সুমনের ঢাকা লাইভ চূড়ান্ত
রুশ সেনাবাহিনীর কর্নেল জেনারেল হলেন রমজান কাদিরভ
রুশ সেনাবাহিনীর কর্নেল জেনারেল হলেন রমজান কাদিরভ
জয় যেভাবেই আসুক, খুশি বাংলাদেশ কোচ
জয় যেভাবেই আসুক, খুশি বাংলাদেশ কোচ
বাংলাট্রিবিউনের সর্বাধিক পঠিত
৪০তম বিসিএস নন-ক্যাডার: পিএসসির অবহেলিত এক সন্তানের গল্প
৪০তম বিসিএস নন-ক্যাডার: পিএসসির অবহেলিত এক সন্তানের গল্প
সরবরাহ ব্যাপক, তবু কেন নাগালের বাইরে ইলিশের দাম?
সরবরাহ ব্যাপক, তবু কেন নাগালের বাইরে ইলিশের দাম?
থাইল্যান্ডে এক মাস, গুঞ্জনের জবাব কক্সবাজার থেকে 
থাইল্যান্ডে এক মাস, গুঞ্জনের জবাব কক্সবাজার থেকে 
প্রেমের শহরে রূপের ঝলক
প্রেমের শহরে রূপের ঝলক
সাকিব যোগ দেননি তাই ফটোসেশনে সোহান
সাকিব যোগ দেননি তাই ফটোসেশনে সোহান