ইবাদতে উৎসাহ দিতে শিশুকে পুরস্কার, ইসলাম কী বলে?

বেলায়েত হুসাইন
০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:০০আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:০০

ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়াকে ইসলামে ইবাদত আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং একইসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ভালো কাজে অন্যকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করো।' (সুরা মায়েদা, আয়াত: ২)

যে নিজে ভালো কাজ করে এবং অন্যকে ভালো কাজে উৎসাহ দেয়, হাদিস শরিফে তাকে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সৎপথের দিকে আহ্বান করবে, সে তার অনুসারীর সমান সওয়াব পাবে। অথচ অনুসরণকারীর সওয়াব কমানো হবে না। অন্যদিকে যে ব্যক্তি ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করবে, সে তার অনুসারীর সমান পাপে জর্জরিত হবে। তার অনুসারীর পাপ মোটেও কমানো হবে না। (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৬০৯)।

সব ইবাদতের মূল হলো নামাজ। কোরআন-হাদিসে অসংখ্য জায়গায় নামাজের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং নামাজকে দেওয়া হয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতের স্বীকৃতি। প্রতিটি মুসলমান যেমন নামাজের প্রতি যত্নবান হতে চান, ঠিক তেমনি এটাও কামনা করেন যে—তার সন্তানও শৈশব থেকে নামাজের প্রতি মনোযোগী হয়ে বেড়ে উঠবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময় বাবা-মা তাদের সন্তানদের নামাজে উদ্বুদ্ধ করতে রকমারি পুরস্কার ঘোষণা করেন। যেমন—সন্তানকে তারা বলেন, ‘তুমি যদি নামাজ পড়ো, তাহলে তোমাকে চকলেট, মিষ্টি ইত্যাদি পুরস্কার দেবো।’

মা-বাবার সঙ্গে সঙ্গে ইবাদতে উৎসাহ দিতে পুরস্কার প্রদান সংস্কৃতি—এখন সামাজিকভাবেও শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর পাশাপাশি তুরস্ক, পাকিস্তান ও আমাদের বাংলাদেশেও এরকম প্রচুর উদাহরণ দেখা যায়। বিশেষত ‘৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়লে সাইকেল পুরস্কার’ এ জাতীয় অসংখ্য খবর আমাদের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলোতেও ইদানীং চোখে পড়ছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—এসব জাগতিক পুরস্কারের প্রতি আকৃষ্ট করে ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়ে ইসলাম কী বলে?

এ বিষয়ে সৌদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি ও বিশ্বখ্যাত ইসলামি গবেষক আলেম শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ ইবনে বায তার ফতোয়ায় বলেন, ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করতে পুরস্কার প্রদানে কোনও সমস্যা নেই। কারণ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি করা হয় ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ প্রদানের উদ্দেশে। তবে যদি পুরস্কারের উদ্দেশ্য হয়—একজনের ওপর আরেকজনকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া, তাহলে তা জায়েজ নেই। আর এরকমটা সাধারণত হয় না।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগে এক ব্যক্তি জানতে চেয়েছিলেন, ‘শিশুদের নামাজে অভ্যস্ত করতে সাইকেল, কিতাবপত্র ইত্যাদি পুরস্কার দেওয়া হয়—এটা কি জায়েজ? একজন মৌলভী এটিকে কোরআন পড়ে টাকা নেওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে ‘নাজায়েজ’ বলেছেন।’ দেওবন্দ ওই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বলেছে, ‘শিশুদের নামাজে অভ্যস্ত করে তুলতে পুরস্কার দেওয়া যাবে। তবে এ পুরস্কার মসজিদের ফান্ড থেকে দেওয়া হবে না।’

শিশুদের নামাজে আগ্রহী করে গড়ে তুলতে সামাজিকভাবে পুরস্কারের উদ্যোগের তুলনায় দারুল উলুম দেওবন্দ তাদের মা-বাবার ভূমিকার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। ওই ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘মা-বাবার দায়িত্ব হলো সন্তানদের নামাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা, তাদের নামাজ শেখানো ও নামাজে অভ্যস্ত করে গড়ে তোলা এবং একইসঙ্গে তাদের মধ্যে এই মানসিকতা তৈরি করা যে তারা দুনিয়ার কোনও পুরস্কারের আশায় নয়; বরং আখিরাতে পুরস্কার প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষায় নামাজি হবে।’ (দারুল উলুম দেওবন্দের ওয়েবসাইট, সুওয়াল নম্বর: ১৭১০২৭)।

লেখক: শিক্ষক, মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়্যাহ, ঢাকা।

/এসটিএস/এমএস/
সম্পর্কিত
অধীনস্তদের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দেয় ইসলাম  
ইসলামে নাগরিকের নিরাপত্তার গুরুত্ব
ইসলামের দৃষ্টিতে গুজব ছড়ানো অপরাধ
সর্বশেষ খবর
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে