ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে: এবি পার্টি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১১ জুন ২০২৬, ২৩:১০আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ২৩:৩০

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে যে গভীর সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখান থেকে উত্তরণের কোনও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এই বাজেটে নেই। বরং অর্থনীতির বিদ্যমান দুর্বলতা দূর করার পরিবর্তে নতুন ঝুঁকি ও সংকট তৈরি করবে প্রস্তাবিত বাজেট। তাঁদের মতে, ঘাটতি ও ঋণনির্ভর এই বাজেট অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার ঘাটতি নিয়ে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বিশাল বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাস্তবতার চেয়ে কাগুজে উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বেশি। সরকারের এই বাজেট মূলত জনগণকে পরিসংখ্যানের মোড়কে বিভ্রান্ত করার একটি প্রচেষ্টা। জনগণের প্রকৃত চাহিদা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে একটি গতানুগতিক ও ঋণনির্ভর বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে।

তারা বলেন, বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, বৈষম্য হ্রাস এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ও সুস্পষ্ট কোনও কর্মপরিকল্পনা নেই। বিপুল সংখ্যক বেকার যুবকের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিবর্তে সরকার আবারও কর বৃদ্ধি ও ঋণনির্ভর অর্থনীতির পথেই হাঁটছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে রাজস্ব আদায়ের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সরকারি ঋণ গ্রহণ বেসরকারি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে বাধাগ্রস্ত করবে।

এবি পার্টির নেতারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে যেভাবে পরিসংখ্যানের শুভঙ্করের ফাঁকির মাধ্যমে অর্থনীতির বাস্তব চিত্র আড়াল করা হতো, বর্তমান বাজেটেও সেই প্রবণতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। অথচ রাজস্ব ও উন্নয়ন ব্যয়ের অপচয় কমানো, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় সংকোচনের কোনও কার্যকর উদ্যোগ বাজেটে দৃশ্যমান নয়।

তারা বলেন, জনগণকে কর্মমুখী ও উৎপাদনশীল করে তুলতে কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে সে ধরনের দূরদর্শী উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট।

তাদের মতে, আকারে বড় হলেও ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট কখনও বাস্তবায়নযোগ্য হতে পারে না। এই বাজেট জনগণের আকাঙ্ক্ষা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং রাষ্ট্রের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি একটি গণবিরোধী বাজেট, যেখানে সাধারণ মানুষের স্বার্থের চেয়ে রাজস্ব আহরণ ও ঋণনির্ভর ব্যয় সম্প্রসারণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্নীতি দমন, ব্যয়সংকোচন এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে বাজেট পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।

/এএইচএস/ইউএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ভ্যাট হার কমানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মিছিল
সরকার ছাড় দিলেও বাজারে কমেনি নিত্যপণ্যের দাম
নতুন অর্থবছরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কতটা বাড়বে? 
সর্বশেষ খবর
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন গোয়েন্দা প্রধান জে ক্লেটন
ভারতে পালাতে গিয়ে যেভাবে গ্রেফতার হলো ডেভিড ইমন
কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি আসকের
চীনা ট্যাংকারের নিরাপত্তায় হুথিদের সঙ্গে আলোচনায় বেইজিং
সর্বাধিক পঠিত
২৩ বছর ধরে বন্ধ কারখানা এখন রফতানিমুখী, চাকরি পেলো ৩৫০০ মানুষ
মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ: তিন খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ
ফেসবুকে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, অবশেষে ধরা পড়লো প্রতারক
নাসীরুদ্দীন-সারজিসের ওপর হামলা কেন, যা বলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার আট প্রকল্প অনুমোদন