যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আজ সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় নৈশভোজে অংশ নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জোটভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। আসলে সেখানে কী নিয়ে আলোচনা হতে পারে, বা এর মাধ্যমে সরকার প্রধান শরিকদের কিসের বার্তা দিতে চান এ নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আগামীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের পাশে চায় দলটি। তাই তাদের সঙ্গে কথা বলতে চান সরকার প্রধান।
তবে এ আয়োজনে অংশ নেবেন না তাদের অন্যতম দুই মিত্র জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) শীর্ষ নেতারা। যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
হঠাৎ কেন এমন আয়োজন?
জোটভুক্ত দলগুলোর নেতারা জানান, গত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পাঁচ মাস পার হলেও নানা কারণে তিনি যুগপতের শরিকদের সঙ্গে বসতে পারেননি। এ নিয়ে অনেকে অভিমান করেছেন। নিজেরা সরকারের আছেন কিনা সে নিয়েও এক ধরনের বিব্রত পরিস্থিতিতে আছেন। তাই রাজনৈতিকভাবেও বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনও কার্যক্রমে নেই। তবে বিএনপি দুর্দিনের সঙ্গী হিসেবে তাদের ধারণ করে পথ চলতে চায় বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় অনেকটা ‘অভিমান’ ভাঙাতেই স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এ আয়োজন বলে দাবি বিএনপির। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানও এমনটি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, মূলত সবক্ষেত্রে মিত্রদের পাশে চান বিএনপির হাইকমান্ড। এর মাধ্যমে সামনের দিকে তাদের সঙ্গে ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শরিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দেখা করেননি। তাই অনেকে মান ভাঙাতে তিনি এ উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারেন। এর মাধ্যমে শরিকদের সঙ্গে সরকার ও বিএনপির দূরত্ব কিছুটা কমবে বলে তার বিশ্বাস। এ বৈঠকের মাধ্যমে সরকার গঠনে শরিকদের বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হবে কী না সে প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনই বলা কঠিন।
বিএনপির যুগপথে কারা আছেন, কারা নেই?
বিএনপির দীর্ঘ দিনের সঙ্গী জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম) ও বাংলাদেশ লেবার পার্টিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নিয়ে বিগত আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিল।
সে হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতাদের মনোনয়ন দিয়ে মূল্যায়নও করে দলটি।
এর মধ্যে নিজ প্রতীক নিয়ে ভোলা থেকে বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকী ও পটুয়াখালী থেকে নির্বাচিত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর।
আর চারটি আসনে নিজেদের খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। সমঝোতার ভিত্তিতে সেসব আসনে নিজেদের প্রার্থী না দিয়ে জোট প্রার্থীকে সমর্থন দেয় বিএনপি। তবে তাদের কেউই জয়লাভ করতে পারেন। অন্যদিকে বিএনপির সমর্থনে হাতুড়ি প্রতীক নিয়ে ঢাকা-১২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
তবে গত নির্বাচনের আগে কেউ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। আবার কিছু দল প্রত্যাশিত আসন না পেয়ে জোট থেকে বেরিয়ে যান। নির্বাচনের আগেই কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি), ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের বাংলাদেশ লেবার পার্টি ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য বিএনপির সঙ্গে সস্পর্ক ছিন্ন করে। এর মধ্যে বাংলাদেশ লেবার পার্টি ও এলডিপি জামায়াতের ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে সক্রিয়। আর নাগরিক ঐক্য আপাতত নিজেরাই একক কার্যক্রম চালাচ্ছে।
কেন নৈশভোজে যাচ্ছে না জমিয়ত ও জেএসডি?
বিগত দিনের রাজপথের মিত্রদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নৈশভোজে অংশগ্রহণ করছেন প্রায় সব দলের শীর্ষ নেতারা। তবে এখন পর্যন্ত দুটি দল যমুনায় যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। তারা বিভিন্ন ‘মান-অভিমান ও অবহেলা’ থেকে যাচ্ছেন না বলে জানান দলগুলোর নেতারা।
জানতে চাইলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সহ-দফতর সম্পাদক ফারহান হাবীব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তারা আমন্ত্রণ পেলেও প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে যাচ্ছেন না।’ তিনি বলেন, ‘অভিমানে দূরে থাকলেও বিএনপির সঙ্গে তাদের পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। কিন্তু নির্বাচনে আসন ছাড় ও সরকারে মূল্যায়ন না পাওয়া এবং অসুস্থ আ স ম আবদুর রবকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কোনও নেতা দেখতে না যাওয়ায় তারা মনোক্ষুণ্ণ। তাই তারা এ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিতে পারছেন না।’
অন্যদিকে বিএনপির অন্যতম শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কোনও প্রতিনিধি যাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এ দাওয়াতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি। তবে দলটির একটি সূত্রের দাবি, সরকারে মূল্যায়ন না পাওয়ায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।









