শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আদালতের প্রক্রিয়ায় তাকে হেফাজতে নেওয়া হতে পারে; এমন পরিস্থিতিতেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো সংকট হবে না বলে মনে করেন দলটির সভাপতি। দলের গঠনতন্ত্রে নেতৃত্বের উত্তরাধিকার ও দায়িত্ব পালনের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে দলের জ্যেষ্ঠতম প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম দায়িত্ব পালন করছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
দেশে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নেতৃত্ব শেখ হাসিনার অবর্তমানে কার হাতে থাকবে এবং তার বোন শেখ রেহানা রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে দলের নেতৃত্বে আসবেন কিনা, সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্ন ওঠে। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তার বোন শেখ রেহানা কখনও সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ১৯৭৫ সালে বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের হারানোর পর তিনি নিজের জীবন নিজের মতো করে গড়ে নিয়েছেন, চাকরি করেছেন এবং এখন পেনশন পান।
এরপর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের প্রশ্নে শেখ হাসিনা দলের গঠনতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের একটি নির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়ম রয়েছে। দলের সভাপতি অনুপস্থিত থাকলে ভাইস প্রেসিডেন্ট বা প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্য থেকে যিনি দায়িত্ব পালনের জন্য থাকবেন, তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। সিনিয়রিটির ভিত্তিতেও দায়িত্ব নির্ধারিত হয় এবং প্রয়োজন হলে সবাই সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে নির্বাচন করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দলের একটা গঠনতন্ত্র আছে। দলের কাউন্সিলে নেতা ও প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন এবং গঠনতন্ত্রেই কার অনুপস্থিতিতে কে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারিত রয়েছে।
তার ভাষায়, ‘যখনই যিনি অ্যাবসেন্টে যে থাকবে সিনিয়র মোস্ট থাকে বা সকলে সম্মিলিতভাবে যাকে দেবে, উনি দায়িত্ব পালন করবে।’
বর্তমানে দলের জ্যেষ্ঠতম প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে শেখ ফজলুল করিম সেলিম দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, ‘এখনও সেই আছে, এখন সিনিয়র মোস্ট উনি করছেন। আমাদের কিন্তু একটা সিস্টেম আছে। এখানে আমাকে আবার ঘটা করে বলতে হবে, দিতে হবে—তার কিন্তু প্রয়োজন হয় না।’
দ্য ওয়ালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার পর বাংলাদেশে যারা দলের দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের একে একে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহজাহান খান, ফারুক খান, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও কামরুল ইসলাম দায়িত্ব পালনের উদ্যোগ নেওয়ার পর গ্রেফতার হয়েছেন। এ ছাড়া দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও রমেশ চন্দ্র সেন মারা গেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এসবের মধ্যেও দলের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কিন্তু একটা নিয়ম চলমান আছে, এখানে কারও কিছু করতে হবে না।’
আওয়ামী লীগকে একটি দীর্ঘদিনের শৃঙ্খলাবদ্ধ দল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দলটির সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই নেতৃত্বের দায়িত্ব নির্ধারিত হয়। তিনি বলেন, যেমন সাধারণ সম্পাদক অনুপস্থিত থাকলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করবেন। তারও অনুপস্থিতিতে পরবর্তী দায়িত্বশীল ব্যক্তি দায়িত্ব নেবেন।
শেখ হাসিনার ভাষায়, ‘একজনকে পালন করতেই হবে। এটা আমাদের একটা ধারা আলাদা লেখাই আছে, সেখানে কখন কার বর্তমানে কে করবে।...কোনও অসুবিধা নাই, কোনও অসুবিধা হবে না।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।









