রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার অ্যাডভাইস কেউ কাউকে দিতে পারে না: গয়েশ্বর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৭ নভেম্বর ২০২১, ১৫:৩২আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১৫:৩৩

খালেদা জিয়াকে আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পরামর্শ প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যারা নিজেরা অপরাধী, যারা বৈধ নয়, যারা আইনসিদ্ধ নয়‑তারা আইনের কথা কেন বলে? আইনমন্ত্রী কি জানেন না-একটা মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া যায় না। আর রাষ্ট্রপতির কাছে কে ক্ষমা চাইবে না চাইবে তার অ্যাডভাইস অন্য কেউ এসে কাউকে দিতে পারে না। এইটা তার একান্ত ব্যাপার।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আন্দোলনে, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনে খালেদা জিয়ার যতটুকু অবদান রয়েছে, বর্তমানে আমরা যারা জীবিত আছি কে দাবি করবে- জাতির জন্য আমি খালেদা জিয়ার থেকে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছি?

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, খালেদা জিয়া আপসহীন, তিনি লড়তে জানেন, মরতে জানেন, তিনি ভাঙতে পারেন না। তিনি কখনও আপস করেন নাই। উনি কখনও মাথানত করেন নাই। আর মাথানত করার জন্য খালেদা জিয়ার জন্ম হয় নাই।

তিনি বলেন, আমাদের মহাসচিব বলেছেন খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জন করা হয়েছে। যখন কথাটা মহাসচিবের মুখ থেকে বের হয়েছে তখন সারাদেশের মানুষ বিশ্বাস করেন ঘটনা সত্য। একটা সুস্থ মানুষ জেলখানায় গেলো, আর হুইল চেয়ারে করে বের হলো।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। খুব কষ্ট লাগে, যার সঙ্গে এত বছর যাবৎ রাজনীতি করছি তার জীবন সংকটাপন্ন অথচ আমরা কার্যকর কোনও ভূমিকা রাখতে পারছি না।

বিএন‌পির এই নেতা বলেন, আমরা একে অপরের অনেক সমালোচনা করতে পারি, তবে ছাত্র আন্দোলন আর শ্রমিক আন্দোলন যদি গড়ে তোলা না হয়- তাহলে আমরা মুক্তি পাবো না। ছাত্র ও শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে ডা. মিলনের হত্যাকারীদের বিচার করতে পারব। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারব। বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হওয়া ছাড়া দেশে কখনও গণতন্ত্র ফিরে আসবে না।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির উত্তরের আহবায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, আমাদের দেশনেত্রীর মুক্তিতে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে আমাদের সবার নামের আগে শহীদ শব্দ যুক্ত হবে তবুও এই সরকারকে সরিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি করে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এসময় তিনি বিএনপির মহাসচিবকে আন্দোলনের ডাক দিতে আহবান জানান।

ফজলুল হক মিলনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন,  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকনসহ নব্বইয়ের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতারা।

/জেডএ/এমএস/
সম্পর্কিত
‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না’
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
থানার ভেতরে আটকে বিএনপি নেতাকে মারলো কারা?
সর্বশেষ খবর
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী