সরকারকে সতর্ক করতে তৃতীয় পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন ভিসানীতি এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (৩১ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে 'সুষ্ঠু নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি ও বাংলাদেশের সংকট' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রথমে ভোটে চুরি-কারচুপির বিষয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে সতর্ক করলো। তারপর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারা সবগুলো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার কথা বললো। এরপরও যখন কিছু হলো না, তখনই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিষয়ে নতুন ভিসানীতি গ্রহণ করেছে।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার যে ভোট চুরি করেছে তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে মার্কিনিদের কাছে। এই সরকারের মনোভাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হাড়ে হাড়ে বুঝতে পেরেছে।
নির্বাচনের আগে সব দলের রাজনৈতিক সংলাপের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আগে দেশে স্বস্তি ফিরে আসতে হবে যেন মানুষ মুক্তভাবে কথা বলতে পারে, চলাফেরা করতে পারে। পদত্যাগ করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে তারপর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের আলোচনা হতে পারে।
গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে তখনই আলোচনা হবে, যখন তারা পদত্যাগ করবে। এর অন্যথা করলে আওয়ামী লীগকেই বেগ পেতে হবে, নিজেরাই নিজেদের বিপদ ডেকে আনবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে জিহাদ ঘোষণা করেছে, তাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর আঘাত হানতে পারে। আজকে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করার কারণে, ছাত্রলীগ বা যুবলীগের সদস্য হওয়ার কারণে অনেক মেধাবী তরুণ হয়তো উচ্চশিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্র যেতে পারবে না।
নুরুল হক নুরের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন— সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মহসিন রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রুহুল আমিন, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া সভায় গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন৷









