ইসলামী ব্যাংক কোনও কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জোরজবরদস্তি করে যাদের কাছ থেকে ব্যাংকটির শেয়ার নেওয়া হয়েছিল, অবিলম্বে তা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে দেওয়া নোটিশের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, শেয়ারহোল্ডাররা কীভাবে মালিকানা পেয়েছেন, সেটি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত। তার দাবি, অতীতে চাপ প্রয়োগ ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে মালিকানা হস্তান্তর করানো হয়েছিল, যার ফলে ব্যাংকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, কোনও নিয়মনীতি, বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষার মাধ্যমে না গিয়ে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের জবাবে তিনি ৭০০ কোটি টাকার ঋণ নির্বাচনি তহবিলে ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মেডেল দেবেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি মানুষের আস্থার জায়গা। ব্যাংকটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট তৈরি হবে। বর্তমানে গ্রাহকদের বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলনের ঘটনাও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক বা পূর্বধারণার বাইরে গিয়ে বাস্তবতার ভিত্তিতে ব্যাংকটি রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।









