রাজাকার তালিকা প্রত্যাহার করে প্রধানমন্ত্রী জাতিকে মুক্তি দিয়েছেন: জিএম কাদের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৪০, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১১, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯

জিএম কাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নেতাকর্মীরাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজাকারের তালিকা প্রত্যাহার করে দেশ ও জাতিকে বিব্রতকর অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের। তিনি বলেন, ‘রাজাকার তালিকা নিয়ে ১৬ ডিসেম্বর সাংবাদিকরা আমাকে প্রশ্ন করেছিল। তখন বলেছিলাম, তালিকা না দেখে কোনও মতামত দেবো না। তবে সার্বিকভাবে আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। কারণ, এটার বিপক্ষে আমাদের অবস্থান নেই।’

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে এক অনুষ্ঠানে জিএম কাদের এসব কথা বলেন।

লিয়াকত হোসেন খোকা এমপিকে প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি নির্বাচিত করায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্যরা জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান। পরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিস মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি (জেপি) নেতা মিজানুল ইসলাম লিটু ও নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে জেপি’র প্রায় ৩০ নেতাকর্মী জিএম কাদেরের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। এছাড়া, বাংলাদেশ অর্গানিক প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে বেশ কিছু নেতাকর্মী জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

জিএম কাদের বলেন, ‘এই তালিকার (রাজাকারের) তথ্য-উপাত্ত দেখে মনে হলো, প্রথমেই রাজাকার তালিকা গ্রহণযোগ্যতা হারালো। এটা সারা জাতির মধ্যে দ্বিধা এবং কনফিউশন সৃষ্টি করেছে। পুরো জাতিকে একটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম তালিকাটা প্রত্যাহার করলে ভালো হয়। গতকাল (বুধবার) প্রধানমন্ত্রী রাজাকার তালিকা প্রত্যাহার করতে বলেছেন। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। রাজাকার তালিকা প্রত্যাহার করে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জাতিকে বিব্রতকর অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আমরা আশা করবো, এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করার আগে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হবে। রাজাকার তালিকা যেন হয় তথ্যভিত্তিক। কোনও রকম ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত এবং দলগত স্বার্থ বিবেচনায় যেন রাজাকার তালিকা করা না হয়। এই তালিকা যেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ঐতিহাসিক দলিল হয়।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সামনে জাতীয় পার্টির সুদিন অপেক্ষা করছে।’ তিনি বলেন, ‘একটি বিমান যখন উড্ডয়ন করে, সেই মুহূর্তটা বিমান, পাইলট ও যাত্রীদের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনই জাতীয় পার্টির জন্য বর্তমান সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করে জাতীয় পার্টি দেশ ও দেশের মানুষের দায়িত্ব গ্রহণ করতে প্রস্তুত। আর এ কারণেই জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রস্তুত থাকতে হবে রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতেও।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ একবুক প্রত্যাশা নিয়ে জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে। অনেক রাজনৈতিক দলের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা নেই। অনেক দলই নেতৃত্বশূন্যতায় ভূগছে, হতাশা বিরাজ করছে সেই সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মাঝে। এমন বাস্তবতায় বিকল্প শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। দেশবাসীর বিশ্বাস, জাতীয় পার্টিই দেশের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। তাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এখন জাতীয় পার্টিতে যোগদান করছেন।’

তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা ও ঐক্যই একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান শক্তি। তাই নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা আনুগত্য প্রকাশ করে জাতীয় পার্টিকে আরও শক্তিশালী করতে আহ্বান জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সুনীল শুভ রায়, এস.এম. ফয়সল চিশতী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, উপদেষ্টা মোহাম্মদ নোমান, নুরুল আজহার, ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জহির, জহিরুল আলম রুবেল, যুগ্ম মহাসচিব সুলতান আহমেদ সেলিম, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মুনিম চৌধুরী বাবু, মো. হেলাল উদ্দিন, হুমায়ুন খান, আহাদ চৌধুরী শাহীন, এম.এ. রাজ্জাক খান প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে জাতীয় পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, সদস্য এম.এ. মুনিম চৌধুরী, সাকিব ও ফায়েজুল্লাহ শিপন।

/এসটিএস/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ