মঞ্চে ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদক, দর্শকসারিতে কেন্দ্রীয় নেতারা

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ১৫:২০, জানুয়ারি ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩২, জানুয়ারি ২৮, ২০২০

দর্শকসারিতে বসা কেন্দ্রীয় নেতারা জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। এসময় মঞ্চে বসার চেয়ার না পেয়ে দর্শকসারিতে গিয়ে বসেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের সঙ্গে ছিলেন ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারাও। অথচ মঞ্চে বসেছিলেন ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। তাদের এমন আচরণে বিএনপি নেতারা হতবাক ও  ক্ষুব্ধ হন।

বিএনপির নেতারা বলছেন, মঞ্চে জায়গা না পেয়ে দর্শকসারিতে বসতে হয়েছে অনেক কেন্দ্রীয় নেতাকে। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদেরকেও মঞ্চে চেয়ার দেওয়া যায়নি। তাদেরও দর্শকসারিতে বসতে হয়েছে। এর বাইরে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদেরও মঞ্চে চেয়ার দেওয়া যায়নি। সেখানে এই দুই তরুণ ছাত্রনেতা কীভাবে মঞ্চে বসে থাকেন। দল ও জোটের সিনিয়র নেতাদের জায়গা ছেড়ে না দিয়ে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের এমন আচরণে তাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অনেকের মধ্যে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক সিনিয়র বলেন, ‘ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ায় ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদক দু’জনের মধ্যে আত্মঅহংকার দেখা দিয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন, তাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ কয়েকজন নেতা ছাড়া কাউকেই তারা তেমন সম্মান করেন না।’  

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের বড় নেতা মনে করেন। তারা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি এই সংগঠনের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে কোথাও দেখলে পাশ কাটিয়ে চলে যান। সালাম দেওয়ার সৌজন্যতাও বোধ করেন না । এরই প্রমাণ আজ দেখা গেলো।’

ইশতেহার ঘোষণা করছেন ইশরাকইশরাকের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম। তিনি আমন্ত্রিত অতিথিদের মঞ্চে বসার জায়গা দিতে না পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি মঞ্চে কোন কোন নেতা বসবেন, তাদের নাম উল্লেখ করে অন্যদের নেমে যেতে বলেন। এদের মধ্যে খোকন ও শ্যামলের নাম ছিল না।  

সরেজমিনে দেখা যায়,  ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদক মঞ্চে বসার কারণ সম্পর্কে  কয়েকজন নেতাকর্মীরা জানতে চান সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসে থাকা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্সের কাছে। তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে জানি না।’। তিনি দেখিয়ে দেন আরেক সিনিয়র নেতা আব্দুস সালামকে। তখন নেতাকর্মীরা আব্দুস সালাম কাছে গিয়ে ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদক মঞ্চে কেন সে বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। আব্দুস সালাম মঞ্চে বসা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছে বিষয়টি জানান। টুকুকে বলতে শোনা যায়,  ‘খোকন এবং শ্যামলকে কে মঞ্চে বসতে বলেছেন তা আমি জানি না।’

ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে মঞ্চের প্রথম সারিতে বসা ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, জেএসডির আসম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া ও মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। দ্বিতীয় সারিতে বসা ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সহ-সভাপতি নবী উল্লাহ নবী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল।  

অন্যদিকে দর্শকসারিতে বসা ছিলেন— বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ নেতারা।   

 

/এসটি/এপিএইচ/

লাইভ

টপ