বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতিশীল: কাদের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৪১, মে ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫১, মে ১২, ২০২০

 

ওবায়দুল কাদের (ফাইল ফটো)বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতিশীল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ স্পষ্টত বাড়ছে।’ গার্মেন্ট শিল্প, বাণিজ্যকেন্দ্রসহ চালু করা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশ্বের ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার বিস্তার ঘটেছে। এর মাঝে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৪তম। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তানসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অবস্থান ভালো হলেও পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতিশীল। ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে বলেই স্পষ্টত প্রতীয়মান হচ্ছে। এ রোগের সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই কার্যকর পন্থা। এমন সংকটে আমাদের সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কোনও বিকল্প নেই। অথচ আমরা লক্ষ করছি, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ ছুটি কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিথিল করার পর বাণিজ্যকেন্দ্র, ফেরিঘাট, তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য কারখানা এবং সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব ও শারীরিক দূরত্ব কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান উপেক্ষিত হচ্ছে।’

সবাইকে সতর্ক করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, সামান্য উপেক্ষা বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই এখন থেকে সতর্ক থাকার জন্য আমি আবারও সবাইকে অনুরোধ করছি। করোনার সঙ্গে বসবাসের অভ্যাস রপ্ত করতে হবে আমাদের সবাইকে।’

করোনাভাইরাস থেকে প্রতিকারে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত জনগণকে সচেতন থাকতে এবং সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি চিকিৎসাসহ সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে মনিটর করছেন। আমরাও আমাদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সক্ষমতা অর্জন করছি। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করছি। আপনাদের সাহস ও মনোবল রাখতে হবে। শেখ হাসিনার সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। শেখ হাসিনার সৎ ও সাহসী নেতৃত্বে আমরা ইনশাআল্লাহ ঘুরে দাঁড়াবো।’

মার্কেটে না গিয়ে অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, ‘শপিং মলে যারা সরাসরি কেনাকাটা করছেন, সেখানে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় অনেকে অনলাইনে শপিং করছেন। অনলাইনে কেনাকাটার বিষয়টি আজকাল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অত্যাবশ্যকীয় না হলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে অনলাইনে কেনাকাটা করার আহ্বান জানাচ্ছি। এতে সংক্রমণ ঝুঁকি কমে যাবে।’

অন্যান্য সাধারণ রোগীদের সেবার জন্য বেসরকারি ক্লিনিক ও চেম্বার খোলা রাখার আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা, বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা পরিস্থিতির কারণে সীমিত হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ তথা রোগীরা অন্যান্য রোগের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে পথের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। সম্প্রতি একজন অতিরিক্ত সচিবসহ আরও কয়েকটি ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে। এজন্য আমি স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করে প্রতিদিন কিছু সময় প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার জন্য চিকিৎসকদের অনুরোধ জানাচ্ছি। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করে অন্যান্য রোগীর সেবা চালুর অনুরোধ জানাচ্ছি।’

তিনি যেসব চিকিৎসক-নার্স ও টেকনোলজিস্ট করোনা যুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে কাজ করছেন, তাদের পাশাপাশি যারা প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখছেন এবং যেসব হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রেখেছে, তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

/ইএইচএস/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ