বাজেটে লুটপাট ও দুর্নীতির আয়োজন বহাল আছে: জোনায়েদ সাকি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৫২, জুন ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫২, জুন ১৩, ২০২০

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন জোনায়েদ সাকিপ্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে লুটপাট ও দুর্নীতির আয়োজন বহাল আছে বলে অভিযোগ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘এই বাজেটে দুর্যোগ মোকাবিলার কোনও পথনির্দেশনা নেই। এই বাজেট নিয়ে জনগণ হতাশ, ক্ষুব্ধ।’

শনিবার (১৩ জুন) বাজেট-প্রতিক্রিয়া জানাতে দলের হাতিরপুল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি এসব কথা বলেন। অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল।

সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি অভিযোগ করেন, ‘জনগণের প্রতি সরকারে কোনও অঙ্গীকার নেই। সরকারের লক্ষ্য কিছু গোষ্ঠীর প্রতি। দুনীতিকে আরও অবারিত করার পুরো ব্যবস্থা বহাল আছে এই বাজেটে। জনসেবার খাতগুলো পুরোপুরি আমলাতন্ত্র নির্ভর, জনগণের সেবার প্রতি ন্যূনতম মনোযোগ নেই।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধানের দাবি, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবর্তনের কোনও দিকনির্দেশনা নেই।’

তিনি বলেন, ‘সরকার আসলে এই মহাদুর্যোগ ও সংকটে নিপতিত জনগণের জীবনের কল্যাণের বিষয় ভাবারই সামর্থ্য রাখে না। সারা দুনিয়ায় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মন্দামুখী। বাংলাদেশেও বিনিয়োগ ও ভোগ নিম্নমুখী, রফতানি কমছে, রেমিট্যান্স প্রবাহও কমে যাবে। সেক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি ব্যয় বাড়াতে হবে।’

সাকি মনে করেন, ‘প্রয়োজনে এই বাজেটের আকার বাড়ানো যেতে পারতো। অন্ততপক্ষে এই মাহামারীর ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর জন্য বাজেটে যে গুরুত্ব দেওয়ার দরকার ছিল তার কোন নমুনা ঘোষিত বাজেটে দেখা গেল না।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাত মুখ থুবড়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি চিকিৎসা নির্ভর, জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য তেমন কোনও অগ্রাধিকার নেই। পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। এই করোনা কালেও চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। এইসবের প্রতিকারের কোনও নীতি ও পরিকল্পনা ও নির্দেশনা বাজেটে নেই।’

অবিলম্বে এই বাজেট পুনর্বিন্যস্ত করে জন দাবি পূরণ করার আহ্বান জানিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতকে কার্যকর না করতে পারলে সরকারের উচিত হবে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া।’

গণসংহতি আন্দোলনের দাবি, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কমপক্ষে বাজেটের ২০ ভাগ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নীতি বদলাতে হবে।

অনলাইনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, হাসান মারুফ রুমী, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য জুলহাসনাইন বাবু।

 

 

 

/এসটিএস/এফএস/

লাইভ

টপ