ওয়ালটন শেয়ারের আইপিও অনুমোদন

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৫০, জুন ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:২৩, জুন ২৬, ২০২০

দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের ব্র্যান্ড ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন দিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের ৭২৯তম নিয়মিত সভায় ওয়ালটন শেয়ারের কাট-অব প্রাইস ৩১৫ টাকায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ইপিএস নিয়ে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে ওয়ালটন। গত ২৩ জুন বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, ওয়ালটনের শেয়ার প্রতি মুনাফা বা ইপিএস ইপিএস ৪৫ টাকা ৮৭ পয়সা। নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি ২৪৩ টাকা ১৬ পয়সা। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সবশেষ প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ অর্থবছরের ইপিএসের বিবেচনায় ওয়ালটন অষ্টম স্থানে রয়েছে।
এনএভি’র বিবেচনায় তালিকাভুক্ত দেশি-বিদেশি ৩৫৮টি প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে শীর্ষ পাঁচে আছে ওয়ালটন। এছাড়া প্লেসমেন্ট বিতর্ক ছাড়াই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে ওয়ালটন।

ওয়ালটনের কোম্পানি সচিব পার্থ প্রতীম দাশ জানান, এখন নিয়ম অনুযায়ী আইপিও প্রসপেক্টাস প্রকাশের পাশাপাশি আইপিও সাবস্ক্রিপশন ও লটারি অনুষ্ঠিত হবে। লটারিতে বিজয়ী আবেদনকারীদের মধ্যে শেয়ার বন্টন করা হবে এবং শেয়ার বিনিয়োগকারীদের হিসাবে জমা করবে সিডিবিএল। এরপর স্টক এক্সচেঞ্জে ওয়ালটনকে তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি শেয়ার লেনদেন শুরুর দিন নির্ধারণ করবে বিএসইসি।

ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিমের কথায়, এতদিন ওয়ালটন একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ছিল। এখন দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও মালিকানায় যুক্ত হবেন। তার প্রত্যাশা, ওয়ালটনে বিনিয়োগ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন এবং ওয়ালটনের অন্তর্ভুক্তি দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা সৃষ্টি করবে।

দেশের পুঁজিবাজারে সর্বপ্রথম ডাচ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত নিলাম বা বিডিং প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্য বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে ওয়ালটন শেয়ারের কাট-অব প্রাইস ৩১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এই দরে ওয়ালটনের শেয়ার কিনবেন বিডিংয়ে অংশ নেওয়া যোগ্য বিনিয়োগকারীরা। নিয়ম অনুযায়ী, আইপিও’তে কাট-অব প্রাইসের ১০ শতাংশ কমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার ইস্যুর বিধান রয়েছে। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও দেশের পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আরও ১০ শতাংশ ছাড় দিয়েছে ওয়ালটন। ফলে কাট-অব প্রাইসের ২০ শতাংশ কমে প্রতিটি শেয়ার ২৫২ টাকায় ইস্যু করবে ওয়ালটন।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিও’র মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকার তহবিল উত্তোলন করবে ওয়ালটন হাই-টেক। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৬০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৫ টাকা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৩৯ কোটি ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৯৫ টাকা আসবে। সংগৃহীত তহবিল থেকে ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যবসা সম্প্রসারণে, ৩৩ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ ও ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা দিয়ে আইপিও পরিচালনা বাবদ ব্যয় করা হবে। ওয়ালটন হাই-টেকের ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছে এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

ইপিএস বিবেচনায় তালিকাভুক্তির শুরুতে আইপিও বিনিয়োগকারীরা ওয়ালটনের শেয়ার দর তুলনামূলক কমে পাবেন। প্লেসমেন্ট বিতর্ক থেকেও দূরে রয়েছে ওয়ালটন। সেজন্য পরিশোধিত মূলধন বাবদ ওয়ালটনের উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে থাকা ৩০০ কোটি টাকার শেয়ারের পুরোটাই তিন বছরের জন্য লক-ইন করা থাকবে। অর্থাৎ বাজারে ওয়ালটন শেয়ারের লেনদেন শুরুর তিন বছরের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকরা তাদের কাছে থাকা শেয়ার বিক্রি করবেন না।

প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ওয়ালটনের ৫ হাজার ৪৮৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার স্থায়ী সম্পদ রয়েছে। তবে সমস্ত দায় দেনা শেষে অস্থায়ীসহ নিট ৭ হাজার ২৯৭ কোটি ৮০ লাখ ৬৭ হাজার ৩৬৮ টাকার সম্পদ রয়েছে। এ হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি ২৪৩ টাকা ১৬ পয়সার নিট সম্পদ (এনএভিপিএস) রয়েছে।

ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ ২০০৬ সালের ১৭ এপ্রিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠে। ২০০৮ সালে এর ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৮ সালের ১৪ মে পাবলিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর হয় এটি। রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এয়ার কন্ডিশনার ও কম্প্রেসার উৎপাদন দিয়ে যাত্রা শুরু করা ওয়ালটন এখন টেলিভিশনসহ ইলেক্ট্রিক্যাল জিনিসপত্র তৈরি করে। মূলত ওয়ালটন ও মার্সেল ব্র্যান্ডের পণ্য বাজারজাত করে প্রতিষ্ঠানটি।

/জেএইচ/
টপ