X
বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২
৩ ভাদ্র ১৪২৯

দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে ম্যাচের সঙ্গে সিরিজও গেলো বাংলাদেশের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৭ মে ২০২২, ১৪:১৪আপডেট : ২৭ মে ২০২২, ১৪:৩৯

প্রথম ইনিংসে টপ অর্ডারের লজ্জা ঢাকা পড়েছিল ‍মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে। দ্বিতীয় ইনিংসেও মুমিনুল হক-তামিম ইকবালদের ব্যর্থতা ‘আড়ালে’ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন সাকিব আল হাসান ও লিটন। তবে শেষরক্ষা হয়নি। শ্রীলঙ্কাকে টার্গেট দেওয়া গেছে, তবে সেটা কেবলই সংখ্যা মাত্র! ২৯ রানের লক্ষ্য পেরোতে লঙ্কানদের বেগও পেতে হয়নি। ১০ উইকেটে বাংলাদেশকে উড়িয়ে শুধু ঢাকা টেস্ট নয়, দুই ম্যাচের সিরিজও সফরকারীরা জিতে নিয়েছে ১-০ ব্যবধানে।

আজ (শুক্রবার) ছিল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ঢাকা টেস্টের শেষ দিনের খেলা। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সকালের সেশনে যেভাবে প্রতিরোধ গড়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সাকিব-লিটন, তাতে মনে হচ্ছিল, বড় লিডই হয়তো পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু লাঞ্চ থেকে ঘুরে এসে ৯ ওভারে বাকি সব উইকেট হারিয়ে বসলে মাত্র ২৯ রানের লক্ষ্য দিতে পারে শ্রীলঙ্কাকে। দুই ওপেনার ওশাডা ফার্নান্ডো (২১*) ও অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে (৭*) মাত্র ৩ ওভারেই জয় নিশ্চিত করেন দ্বীপ দেশটির।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হওয়ার আগে ৫৫.৩ ওভারে করে ১৬৯ রান। এর আগে প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের ৩৬৫ রানের জবাবে ৫০৬ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশ দলের যা ক্ষতি হওয়ার চতুর্থ দিন বিকালেই হয়েছিল। ২৩ রানে হারিয়েছিল ৪ উইকেট। ওই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজেছিল মুশফিক ও লিটনের ব্যাটে। আগের দিন ঠিকঠাক ভাবে শেষ করলেও আজ শেষ দিনের শুরুতেই বিদায়ে নেন মুশফিক। তাতে চাপ আরও বাড়ে। তবে সাকিব ও লিটন মিলে আবার আশা দেখাতে থাকেন। তাদের ব্যাটে বড় সংগ্রহের আভাস মেলে। সকালের সেশনের প্রায় পুরোটাই তারা পার করে দেন। কিন্তু লাঞ্চে গিয়েই সব এলোমেলো। তাদের বিদায়ের পর কিছুই করতে পারেননি মোসাদ্দেক হোসেন (৯), তাইজুল ইসলাম (১) ও খালেদ আহমেদ (০)।

কঠিন বিপদে হাল ধরেছিলেন দলের। অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে লজ্জার হাত থেকে বাংলাদেশকে বাঁচানোর সঙ্গে বড় সংগ্রহ গড়তে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মুশফিক। দ্বিতীয় ইনিংসে যখন আবারও দলের একই অবস্থা, তখন তার ওপর প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে এবার আর পারলেন না মুশফিক। পঞ্চম দিনের শুরুতেই আউট হয়ে যান তিনি।

প্রথম ইনিংসে ২৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে প্রতিরোধ শুরু করেছিলেন মুশফিক। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে সত্যিকার টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করে দলকে নিয়ে যান সম্মানজনক জায়গায়। আর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে খেলেন চোখ জুড়ানো এক ইনিংস। শ্রীলঙ্কা তাকে আউটই করতে পারেনি। খেলেন হার না মানা ১৭৫ রানের ঝলমলে ইনিংস। সেই মুশফিকের হাত ধরে বাংলাদেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে, এই প্রত্যাশা থাকাই স্বাভাবিক। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। শেষ দিনের সকালে কাসুন রাজিথার বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেছেন প্যাভিলিয়নে। যাওয়ার আগে মুশফিক ৩৯ বলে ৪ বাউন্ডারিতে করেন ২৩ রান।

সকাল সকাল মুশফিকের বিদায়ে শঙ্কার মেঘ আরও জমাট বাঁধে। তবে সাকিব ও লিটনের দৃঢ়তায় ক্রমশই আলোতে ফিরতে থাকে বাংলাদেশ। আগের দিন ৪ উইকেট হারিয়ে এমনিতেই কোণঠাসা ছিল, এর ওপর শেষ দিনে দ্রুত আরেকটি উইকেট হারিয়ে বসলে চাপ আরও বাড়ে। তবে ক্রিজে এসেই জাদু দেখাতে থাকেন সাকিব। ব্যাট হাতে তিনি চড়াও হয়ে ওঠেন শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর। খেলতে থাকেন ওয়ানডে মেজাজে। অন্যপ্রান্তে লিটন তখন ধরে খেলার মানসিকতায়। তাদের জুটিতে লাঞ্চ বিরতির আগে আসে ৯৬ রান। প্রথম সেশনে হাফসেঞ্চুরিও তুলে নেন সাকিব। সকালের সেশনের শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৭তম হাফসেঞ্চুরির দেখা পান তিনি। ৬১ বলে মাইলফলকটিতে পৌঁছাতে তিনি মারেন ৭ বাউন্ডারি।

কিন্তু দ্বিতীয় সেশনেই উল্টো চিত্র। উইকেট হারানোর মিছিল শুরু লিটনের বিদায়ে। লাঞ্চ থেকে ফিরেই আউট এই ব্যাটার। বোলার অসিথা ফার্নান্ডোকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরেন প্যাভিলিয়নে। যাওয়ার আগে অবশ্য করে করেছেন হাফসেঞ্চুরি।

প্রচণ্ড চাপের মধ্যে অসাধারণ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তিনি প্রথম ইনিংসে। দ্বিতীয় ইনিংসে একই পরিস্থিতিতে আবারও দাঁড়িয়ে যান লিটন। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আরেকটি স্মরণীয় ইনিংসের ইঙ্গিত ছিল তার ব্যাটে। কিন্তু লাঞ্চ বিরতির পর খেই হারালেন। দ্বিতীয় সেশনের দ্বিতীয় ওভারেই আউট তিনি। অসিথাকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ৫২ রানে বিদায় নেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।

বিরতিই আসলে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে! কেননা প্রথম সেশন শেষে যে দৃশ্যপট ছিল বাংলাদেশ দলের, দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে তা পুরোপুরি পাল্টে যায়। যে সাকিব ও লিটন কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিলেন শ্রীলঙ্কার বোলারদের, সেই তারা লাঞ্চের পরপরই আউট। লিটন বিদায় নেওয়ার কিছুক্ষণ পর অপ্রয়োজনীয় শট খেলে সাজঘরে ফিরে যান সাকিব।

শুরু থেকে আগ্রাসী ছিলেন তিনি। লঙ্কান বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলে গেছেন। তবে দ্বিতীয় সেশনে সেটিই কাল হলো। অসিথা ফার্নান্ডোর শর্ট বল পুল করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগে তার। বল উঠে গেলে সহজ ক্যাচ নেন উইকেটকিপার নিরোশান ডিকবেলা। তাতে ৫৮ রানে শেষ হয় সাকিবের ইনিংস।

এরপর আর কেউ দাঁড়াতে পারেনি। দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। স্বাগতিকদের ধসিয়ে দিতে সামনে থেকে নেতৃ্ত্ব দিয়েছেন অসিথা ফার্নান্ডো। এই পেসার ৫১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট। ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। আর সিরিজসেরা হয়েছেন ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সময় কাটানো অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ।

/কেআর/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
দুই প্রতিষ্ঠানের টানাহেঁচড়া, পান্থকুঞ্জ এখন অপরাধের স্বর্গরাজ্য
দুই প্রতিষ্ঠানের টানাহেঁচড়া, পান্থকুঞ্জ এখন অপরাধের স্বর্গরাজ্য
দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী
দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী
জন্মাষ্টমী আজ
জন্মাষ্টমী আজ
কাবুলে নামাজের সময় মসজিদে হামলা, ইমামসহ একাধিক নিহত
কাবুলে নামাজের সময় মসজিদে হামলা, ইমামসহ একাধিক নিহত
এ বিভাগের সর্বশেষ
মিরপুরে লঙ্কা-জুজু কাটলো না
মিরপুরে লঙ্কা-জুজু কাটলো না
সাকিবের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ
সাকিবের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ
সাকিব-লিটনের দৃঢ়তায় বাংলাদেশের লিড
সাকিব-লিটনের দৃঢ়তায় বাংলাদেশের লিড
লজ্জার ব্যাটিংয়ে শঙ্কার মেঘ
লজ্জার ব্যাটিংয়ে শঙ্কার মেঘ
৫০৬ রান করে শ্রীলঙ্কার লিড ১৪১
৫০৬ রান করে শ্রীলঙ্কার লিড ১৪১