X
বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪
৪ বৈশাখ ১৪৩১

ঘরোয়া-আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিস্তর পার্থক্যেই কি ভরাডুবি?

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০২ এপ্রিল ২০২৪, ২০:৪৫আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ২০:৫২

ঘরোয়া ক্রিকেটের মান নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট লিগ। চারদিনের এই টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা জাতীয় দলে কাজে লাগানোর সুযোগ খুব বেশি নেই। কেননা টেস্ট প্রাপ্তির ২৪ বছরেও ঘরোয়া এই ক্রিকেটের কোনও কাঠামো দাঁড় করাতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একেতো জাতীয় লিগ কিংবা বিসিএলে থেকে শেখার কিছু নেই, তার মধ্যে দীর্ঘদিন পর পর টেস্ট খেলতে নেমে কঠিন পরীক্ষার সামনে পড়তে হচ্ছে ক্রিকেটারদের। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের উন্নতি কীভাবে সম্ভব, প্রশ্ন উঠছেই। চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে মুমিনুল ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোকেই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে আনলেন।

সিলেটে প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসেই বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে। চট্টগ্রাম টেস্টেও একই পরণতি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৭৮ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও কোণঠাসা অবস্থা। চতুর্থ দিন শেষে ২৬৮ রান তুলতেই ৭ উইকেট গেছে। বুধবার পঞ্চম দিনে হাতে ৩ উইকেট নিয়ে লড়াইয়ে নামবে। জয় থেকে ২৪৩ রান দূরে আছে স্বাগতিকরা। এই অবস্থায় জিততে গেলে অসাধ্যকে সাধন করতে হবে। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে ব্যাটিং ব্যর্থতার ফিরিস্তি শুনিয়ে গেছেন মুমিনুল হক।

আন্তর্জাতিক ব্যস্ত সূচির কারণে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ঘরোয়া ক্রিকেটে লংগার ভার্সন ক্রিকেটে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয় না। খেলা হলেও মানের দিক থেকে অনেক পেছনে বাংলাদেশের লংগার ভার্সন এই দুটি টুর্নামেন্ট। ফলে টেস্ট খেলতে নেমে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় ক্রিকেটারদের। শুধু এটাই নয়, লম্বা সময় পর পর টেস্ট ম্যাচ হয় বলেই এক ফরম্যাট থেকে আরেক ফরম্যাটে মুভ করতে গিয়ে ব্যাটাররা ব্যাটপ্যাচেও পড়ে যান।

ঘরোয়া ক্রিকেটে সেই অর্থে কঠিন কোন বোলারকে মোকাবেলা করতে হয় না। ফলে কঠিন পরীক্ষা পুরোটাই দিতে হয় জাতীয় দলে এসে। নিয়মিত জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটারদের জন্য কাজটা সহজ হলেও তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য মানিয়ে নেওয়াটা খুব কঠিন। সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল জানালেন সেই কথাই, ‘আমাদের ফার্স্ট ক্লাস ও ইন্টারন্যাশন্যাল খেলার কতটুকু মান? একই লেভেলের আছে কি না। আমি চর্চার ভেতরে থাকি আমার জন্য একটা জুনিয়র প্লেয়ারের ভেতর অনেক তফাত আছে। আমি আজকেসহ ৬১টা টেস্ট ম্যাচ খেলছি। টেস্ট ম্যাচ খেলার পর আমি সিচুয়েশন বুঝি কীভাবে হ্যান্ডেল করতে হয়। কোন সময় পারি, কোন সময় পারি না। কিন্তু শুনতেও খারাপ লাগবে, আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট আর ইন্টারন্যাশন্যাল টেস্ট ম্যাচ খেলা অনেক কঠিন।’

শুধু এটাই মূল কারণ নয়, ব্যাটারদের ব্যাটিং ব্যর্থতার। মুমিনুলসহ টেস্ট দলের বেশ কিছু ক্রিকেটারকে কেবল টেস্ট ম্যাচই খেলতে হয়। এই কারণে লাল বলের ক্রিকেটে লম্বা সময় পর মাঠে ফিরে খেই হারিয়ে ফেলেন ব্যাটাররা। কেউ কেউ আবার সাদা বল থেকে লাল বলে ফিরেছে। এই কারণে কঠিন প্রতিপক্ষ কিংবা শক্ত কোন বোলারের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের লড়াই করাটা বেশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে। মুমিনুল বলেছেন, ‘অনেকদিন পরে টেস্ট খেলতে নামা, হতে পারে আপনার কাছে এটা একটা অজুহাত। কিন্তু দিনশেষে এটা কাউন্ট হতে পারে। আবার আমি যদি বলি অনেকদিন পর তাহলে আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, আপনার তো প্রব্লেম হয় নাই। আমার প্রব্লেম হয় নাই কিন্তু যারা খেলছে তারা ম্যাক্সিমাম সাদা বলে খেলে আসছে। মানে এটা বাস্তব। জিনিসটা নেগেটিভ ওয়েতে হলে সত্য। আমার কাছে মনে হয় এইসব প্রভাব ফেলেছে।’

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আগের দুই আসরেও বাংলাদেশ ভলো করেনি। তৃতীয় আসরে জয় দিয়ে শুরু করেছিল। কিন্তু শেষ দুটি ম্যাচ হেরে বাংলাদেশের অবস্থান এখন সাত নম্বরে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, অথচ প্রস্ততির ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। সাধারণ এক ফরম্যাট থেকে আরেক ফরম্যাটে সুইচ করার সময় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ দল সীমিত ওভারের সিরিজ শেষ করে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেনি। মুমিনুলের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল কিনা, ‘না আমার কাছে মনে হয় যে কোনওভাবে প্রস্ততি কম ছিল না। ঠিক আছে তো সাদা বলে তো সবাই খেলছে। সবাই যার যার মতো খেলেছে।’

অবশ্য নিজেদের ব্যর্থতার কোন অজুহাত দিতে চান না অভিজ্ঞ এই ব্যাটার, ‘আমরা ব্যাটিং ওয়াইজ পুরো কল্যাপ্স করছি। এটার কোনও অজুহাত নেই। আসলে আমরা ব্যাটিংয়ে খুব বাজে করেছি।’

তবে প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। চা বিরতির আগের ওভার পর্যন্ত ভালোই খেলছিল। ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান তুলেও ফেলেছিল। হাফ সেঞ্চুরি করে মুমিনুল আউট হওয়ার পর লিটন ও সাকিব মিলে ৬১ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু মুমিনুলের মতো সাকিব-লিটনও ভুল শটে আউট হয়েছেন। দিনশেষে নিজেদের অবস্থানের কথা জানাতে গিয়ে মুমিনুল বলেছেন, ‘আমার কাছে মন হয় যদি চার উইকেটেও এই রানটা করতে পারতাম তাহলে হয়তো কালকে জিনিসটা আরেকটু ভিন্ন হতো। অথবা, দুই উইকেটে যদি এখন আছে ২৩৮ রান, ২৩০ হতো, তাহলে কিন্তু ওরা আন্ডার প্রেশারে থাকতো। কারণ কালকে সারাদিন থাকলে ওই রানটা আরামে তিন সেশন খেললে খেলাটা চলে আসতো।’

চা বিরতির বাকি এক ওভার। কিন্তু প্রথম বলেই মুমিনুল সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন। পুরো ইনিংসটাতে দারুণ ব্যাটিং করে এভাবে উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার প্রভাবটা পড়েছে পরবর্তীতে। নিজের আউট নিয়ে মুমিনুল বলেছেন, ‘ড্রিংকসের ওভারে আমি আউট হয়েছি ডেফিনিটলি আমার ফল্ট। ওই সময়ে ওই শট খেলা আমার উচিত হয় নাই।’

/আরআই/এফআইআর/
সম্পর্কিত
জোড়া সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে ভুগিয়ে মাস সেরা কামিন্দু
সিরিজ হারে সাতে নেমে গেছে বাংলাদেশ
এমন ব্যর্থতায় ‘অপরাধবোধ’ নেই শান্তর
সর্বশেষ খবর
গলায় কই মাছ আটকে কৃষকের মৃত্যু
গলায় কই মাছ আটকে কৃষকের মৃত্যু
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন: কোন পদে লড়ছেন কে
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন: কোন পদে লড়ছেন কে
মেট্রোরেল চলাচলে আসতে পারে নতুন সূচি
মেট্রোরেল চলাচলে আসতে পারে নতুন সূচি
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহী মামা-ভাগনে নিহত
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহী মামা-ভাগনে নিহত
সর্বাধিক পঠিত
‘ভুয়া ৮ হাজার জনকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে’
‘ভুয়া ৮ হাজার জনকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে’
হজ নিয়ে শঙ্কা, ধর্ম মন্ত্রণালয়কে ‍দুষছে হাব
হজ নিয়ে শঙ্কা, ধর্ম মন্ত্রণালয়কে ‍দুষছে হাব
এএসপি বললেন ‌‘মদ নয়, রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলাম’
রেস্তোরাঁয় ‘মদ না পেয়ে’ হামলার অভিযোগএএসপি বললেন ‌‘মদ নয়, রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলাম’
এবার নায়িকার দেশে ‘রাজকুমার’ 
এবার নায়িকার দেশে ‘রাজকুমার’ 
‘আমি এএসপির বউ, মদ না দিলে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেবো’ বলে হামলা, আহত ৫
‘আমি এএসপির বউ, মদ না দিলে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেবো’ বলে হামলা, আহত ৫