আসন্ন ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে মাঠে ফেরার কথা ছিল নাহিদ রানার। কিন্তু পুরোনো চোটের ভোগান্তিতে সেই পরিকল্পনায় ধাক্কা লেগেছে। কোমরের নিচের অংশে ব্যথা আবারও ভোগাচ্ছে তাকে। ফলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে খেলার সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলতে গিয়ে সাইড স্ট্রেইনে চোট পেয়েছিলেন ডানহাতি পেসার নাহিদ। সেই চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরে যেতে পারেননি তিনি। পুনর্বাসন চলতে থাকায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দলেও জায়গা হয়নি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হোম সিরিজের আগে নাহিদকে প্রস্তুত করে তুলতে ত্রিদেশীয় সিরিজে ফেরানোর পরিকল্পনা ছিল বিসিবির। কিন্তু পুনর্বাসনের শেষ দিকে কোমরের নিচে ব্যথা অনুভব করতে শুরু করেন এই পেসার। যে কারণে ওয়ানডে দলেও তাকে রাখা হয়নি।
এই অবস্থাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও নাহিদকে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, এখনো তাকে ওই সিরিজ থেকে বাদ দেওয়া হয়নি।
রবিবার গণমাধ্যমকে বাশার বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে নাহিদ রানাকে ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলানো। কিন্তু খেলার মতো অবস্থায় না থাকায় সে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে গেছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকে এখনো বাদ পড়েনি। আমরা ধাপে ধাপে এগোচ্ছি।’
রানাকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না বিসিবি। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নাহিদ গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় তার মাঠে ফেরার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করতে রাজি নন নির্বাচকেরা।
বাশার বলেন, ‘অবশ্যই আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার জন্য অপেক্ষা করব। একই সঙ্গে সে আমাদের সম্পদ, তাই তার ফেরার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করতে চাই না। শুধু মাঠে ফেরানোর জন্য আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। আমার মনে হয়, তাকে সবচেয়ে ভালোভাবে ফেরাতে বিসিবি সব ধরনের চেষ্টা করছে।’
ব্যথা ফিরে আসায় নাহিদের আরেকটি স্ক্যান করানোর কথা রয়েছে। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে বিসিবির চিকিৎসা বিভাগ।
প্রাথমিকভাবে কাতারে চিকিৎসা করানোর কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু ভিসাসংক্রান্ত জটিলতায় সেখানে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। বিকল্প হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথাও ভাবা হচ্ছে। তবে সেখানেও একই ধরনের জটিলতা রয়েছে। এই দুই গন্তব্যে যাওয়া সম্ভব না হলে নাহিদকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বিসিবি।
নাহিদের মাঠে ফেরার নির্দিষ্ট সময় জানানো কঠিন বলে স্বীকার করেছেন বাশার। তবে যত দ্রুত সম্ভব তাকে সুস্থ করে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক।
তিনি বলেন, ‘তার স্ক্যান হচ্ছে। সম্ভব হলে যত দ্রুত সম্ভব তাকে বিদেশে পাঠানো হতে পারে। তাকে ফেরাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে কোনো সময়সীমা বলা যাচ্ছে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে সে খেলতেও পারে, এখনো বাদ পড়েনি। আপাতত আমরা এভাবেই এগোচ্ছি।’