বিশ্বকাপের বাকি আর ১৫ দিন। রাশিয়ার ফুটবল মহাযজ্ঞে দলীয় পারফরম্যান্সের দিকে তো বটেই, ফুটবলপ্রেমীরা আলাদা নজর রাখবেন নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়ের ওপরও। যারা প্রতিপক্ষের মনে ভয় ছড়িয়ে পূরণ করবেন নিজ দলের প্রত্যাশা। তেমনই খেলোয়াড়দের নিয়ে আমাদের এই আয়োজন। আজ থাকছে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ইসকোকে নিয়ে-
স্পেনের জার্সিতে:
ম্যাচ: ২৬
গোল: ১০
জিনেদিন জিদানের রাডারে ওঠা-নামা করেন তিনি। কখনও শুরুর একাদশে, কখনও বেঞ্চে- রিয়াল মাদ্রিদে জায়াগা এখনও পাকাপোক্ত করে উঠতে পারেননি ইসকো। পারফরম্যান্সের গ্রাফে হেরফের হওয়াই সম্ভবত এর মূল কারণ।
তবে সেজন্য জিদানের ফরমেশনকে দায়ী করতেই পারেন ইসকো। ‘স্বাধীনভাবে’ খেলতে না পারায় নিজের সেরাটা যে সবসময় তার দেওয়া হচ্ছে না, সেটা সরাসরি না বললেও ইঙ্গিতে বুঝিয়েছেন অনেকবার। তা না হলে এই ইসকোই জাতীয় দলের জার্সিতে এমন ধারাবাহিক হন কীভাবে!
হ্যাঁ, স্পেন দলে নিয়মিত পারফর্ম করে যাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার। নিজে যেমন গোল পাচ্ছেন, তেমনি সতীর্থদের করিয়ে দিচ্ছেন সুযোগ। তাই তারকার ছড়াছড়ি স্পেনে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, দাভিদ সিলভা, সের্হিয়ো রামোস, ডিয়েগো কোস্তারা থাকার পরও রাশিয়া বিশ্বকাপে স্প্যানিশদের ‘তুরুপের তাস’ ভাবা হচ্ছে ইসকোকে।
জিদানের দলে ‘প্ল্যান বি’তে থাকেন তিনি। লুকা মদরিচ, কাসেমিরো ও টোনি ক্রোস থাকায় মাঝমাঠে জায়গা নেই তার। ফরোয়ার্ডে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে ফরাসি কোচের পছন্দ করিম বেনজিমা ও মার্কো আসেনসিও। তাই একাদশে থেকে কিংবা বদলি হিসেবে মাঠে নেমে সব ম্যাচে নিজের সেরাটা দিতে পারছেন না তিনি।
স্পেন দলেও মিডফিল্ডারের অভাব নেই। তবে এই জায়গাতে কোচ জুলেন লোপেতেগি দেখিয়েছেন তার চতুরতা। গত মার্চে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের ৬-১ গোলে জেতার ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন ২৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। শুধু ওই ম্যাচ হবে কেন, ইতালির বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার জোড়া লক্ষ্যভেদেই তো ‘লা রোহা’ পায় ৩-০ গোলের জয়।
ক্লাব ফুটবলে তিনি খেলেন রিয়ালে, জাতীয় দলে এসে সতীর্থ হিসেবে বার্সেলোনার ইনিয়েস্তা ও সের্হিয়ো বুশকেৎসের সঙ্গে পান ম্যানচেস্টার সিটির সিলভাকে। তবু নিজের দক্ষতা দিয়ে চমৎকারভাবে মানিয়ে নেন তাদের সঙ্গে। দারুণ বোঝাপড়ায় আক্রমণভাগকে করেন ধারালো। এই সমন্বয় সম্ভব হয়েছে আসলে কোচ লোপেতেগির কারণে। যুব দল থেকে তিনি চেনেন ইসকোকে। অনূর্ধ্ব-২১ দলে একসঙ্গে কাজ করার কারণে রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ওপর স্প্যানিশ কোচের আস্থা অনেক।
চমৎকার বল নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা, মাপা পাস ও হঠাৎ তোলা গতিতে সুযোগ তৈরি করতে তিনি পারদর্শী। একই সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে খেলতে পারার অসম্ভব ক্ষমতা তার সামর্থ্যকে করেছে আরও শক্তিশালী। মাঝমাঝে যেমন খেলতে পারেন, তেমনি ফরোয়ার্ডের ঠিক পেছনে থেকে আক্রমণেও যেতে পারেন, আবার উইং ধরে গোলের সুযোগ তৈরি করতেও তার জুড়ি নেই।
রাশিয়া বিশ্বকাপে আরেকবার দেখা যাবে স্পেনের মাঝমাঝের শক্তি। সেখানে ইতিমধ্যে বড় মঞ্চে পারফর্ম করা অনেক খেলোয়াড়ই থাকবেন। তবে জুনে শুরু হতে যাওয়া এই আসরে স্পেন দলের সেই তালিকায় সবার আগে থাকবে ইসকো নামটি।
একনজরে:
পুরো নাম: ফ্রান্সিস্কো রোমান আলাকোন সুয়ারেস
জন্ম: ২১ এপ্রিল ১৯৯২
ক্লাব: রিয়াল মাদ্রিদ








