আর্থিক সংকটে অলিম্পিক বাছাই পর্বে নারী দলকে পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। ঘটনাটি নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হওয়ায় তার বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। এবার ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।
রবিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভা শেষে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তার রুমে বসে সংবাদ মাধ্যমকে শুরুতে বলেছেন, ‘কারও দোষ বা ভুল অন্য কারও কাঁধে চাপিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে থাকলে অনেকভাবে দেওয়া যায়। যেমনটা নারী ফুটবল দলের ক্ষেত্রে দেখতে পেলাম। যারা এত বড় সাফল্য এনে দিয়ে দেশকে সম্মানিত করেছেন, তারা অলিম্পিক বাছাই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না— এর চেয়ে বড় কষ্টের আর কিছু হতে পারে না।’
নারী দলের জন্য ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অনুদান চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি না হওয়ায় তাদের ইভেন্টে পাঠানো যায়নি বলে অভিযোগ করেছে বাফুফে। তবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, ‘প্রথম দিন তাদের সভাপতি, সহসভাপতি বা নির্বাচিত কেউ কোন কথা বলেননি। তাদের হয়ে একজন বেতনভুক্ত কর্মী, যিনি সাধারণ সম্পাদক(আবু নাইম সোহাগ) সরকারকে দোষারোপ করে বক্তব্য দিয়েছেন যে, সরকার অর্থ না দেওয়ায় তারা দল পাঠাতে পারেননি।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। টাকা চাইলে সরকারকে কিছু সময় দিতে হয়। আমাদের কাছে কোন ফেডারেশন টাকা চাইলে সেটা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠাতে হয়। আমাদের যে টাকা আছে, সেটা দিতে হলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়। এক্ষেত্রে আমাদের সময়ই দেওয়া হয়নি। ২৭ মার্চ আমরা চিঠি পেলাম। ২৯ মার্চ তারা বললেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে টাকা পাওয়ার মতো অবস্থা দেখছেন না। চিঠি দেওয়ার দু’দিন পরে কীভাবে তারা এরকম বক্তব্য দেন?’
এরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘২৭ মার্চ চিঠি রিসিভ করেই তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি তাদের আর্থিক বরাদ্দ দেওয়ার জন্য। এ কাজে আমাদের কিছু করার সুযোগই দেওয়া হলো না। যারা এত বড় অর্জন এনে দিয়েছেন, সেই মেয়েদের অলিম্পিক বাছাইপর্বে খেলতে পাঠানোর, পাশে দাঁড়ানোর সুযোগই দেওয়া হলো না। তারপরও তারা সরকারকে দোষারোপ করলেন। এটা ধৃষ্টতাপূর্ণ বিষয়। ফেডারেশনের একজন কর্মকর্তার এই ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ কথা বলা কোনওভাবে বরদাস্ত করা যায় না।’
পরিস্থিতি এখন আরও প্রতিকূল হয়ে দাঁড়িয়েছে বাফুফের। এ বিষয়ে তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চাইবে মন্ত্রণালয়। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি অবশ্য তাদের কাছে জানতে চাইবো কেন তারা এরকম কথা বলেছেন। দেশবাসী সবার একটাই প্রশ্ন- অল্প কিছু টাকার জন্য কেন মেয়েরা দেশের বাইরে খেলতে যেতে পারবে না। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্যই তাদের পাশে থাকতাম, অনেক স্পন্সর প্রতিষ্ঠানও সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। অথচ কারও সঙ্গে কথা না বলে, কাউকে কিছু না জানিয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেন তারা এই কাজটি করেছেন, আমার বোধগম্য নয়।’
সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘আমি সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করবো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে। কেন এরকম অন্যায় একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে মেয়েদের এতবড় একটা সুযোগ হাতছাড়া করতে দেওয়া হলো। এটা করে মেয়েদের তারা বঞ্চিত করেছেন। ভারত কিন্তু কোয়ালিফাই করেছে। আমরা তো ভারতের চেয়ে ভালো দল ছিলাম। আমাদেরও একটা সম্ভাবনা ছিল।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে পুরো বিষয়টি তাকে অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, ‘আগামীকাল আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অবহিত করবো। আমার মনে হয় তারা ইচ্ছাকৃতভাবে দলটাকে পাঠায়নি। কেন তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কাজটি করে আমাদের ভাবমূর্তি সংকটে ফেলেছেন, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারীদের খেলায় অনেক পৃষ্ঠপোষকতা করেন, সেটা ফুটবল হোক কিংবা ক্রিকেট। সেই নারীরা যখন অল্প কিছু টাকার জন্য খেলতে যেতে পারেনি, এটার পেছনে নিশ্চয়ই অন্য কিছু আছে।’








