বেলজিয়ামকে হারিয়ে চমকে দেওয়া স্লোভাকিয়া জিতলেই ইউরোর শেষ ষোলোর টিকিট পেতো। সেই সম্ভাবনা ভালোভাবে জাগিয়েছিল তারা। কিন্তু অগণিত সুযোগ নষ্ট করা ইউক্রেন দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। সমতা ফিরিয়ে স্লোভাকদের মনোবলে ধাক্কা দেওয়ার পর শেষ দিকে গোল করে জয় ছিনিয়ে নিলো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি। ২-১ গোলে স্লোভাকিয়াকে হারিয়ে ‘ই’ গ্রুপের লড়াই জমিয়ে দিলো ইউক্রেন।
দশম মিনিটে স্তানিস্লাভ লোবোৎকার পাসে বক্সের বাঁ দিক থেকে লুকাস হারাসলিনের বাঁ পায়ের শট দারুণভাবে রুখে দেন আনাতোলি ট্রুবিন।
১২তম মিনিটে তো গোলমুখের সামনে থেকে জাল কাঁপাতে ব্যর্থ হন স্লোভাকিয়ার ফরোয়অর্ড ইভান স্ক্রাঞ্জ। ইউক্রেনের ডিফেন্ডারদের ভুলে তার সামনে বল আসে, ডানপায়ের শট ট্রুবিনের বুকে লেগে প্রতিহত হয়।
পাঁচ মিনিট পর স্ক্রাঞ্জের আরেকটি আক্রমণ নস্যাৎ করতে পারেননি ইউক্রেনের গোলকিপার। থ্রো বলে বাইলাইন থেকে হারাসলিনের ক্রসে দুর্দান্ত হেডে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করে স্লোভাকিয়াকে এগিয়ে দেন স্ক্রাঞ্জ।
গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ইউক্রেন। ২৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মিখাইলো মুদ্রিকের বাঁ পায়ের শট অনেক উঁচু দিয়ে মাঠের বাইরে যায়। এরপর আর্তেম দোভবিক ও মুদ্রিকের শট ব্লক করে গোল হতে দেননি স্লোভাক ডিফেন্ডাররা। ৩৪ মিনিটে ইয়ারমোলেঙ্কোর শট পোস্টে আঘাত করে ইউক্রেনকে আফসোসে ভাসায়।
বিরতির আগে দুই গোলে এগিয়ে যেতে পারতো স্লোভাকিয়া। বক্সের বাইরে থেকে হারাসলিনের ডান পায়ের শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে থামান ট্রুবিন।
দ্বিতীয়ার্ধে চমক দেখায় ইউক্রেন। ৫৪ মিনিটে তাদের বক্সে বলের দখল হারায় স্লোভাকিয়া। মুদ্রিক বল পেয়ে আক্রমণে যান। তার কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ দিকে থাকা ওলেক্সান্দার জিনচেঙ্কো বল বাড়ান। তার দারুণ স্কয়ার পাসে মিকোলা শাপারেঙ্কো পেনাল্টি বক্সের মাঝখান থেকে জাল কাঁপান।
৭৪ মিনিটে ফাস্ট ব্রেকে রোমান ইয়ারেমচুকের পাসে বক্সের মধ্যে বল পান মুদ্রিক। বাঁ দিক থেকে কঠিন অ্যাঙ্গেলে নেওয়ার তার বাঁ পায়ের শট পোস্টে আঘাত করে।
এর ছয় মিনিট পর শাপারেঙ্কোর থ্রু বল ধরে দারুণ এক গোল করেন ইয়ারেমচুক। ডান দিক থেকে মাথার উপর দিয়ে সতীর্থের ভাসানো বল ডান পা বাড়িয়ে আলতো ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নেন এবং টোকা দিয়ে স্লোভাক গোলকিপার মার্টিন ডুব্রাভকার পাশ দিয়ে জালে বল জড়ান।
ওই গোল গড়ে দেয় ম্যাচের পার্থক্য। দুই ম্যাচে প্রথম জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেছে রোমানিয়ার কাছে হার দিয়ে ইউরো শুরু করা ইউক্রেন। স্লোভাকিয়া নেমে গেছে তিনে। এক ম্যাচ জিতে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা রোমানিয়া শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে পরের ম্যাচ খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে।







