ডেনমার্ক সেই ১৯৯২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে হারিয়ে একমাত্র ইউরো শিরোপা জিতেছিল। ওই সাফল্যের অনুপ্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে একই মঞ্চে জার্মানদের মুখোমুখি হয় ডেনিসরা। তাছাড়া সবশেষ তিনবারের দেখায় দুই দলই ছিল অজেয়। ডেনমার্ক তাই ভালো কিছু করার তাড়না নিয়ে ডর্টমুন্ডে স্বাগতিকদের সামনে দাঁড়ায়। শেষ ষোলোর দ্বিতীয় ম্যাচে ভিএআরের বদৌলতে দৃশ্যপট বদলেছে কয়েকবার। শেষ পর্যন্ত ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্টের সহায়তায় পেনাল্টি থেকে গোলমুখ যখন খুললো জার্মানি, তখন খুব সহজেই দ্রুত এলো দুই গোল। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২-০ গোলে জিতে ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেলো স্বাগতিকরা।
চতুর্থ মিনিটেই দারুণ এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে মেতেছিল জার্মানি। নিকো শ্লটারবেক কর্নার থেকে উড়ে আসা বল হেড করে জাল কাঁপান। কিন্তু রেফারি জার্মানদের উৎসবে বাগড়া দেন। ভিএআর চেক না করেও গোল বাতিল করেন তিনি।
শ্লটারবেক অফসাইডে ছিলেন না। কিন্তু গোল বিল্ডআপের সময় জশুয়া কিমিখ ফাউল করেন শ্লটারবেকের মার্কার ডেনমার্কের আন্দ্রেস স্কোভকে।
১১ মিনিটে কাই হ্যাভার্জ প্রথমবার শট নেন, দক্ষতার সঙ্গে ডেনিস গোলকিপার শুমেইখেল তা মাঠের বাইরে পাঠান। কর্নার থেকে ক্রুসের শটে আন্দ্রিখ বলে সংযোগ করলেও সরাসরি ডেনমার্ক কিপারের হাতে চলে যায়।
২১ মিনিটে গোলের চেষ্টা করা এরিকসেনকে সামনাসামনি রুখে দিয়ে ডেনমার্ককে হতাশ করেন রুডিগার।
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ম্যাচ থেমে যায় ৩৪ মিনিটে। আকাশ ভেঙে পড়া বজ্রবৃষ্টি। একবার তো বজ্রপাত একেবারে স্টেডিয়ামের মাথয় পড়লো। তখনই খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মাঠে খেলা ফিরে ২০ মিনিট পর। ফিরেই হ্যাভার্জের হেড ঠেকিয়ে ডেনমার্ককে রক্ষা করেন শুমেইখেল।
বিরতির ঠিক আগে হয়লুন্দ একা পেয়ে যান জার্মান কিপার ম্যানুয়েল ন্যয়ারকে। তার আশেপাশে কেউ ছিল না। অরক্ষিত থেকে জার্মানির গোলমুখে শট নেন ডেনিস তারকা। ন্যয়ার চমৎকার সেভে গোল হতে দেননি।
বিরতি থেকে ফিরে দ্বিতীয় মিনিটে গোল করে ডেনমার্ক। ফ্রি কিক থেকে এরিকসেনের বাড়ানো বলে জোয়াকিম অ্যান্ডারসন জাল কাঁপান। কিন্তু গোল বিল্ডআপের সময় অফসাইড হওয়ায় ভিএআর চেক করে গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান রেফারি।
৫০ মিনিটে ভিএআরে কপাল খোলে জার্মানির। রাউমের ক্রসে বক্সের মধ্যে অ্যান্ডারসনের হ্যান্ডবল ধরা পড়ে। রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন।
হ্যাভার্জ শট নেন। বলের দিক ঠিকভাবে বুঝেই ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন শুমেইখেল। কিন্তু তিনি বল ঠেকাতে পারেননি। ৫৩ মিনিটে এগিয়ে যায় জার্মানি।
৬৫ মিনিটে হয়লুন্দকে ঠেকিয়ে জার্মানির লিড ধরে রাখেন ন্যয়ার। তিন মিনিট পর চমৎকার কাউন্টার অ্যাটাকে বক্সের বাঁ দিক থেকে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন জামাল মুসিয়ালা।
ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে উইর্জ লক্ষ্যভেদ করলেও অফসাইডের পতাকা ওঠান লাইন্সম্যান। ভিএআর চেক করেও অফসাইডের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
অবশেষে জার্মানি তাদের দুঃসময় কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিলো। ছয় বছর পর কোনও মেজর টুর্নামেন্টে শেষ ষোলোর বাধা টপকালো তারা। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বিদায় নেয় জার্মানরা, মাঝে ২০২০ ইউরোতে শেষ ষোলোতেই থেমে যায় তারা।









