গত মার্চেই তুরস্ককে ৬-১ ব্যবধানে হারিয়ে গোলের মালা পরিয়েছে অস্ট্রিয়া। এই অস্ট্রিয়া এবারের ইউরোতেও চমক দেখাচ্ছিল। পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নাম লেখায় শেষ ষোলোয়। কিন্তু নকআউটে এসে ইতিহাস গড়া এক জয়ে সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছে তুরস্ক। অস্ট্রিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনাল।
এমন রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে যে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের কাছে চলতি আসরের সেরা ম্যাচের তকমা পেয়েছে দুই দলের লড়াই। তুরস্ক মাত্র ৫৭ সেকেন্ডে গোল করে এগিয়ে গেছে। যা ইউরোর ইতিহাসে দ্রুততম দ্বিতীয় গোলের নজির। গোলটি করেছেন মেরিহ দেমিরাল। দ্বিতীয় গোলটিও তারই করা। অস্ট্রিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় একটি গোল শোধ দিলেও তাদের ২-১ স্কোরেই থামিয়ে দিয়েছে ভিনসেনজো মন্তেলার দল। ম্যাচের পর মন্তেলা জানালেন, অসাধারণ সেই জয়ের গল্প। কেউ হাল ছাড়ার পক্ষে ছিল না বলেই এমন জয় এসেছে, ‘কেউ হাল ছেড়ে দেয়নি। সবাই হৃদয়ের সব সবটুকু উজাড় করে খেলেছে। হেড কোচের জন্য এমন সব ম্যাচ থাকে, যেখানে দল হৃদয়ের পুরোটা দিতে পারলেই জেতা সম্ভব হয়।’
এই জয় জার্মানিতে বসবাসরত তুর্কি সমর্থকদেরও আনন্দ-উৎসবের উপলক্ষ এনে দিয়েছে। দেশটির পতাকা হাতে গাড়ি নিয়ে হর্ন বাজাতে বাজাতে জার্মানির বিভিন্ন শহরে উল্লাস করেছেন তারা। ম্যাচটা এতই নাটকীয়তায় ভরা ছিল যে, ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে বাউমগার্টনার তুর্কি ডিফেন্সকে ফাঁকি দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন। উঁচুতে লাফিয়ে শক্তিশালী হেড করেন দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে। তুর্কি কিপার মার্ত অসাধারণ দক্ষতায় ম্যাচ জয়ী সেভ করে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। শটটা তিনি ঠেকাতে না পারলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়েই যেতো! মার্চের সেই লজ্জার হারের পর মধুর প্রতিশোধ নিতে পারায় তুরস্ক কোচ তাই তৃপ্ত, ‘আমি সেই অতীতটা পরিবর্তন করতে চেয়েছি। যদিও সেটা প্রীতি ম্যাচ ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রীতি বলে কিছু নেই।’
গত দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া তুরস্ক এবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। তুরস্কের প্রশংসা করে এই ইতালিয়ান কোচ বলেছেন, ‘আমি আজ ওদের হৃদয়টা দেখেছি। দেশটার এই বিষয়টাই আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগে।’








