দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বীর খেলা। তাই উত্তেজনা চরমে না গিয়ে পারে না। কিন্তু পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে সেটা বোধহয় ভাবেনি কেউ। যেমনটা হয়েছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ-রিয়াল মাদ্রিদের গত রাতের ডার্বিতে। লা লিগায় ১-১ ড্র হওয়া ম্যাচে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অ্যাতলেতিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনে।
দর্শকদের নিয়ে ক্ষুব্ধ হওয়ার কারণও আছে। মাঠে জিনিস ছুঁড়ে মারছিলেন তারা। এক পর্যায়ে তো সাময়িকের জন্য খেলা বন্ধও থেকেছে। তার জন্য খেলোয়াড়দের উস্কানির দায় দিচ্ছেন সিমিওনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধের মাঝপথে স্থগিত করা হয় খেলা।
ম্যাচটা হচ্ছিল অ্যাতলেতিকোর ঘরের মাঠ মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে। কোনও একটি গোলবারের পেছন থেকে যখন নানাবিধ বস্তু ছুঁড়ে মারা হচ্ছিল, তখনই স্থগিত হয় খেলা। ছুঁড়ে মারা বস্তুর মধ্যে বোতল, লাইটারও ছিল!
খেলায় ৬৪ মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে দিয়েছিলেন এদের মিলিতাও। খেলা ২০ মিনিট বন্ধ থাকার পর মাঠে গড়িয়েছে। তার পর যোগ হওয়া সময়ে ৯৬ মিনিটে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান অ্যাঙ্গেল কোরেয়া। তার আগে অবশ্য দশ জনের দলে পরিণত হয় অ্যাতলেতিকো। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মার্কোস লরেন্তে।
সিমিওনে ম্যাচের পর দর্শকদের উত্তেজিত করার জন্য রিয়াল মাদ্রিদ গোলকিপার থিবো কুর্তায়াকে দায়ী করেছেন। মিলিতাওর গোলের পর তার উদযাপন নিয়ে খুশি ছিলেন না দর্শকরা।
সিমিওনে বলেছেন, ‘জিনিস ছুঁড়ে মারা অবশ্যই ভুল। কিন্তু আমাদেরও পরিস্থিতি বুঝতে হবে এবং শান্ত থেকে আচরণ করতে হবে। বিশেষ করে গোল উদযাপনের বেলায় পরিস্থিতি বুঝে উদযাপন করতে হবে। দর্শকদের দিকে তাকিয়ে নয়। বিশেষ করে ওরকম অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে।’
দর্শকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারি মাতেও বুসকেটসক ফেরারকে স্টেডিয়ামের লাউড স্পিকারে কথা বলতে হয়েছে। যাতে তারা সতর্ক হন। তার পর সিমিওনে ও অ্যাতলেকো অধিনায়ক নিজেও দর্শকদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে তাদের শান্ত হতে বলেন। রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি অবশ্য খেলা স্থগিতের সিদ্ধান্তের জন্য রেফারির প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, ‘আমার মনে হয় রেফারি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটাই সঠিক ছিল।’









