ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের যাচ্ছতাই অবস্থা! লিগেও অবস্থা বলার মতো নয়। তাই গতবারের সফল কোচ আলফাজ আহমেদকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তারপর থেকে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে বেতন বকেয়া রেখে ও আগের চেয়ে খারাপ দল করে কোচকে কি বলির পাঁঠা বানানো হলো? এ নিয়ে মোহামেডান টিম লিডার, কোচ ও অধিনায়ক নানা যুক্তি-ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিঠু ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুশীলনের আগে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আসলে ফুটবলে নিয়মটা এরকমই। ফুটবলাররা টিম রেজাল্ট না পেলে কোচ স্যাক করে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ওভারঅল দেখা যায় আমরা প্লেয়াররাই আসলে ওরকম ভালো খেলতে পারছি না, রেজাল্ট দিতে পারছি না। এখন মাঝপথে কোচ স্যাক করার বিষয়ে আসলে আমরা ভেতর থেকে কিছু জানতাম না। আমরা বিকালেও প্র্যাকটিস করেছি কোচের সঙ্গে। আমরা সন্ধ্যার পর জানতে পারছি উনি আমাদের ক্লাবে নাই, থাকবেন না।’
বেতন বাকি নিয়ে এ ডিফেন্ডার বলেছেন, ‘বেতন-ভাতা নতুন কমিটি আসার পরে কিছু দিয়েছে, একবার বেতন দিয়েছে। তারপরে আর বেতন দেয় নাই, পাঁচ মাস বাকি। ওরা আশ্বাস দিয়েছে দিবে। এখন ওরা কবে দিবে—এই আলোচনা আমাদের কখনো হয় নাই।’
কোচকে বরখাস্ত করা নিয়ে মিঠু জানালেন, ‘এই মোহামেডানের কোচ হিসেবে উনি সফল। যে ছয়টা ফাইনাল উনি খেলেছেন, অলরেডি মোস্ট অব দুইটা ট্রফি—ফেডারেশন কাপ আর লিগের দুইটা ট্রফি পেয়েছেন। আসলে এরকম কোচকে এভাবে স্যাক করা আমার মতে হয় ঠিক হয়নি। এবার তো চ্যাম্পিয়ন ফাইট দেওয়ার মতো দল আমরা করি নাই।
তিনি অবশ্য কোচকে দোষ দিতে নারাজ, ‘কোচের দোষ এখানে আমি দেবো না। এখানে ম্যানেজমেন্টের ম্যাক্সিমাম দোষ। কারণ ওরা আমাদের সঠিক সময়ে বেতন দেয়নি। আমরা রেজাল্ট পাচ্ছি না। আর দেখা যায় কোচ, ম্যানেজার—এই দুইজন আমাদের অনেক অনুরোধ করে খেলিয়েছে। আমরা স্ট্রাইক করেছি প্র্যাকটিস করবো না, ওরা অনুরোধ করেছে বলে খেলেছি। আমরা কিন্তু কোনো ম্যানেজমেন্টকে পাইনি। শুধু কোচ আর ম্যানেজারকে পাইছি। আপনি এই সাফল্যের পরেও যদি কোচকে স্যাক করেন, তাহলে আমাদের কিছু বলার থাকে না।’
টিম লিডার আমিরুল ইসলাম বাবু বলেছেন, ‘আপনারা শুধু মোহামেডান দেখেন, কিন্তু অনেকেরই বেতন বাকি সেটা চোখে পড়ছে না। তবে শিগগিরই সব বকেয়া দিয়ে দেবো।’
ভারপ্রাপ্ত কোচ আবদূল কাইয়ুম সেন্টুর আশা, ‘আমরা এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে চাই। বেতন আমাদেরও বকেয়া। আশা করছি, সামনে ঠিক হবে।’








