মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাস শতবর্ষী। ফুটবল সেখানে বলতে গেল প্রধান ধর্ম। আজ থেকে প্রথমবার তিন দেশে যৌথভাবে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। যুক্তরাষ্ট্র,কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে ফুটবল অন্তঃপ্রান দেশ হিসেবে কে এগিয়ে থাকবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে একবাক্যে মেক্সিকোর কথা আগে আসবে। ফুটবলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে অন্য দুটি থেকে বেশ এগিয়ে মেক্সিকানরা। এবার নিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপে স্বাগতিক হতে যাচ্ছে তারা। যা বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ডই।
তৃতীয় বিশ্বকাপের আয়োজক
ফুটবলের প্রতি তাদের উন্মাদনা জীবনবোধের অন্যতম অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। মেক্সিকো বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালে দুইবার ফিফা বিশ্বকাপের সফল আয়োজন করেছিল। দুটিতেই পেলের ব্রাজিল ও ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্মরণীয় হয়ে আছে। আজ শুরু হওয়া বিশ্বকাপে মেক্সিকো সর্বোচ্চ তৃতীয়বারের মতো আয়োজক, যা বিশ্বকাপে রেকর্ডই।
মেক্সিকান ওয়েভ
মেক্সিকান সমর্থকরা তাদের বর্ণিল সাজ, স্টেডিয়ামের অবিরাম গর্জন এবং ‘ওয়েভ’ নামক উল্লাস উদযাপনের জন্য বিশ্বখ্যাত। সারা বিশ্বে স্টেডিয়ামে যে ওয়েভ দেখা যায় তা মেক্সিকানদের দিয়েই প্রচলন। মেক্সিকান ওয়েভ বলেই জনপ্রিয়।
সর্বোচ্চ দুবার শেষ আটে
মেক্সিকো টানা আটটি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে খেলার অনন্য রেকর্ড গড়েছে। তাছাড়া তারা কনকাকাফ অঞ্চলের সবচেয়ে সফল দল। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে মেক্সিকো প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও নিজেদের মাঠে দ্বিতীয়বারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নেয়। এই আসরে তারা কোনও ম্যাচ না হেরেই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল।
এছাড়া তাদের ঘরোয়া ফুটবলও বেশ সমৃদ্ধ।
কিংবদন্তি খেলোয়াড়
ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আন্তোনিও কারবাজাল পাঁচটি বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড গড়েন মেক্সিকোর হয়ে। এছাড়াও হুগো সানচেজ (রিয়াল মাদ্রিদ) এবং রাফায়েল মার্কেজ (বার্সেলোনা)-এর মতো তারকারা বিশ্ব ফুটবলে মেক্সিকোর নাম উজ্জ্বল করেছেন।
এছাড়া ২০২০ সালে মাথায় মারাত্মক আঘাত পাওয়ার পরও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানো ফুলহ্যামের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাউল হিমেনেস এবং রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া ৪০ বছর বয়সী কিংবদন্তি গোলকিপার গিয়ের্মো ওচোয়া এবার মেক্সিকো বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় তারকা।
সব কিছুই মিলে আজ মেক্সিকোতে সাজ সাজ রব। বিশ্বকাপের স্বাগতিক, তার ওপর প্রথম ম্যাচেই নিজেরা খেলার অপেক্ষায়।








