ফাইনালের মঞ্চে চাপ যত বাড়ে, মিকেল ওইয়ারজাবাল যেন ততই জ্বলে উঠেন। স্পেনের এই ফরোয়ার্ডের নামের পাশে এমন এক রেকর্ড রয়েছে, যা ফুটবল ইতিহাসের অনেক কিংবদন্তিও গড়তে পারেননি। পেশাদার ক্যারিয়ারে খেলা প্রতিটি ফাইনালেই গোল করেছেন তিনি। এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালেও সেই ছন্দ ধরে রাখার অপেক্ষায় স্পেনের ‘মিস্টার ফাইনাল’।
বছরের পর বছর ধরে স্পেনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফরোয়ার্ডদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা দাভিদ ভিয়ার ৫৯ গোলের রেকর্ড থেকে এখনও অনেক দূরে থাকলেও, স্পেনের হয়ে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৪ গোল করে নতুন কীর্তি গড়েছেন তিনি।
এবার নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সিতে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামবেন এই রিয়াল সোসিয়েদাদ তারকা। যার লক্ষ্য দলকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি নিজের গোলসংখ্যা বাড়ানো।
তবে ওইয়ারজাবালকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে বড় ম্যাচে তার অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা। পেশাদার ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত খেলা ছয়টি ফাইনালের প্রতিটিতেই গোল করেছেন তিনি। এমন কীর্তি লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পেলে, ডিয়েগো ম্যারাডোনা, জিনেদিন জিদান, ইয়োহান ক্রুইফ, জার্ড মুলার কিংবা ইউসেবিওর মতো কিংবদন্তিদেরও নেই।
ফাইনালে করা তার কয়েকটি গোল এসেছে পেনাল্টি থেকে। অনেকের কাছে পেনাল্টি সহজ মনে হলেও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পট কিক নেওয়াই সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোর একটি। কিন্তু ওইয়ারজাবাল সেই চাপকে সব সময়ই শান্তভাবে সামলেছেন। ফাইনালে নেওয়া প্রতিটি পেনাল্টিতেই সফল হয়েছেন তিনি।
রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে দুটি কোপা দেল রে ফাইনালে খেলেছেন এবং দুই ম্যাচেই পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলেছেন দুটি উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনাল, একটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল এবং একটি অলিম্পিক ফাইনাল। যেখানে চারটিতেই তার নাম ছিল গোলদাতার তালিকায়।
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও পেনাল্টি থেকে তার করা গোলটি ছিল আত্মবিশ্বাসের আরেকটি উদাহরণ। গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ সঠিক দিক অনুমান করলেও নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।
এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওইয়ারজাবালের সামনে রয়েছে আরেকটি বড় রেকর্ডের হাতছানি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল করতে পারলে তিনি হবেন এক আসরের বিশ্বকাপে স্পেনের প্রথম ফুটবলার, যিনি ৬ গোল করবেন। বর্তমানে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে এমিলিও বুত্রাগেনিও এবং ২০১০ বিশ্বকাপে দাভিদ ভিয়ার করা ৫ গোলের রেকর্ডের সঙ্গে সমতায় আছেন তিনি।
ওইয়ারজাবালের নাম হয়তো বর্তমান সময়ের অনেক তারকা ফরোয়ার্ডের মতো প্রতিপক্ষের মনে ভীতি ছড়ায় না। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে তার ধারাবাহিকতা অতুলনীয়। যিনি ব্যক্তিগত কৃতিত্বের চেয়ে দলের শিরোপাকেই সবসময় বেশি গুরুত্ব দেন। এই আত্মবিশ্বাসই হয়তো তাকে বারবার বড় ম্যাচের নায়কে পরিণত করেছে।







