আজ রবিবার দিবাগত রাতে নিউ জার্সিতে স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। তারকাখচিত এই বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা তুঙ্গে। কিন্তু ফাইনালের দুই দলের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত জীবন বা তাদের অদ্ভুত সব অভ্যাস সম্পর্কে কতটুকু জানেন ফুটবলপ্রেমীরা? যেমন, স্পেনের কোন খেলোয়াড় সানক্রিম ব্যবহারের উপকারিতায় বিশ্বাসই করেন না? কে ট্রফি জিতলে নিজের শরীরে কোচের ট্যাটু আঁকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন? আর আর্জেন্টিনার কোন তারকার নাম রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিখ্যাত সংগীতশিল্পীর নামানুসারে?
দুই দলের খেলোয়াড়দের এমন সব অজানা ও মজার তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন।
স্পেন
গোলরক্ষক
- উনাই সিমন: সিমন একজন দাবা আসক্ত মানুষ। দলের সতীর্থ দানি ওলমোর সঙ্গে তিনি নিয়মিত দাবা খেলেন। স্প্যানিশ চ্যানেল আরটিভিই-কে সিমন বলেছিলেন, তিনিই দলের ১০০ ভাগ সেরা দাবাড়ু, যদিও ওলমো এই দাবি মানতে নারাজ।
- ডেভিড রায়া: বর্তমানে তিনি আর্সেনালের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন, কিন্তু মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি ইংলিশ ফুটবলের পঞ্চম স্তরের দল সাউথপোর্টের হয়ে খেলতেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে চ্যাম্পিয়নশিপের দল ডার্বি কাউন্টির বিপক্ষে এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচের পর তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়।
- জোয়ান গার্সিয়া: তিনি কাতালানের ৭ হাজার বাসিন্দার গ্রাম স্যালেন্টের বাসিন্দা এবং পাহাড় পছন্দ করেন। অবসর সময়ের বেশিরভাগ তিনি পাহাড়ে কাটান। শান্ত মাথার জন্য পরিচিত এই গোলরক্ষক টিম বাস থেকে নামার সময় সবসময় দুটি নির্দিষ্ট গান শোনেন এমিনেমের ‘নট অ্যাফ্রেইড’ এবং টি.আই-এর ‘লাইভ ইওর লাইফ’।
রক্ষণভাগ
- পেড্রো পোরো: দাদুর সঙ্গে পোরোর সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। টুর্নামেন্টের শুরুতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পোরোর প্রথম আন্তর্জাতিক গোলের পর স্প্যানিশ এফএ এই দুজনের ভিডিও কলের একটি আবেগঘন ভিডিও পোস্ট করেছিল। সেখানে তার দাদু মজা করে বলেছিলেন, বলটি জালে জড়ানোর জন্য তিনিই নাকি পোরোকে ধাক্কা দিয়েছিলেন।
- মার্কোস ইয়োরেন্তে: নিজের ব্যতিক্রমী ও মাঝেমধ্যে বিতর্কিত জীবনধারার জন্য তিনি পরিচিত। তিনি সানক্রিমের উপকারিতায় বিশ্বাস করেন না বলে এটি ছাড়াই যতটা সম্ভব রোদে সময় কাটান। তিনি দিনে হলুদ রঙের এবং রাতে লাল রঙের চশমা পরেন।
- আইমেরিক লাপোর্তে: ফ্রান্সের এজেন শহরে জন্ম নেওয়া লাপোর্তে ২০১১ ও ২০১২ সালে ফ্রান্সের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন। পরবর্তীতে তরুণ বয়সে বিলবাওয়ের অ্যাথলেটিক ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর তিনি স্পেনের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন।
- পাউ কুবার্সি: তিনি এক কাঠমিস্ত্রি পরিবারের সন্তান। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় ফাইনাল প্রজেক্টের জন্য তিনি একটি বসার টুল তৈরি করেছিলেন। গত বছর এল মুন্দোকে তিনি বলেছিলেন, যদি কোনোদিন ফুটবল ঠিকঠাক না চলে, তবে ছুতারের কাজ তো সবসময়ই থাকবে, এটা স্পষ্ট।
- মার্ক পুবিল: তিনি অত্যন্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন। এই সপ্তাহে স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন ক্যাডেনা কোপ-কে তার মা আনা পুবিলের ম্যাচপূর্ব অদ্ভুত নিয়মের কথা জানান। তিনি বলেন, সে ডান পা দিয়ে মাঠে প্রবেশ করে, তিনবার লাফ দেয় এবং নিজের নিতম্ব স্পর্শ করে।
- এরিক গার্সিয়া: তিনি একজন ফুটবল পাগল মানুষ, যিনি সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে মাল্টিপল স্ক্রিনে দিনে অন্তত চারটি ম্যাচ দেখেন, যার বেশিরভাগই লা লিগা এবং প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ। এ ছাড়া তিনি এনবিএ-এর একজন বড় ভক্ত এবং সময় পেলেই বাস্কেটবল ম্যাচ দেখেন।
- মার্ক কুকুরেরা: কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে কুকুরেরার সম্পর্ক ভীষণ চমৎকার। কোপ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই লেফট-ব্যাক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে স্পেন বিশ্বকাপ জিতলে তিনি নিজের শরীরে দে লা ফুয়েন্তের মুখের ট্যাটু করাবেন। তবে শরীরের ঠিক কোথায় করাবেন, তা জানাননি।
মধ্যমাঠ
- রদ্রি: পুরো স্কোয়াডের মধ্যে একমাত্র তারই ইনস্টাগ্রাম, এক্স বা টিকটকের মতো কোনও পাবলিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নেই। এমনকি ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অর জেতার পরও নিজের কোনও ছবি তিনি পোস্ট করেননি। দ্য প্লেয়ার্স ট্রিবিউন-এর এক নিবন্ধে তিনি লিখেছিলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ৪০০ পাউন্ড দামের স্নিকার্স নিয়ে আমার কোনও মাথাব্যথা নেই।’
- মার্টিন জুবিমেন্দি: দলের আরেকজন দক্ষ দাবাড়ু, যিনি শৈশবে বাস্ক অঞ্চলের গিপুজকোয়া প্রদেশের দাবা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। তিনি বাস্ক কান্ট্রির দাবা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়েও ছিলেন, কিন্তু ফুটবল প্রতিযোগিতার সঙ্গে সময় মিলে যাওয়ায় তিনি সেই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেননি।
- পেদ্রি: ২৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের মাথায় সুন্দর চুল থাকা সত্ত্বেও তিনি অদ্ভুতভাবে ন্যাড়া হতে চান। ২০২৪ সালে দ্য রেসিডেন্সি ইউটিউব চ্যানেলে ভক্তদের সঙ্গে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কেন জানি না, সবসময়ই ন্যাড়া হতে চেয়েছি।’ হতে পারে শৈশবের আদর্শ আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার প্রতি ভালোবাসাই এর কারণ।
- ফ্যাবিয়ান রুইজ: গাভির মতো তিনিও সেভিলের কাছের আন্দালুসিয়ান শহর লস প্যালাসিওস ই ভিলাফ্রাঙ্কার বাসিন্দা। প্রতিবার যখনই তিনি কোনও বড় ট্রফি জেতেন, তার শহরটি তার ওজনের সমান প্রায় ৮০ কেজি টমেটো উপহার দিয়ে সেই উপলক্ষ উদযাপন করে।
- মিকেল মেরিনো: স্পেনের হয়ে গোল করার পর মেরিনো কর্নার ফ্ল্যাগের চারপাশে দৌড়ে উদযাপন করেন। এটি মূলত তার বাবা মিগুয়েল মেরিনোর গোল উদযাপনের ধরন ছিল, যিনি ১৯৯১ সালে ওসাসুনার হয়ে স্টুটগার্টের বিপক্ষে গোল করার পর নিজের মায়ের (মিকেলের দাদি) প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এভাবে উদযাপন করেছিলেন। এর ৩৫ বছর পর, সেই একই স্টেডিয়ামে ইউরোতে জার্মানির বিপক্ষে স্পেনের হয়ে জয়সূচক হেডারে গোল করেন মিকেল।
- গাভি: তিনি একজন বড় সংগীতপ্রেমী। ২০২৩ সালে এসিএল ইনজুরিতে পড়ার পর প্রিয় শিল্পীদের গান শুনে তিনি মানসিক স্বস্তি পেয়েছিলেন। পার্ল জ্যাম থেকে মাইকেল জ্যাকসন এবং ব্লার থেকে টেইলর সুইফট ও ওয়ান ডিরেকশন সব ধরনের গানই তার পছন্দ। এমনকি লুই টমলিনসনের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্কও তৈরি হয়েছে।
- অ্যালেক্স বায়েনা: ২০২৩ সালে বার্নাব্যুতে লা লিগার ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের ফেদেরিকো ভালভার্দে বায়েনাকে ঘুষি মেরেছিলেন। এই টুর্নামেন্ট চলাকালীন কোপ-কে বায়েনা বলেন, ওই ঘটনার পর এবং তার পরিবারের ওপর এর প্রভাব দেখে তিনি ‘প্রায় ফুটবল ছেড়েই দিচ্ছিলেন’। পরবর্তীতে গুয়াদালাহারায় গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তার জয়সূচক গোলে ভালভার্দের উরুগুয়েকে বিদায় করে স্পেন।
আক্রমণভাগ
- মিকেল ওয়ারজাবাল: বয়স যখন ২০-এর কোঠায়, তখন ওয়ারজাবাল রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে খেলার পাশাপাশি বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির পড়াশোনা চালিয়ে যান। সে সময় শহরের কেন্দ্রে একটি ফ্ল্যাটে দুই স্কুলবন্ধুর সঙ্গে ছাত্র হিসেবে থাকতেন তিনি।
- লামিন ইয়ামাল: লিওনেল মেসি কর্তৃক শিশু ইয়ামালকে গোসল করানোর ছবিগুলোর চেয়ে সেরা আর কিছু হতে পারে না। তবে আপনি কি জানেন, ইউরো চলাকালীন হাইস্কুল ডিপ্লোমার সমমানের ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি রান্নার ওপর পড়াশোনা শুরু করেছিলেন? ২০২৪ সালে টকশো এল হরমিনগুয়েরো-তে তিনি নিজেই এটি জানান, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে সে সময় তার সেরা রান্না ছিল কেবল চিকেন আর চিপস!
- ফেরান তোরেস: তিনি ২০০০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি লিপ ইয়ারে জন্মগ্রহণ করেন, তাই চার বছর পর পর মাত্র একবারই তার আসল জন্মদিন আসে। নিজের দেওয়া তার ডাকনাম হলো দ্য শার্ক। ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে একজন স্পোর্টস সাইকোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করার পর মাঠে আরও ভয়ংকর ভাব ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি এই নামটি বেছে নেন।
- বোরহা ইগলেসিয়াস: ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপ ফাইনালের পর সাবেক স্প্যানিশ এফএ প্রেসিডেন্ট লুইস রুবিয়ালেস যখন জেনি হারমোসোকে সম্মতি ছাড়াই চুম্বন করেছিলেন, তখন ইগলেসিয়াস ঘোষণা দেন যে রুবিয়ালেস পদে থাকা পর্যন্ত তিনি পুরুষ জাতীয় দলের হয়ে আর খেলবেন না। এই বিশ্বকাপে ইগলেসিয়াসের সামাজিক অবস্থানের প্রতি সম্মান জানিয়ে অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম গ্যালারিতে ইগলেসিয়াস ২৬ লেখা স্পেনের জার্সি পরেছিলেন। গত সপ্তাহে সেমিফাইনালের পর হারমোসো, যিনি এই টুর্নামেন্টে পণ্ডিত হিসেবে কাজ করছেন এবং ইগলেসিয়াস একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আবেগঘন মুহূর্ত ভাগ করেন।
- দানি ওলমো: বার্সেলোনার অ্যাকাডেমি ছেড়ে ১৬ বছর বয়সে দিনামো জাগরেবে যোগ দেওয়ার কারণে ওলমো অনর্গল ক্রোয়েশিয়ান ভাষা বলতে পারেন। সেখানে তিনি ক্রোয়েশিয়ান ভাষায় সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। এ ছাড়া আরবি লাইপজিগে খেলার সুবাদে তিনি কাতালান, স্প্যানিশ, ইংরেজি এবং সামান্য জার্মান ভাষাও বলতে পারেন।
- ভিক্টর মুনোজ: মুনোজ একজন বিরল খেলোয়াড় যিনি ২০১৪-২০১৭ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার অ্যাকাডেমিতে এবং ২০২১-২০২৫ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের যুব সিস্টেমে তৈরি হয়েছেন। তবে মাদ্রিদ ছেড়ে ওসাসুনায় যোগ দেওয়ার পর গত মৌসুমে তিনি আসল ব্রেকআউট পান, যা এই গ্রীষ্মে তাকে লিভারপুলের মতো বড় ক্লাবে জায়গা করে দিয়েছে।
- নিকো উইলিয়ামস: নিকোর বাবা-মা মারিয়া এবং ফেলিক্স ঘানায় জন্মগ্রহণ করেন। মারিয়ার গর্ভে যখন নিকোর বড় ভাই ইনাকি ছিলেন, তখন তারা সাহারা মরুভূমি পাড়ি দিয়ে উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ছিটমহল মেলিলায় পৌঁছান। দুই ভাই-ই অ্যাথলেটিক ক্লাবের হয়ে খেললেও ইনাকি আন্তর্জাতিক স্তরে ঘানার প্রতিনিধিত্ব করেন।
- ইয়েরেমি পিনো: ২০১৯ অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে খেলার জন্য পিনো সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক দিন আগে অনুশীলনে পেদ্রির একটি ভুল পাসের বল সরাসরি তার মুখে এসে লাগে। এতে তার চোখে আঘাত লাগে এবং তিনি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান।
আর্জেন্টিনা
গোলরক্ষক
- এমিলিয়ানো মার্তিনেস: শৈশবে ১৯৯০-এর দশকের জনপ্রিয় আর্জেন্টাইন টিভি সিরিজ ‘মি ফ্যামিলিয়া এস উন ডিবুজো’-র মূল চরিত্রের সঙ্গে চেহারার দারুণ মিল থাকায় মার্তিনেসের ডাকনাম হয় ‘ডিবু’। চরিত্রটির চুল লালচে ছিল এবং মুখে প্রচুর তিল ছিল।
- জেরোনিমো রুলি: রুলির আদর্শ হলো অ্যানিমে সিরিজ ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’-র গোলরক্ষক চরিত্র বেঞ্জি প্রাইস। শো-এর নির্মাতা ইয়োইচি তাকাহাশি একবার তাকে এই চরিত্রের একটি প্রিন্ট উপহার দিয়েছিলেন। রুলি বলেছিলেন যে এটি তিনি তার বাড়িতে এমনভাবে প্রদর্শন করবেন যেন এটি একটি ট্রফির চেয়েও বেশি কিছু।
- হুয়ান মুসো: মুসো যোগব্যায়ামের (ইয়োগা) শক্তিতে দৃঢ় বিশ্বাসী। ২০২১ সালে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ইনফোবাই-কে তিনি বলেন, তিনি ছয় বছর ধরে যোগব্যায়াম করছেন। তিনি বলেন, এটি আমার চিন্তাভাবনা বদলে দিয়েছে।
রক্ষণভাগ
- গঞ্জালো মন্টিয়েল: তার ছোট ভাই সান্তিয়াগোও একজন ফুটবলার। ২০২৫ সালের মে মাসে আর্জেন্টিনার শীর্ষ লিগে ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তের হয়ে ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তে রিভাডাভিয়ার বিপক্ষে দূর থেকে করা একটি ওভারহেড কিকে চমৎকার গোলের জন্য সান্তিয়াগো বিশ্বের সেরা গোলের ‘পুসকাস পুরস্কার’ জিতে নেন।
- নাহুয়েল মলিনা: ২০১১-১২ সালে মলিনা বার্সেলোনা অ্যাকাডেমির একটি আর্জেন্টাইন শাখায় সময় কাটিয়েছিলেন, যার অংশ হিসেবে তিনি স্পেনের লা মাসিয়ায় প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। ২০২১ সালে লা ন্যাসিওনকে তিনি বলেন, ‘আমি এর আগে কখনও বিমানে উঠিনি। প্রথম কয়েক দিন আমি বল স্পর্শই করতে পারিনি; তাদের মান ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।’
- লিসান্দ্রো মার্তিনেস: খেলার মাঠের আগ্রাসী মেজাজের জন্য তিনি ‘কসাই’ নামে পরিচিত হলেও, লিসান্দ্রো আবেগ প্রকাশ করতে ভয় পান না। তিনি জানান, তার সঙ্গী মুরিয়েল তাকে ‘একজন প্রকৃত পুরুষ হওয়া সম্পর্কে অনেক কিছু’ শিখিয়েছেন। ফিল নিউজকে এই বছর তিনি বলেন, ‘আমি কাঁদতে ভালোবাসি, নিজেকে প্রকাশ করতে ভালোবাসি, ভালোবাসা দিতে ভালোবাসি।’
- নিকোলাস ওটামেন্ডি: পেশাদার ফুটবলে ওটামেন্ডির আসার পথটি প্রথাগত ছিল না। ছোটবেলায় বক্সিং ছিল তার মূল খেলা। তার সিগনেচার মিলিটারি-স্টাইল গোল উদযাপনের কারণে তার ডাকনাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য জেনারেল’।
- লিওনার্দো বালের্দি: ২০২৩ সালে ম্যাচে বেশ কিছু ভুলের পর বালের্দিকে দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে মার্সেইয়ের এক সমর্থক ক্লাবের প্রশিক্ষণ মাঠের বাইরে অনশন করেছিলেন। ২০২৪ সালে এল’ ইকুইপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ডিফেন্ডার অবশ্য এর ইতিবাচক দিকই দেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‘লোকেরা যখন আমার সম্পর্কে খারাপ কথা বলে, আমি তা পছন্দ করি; এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করে।’
- ক্রিস্টিয়ান রোমেরো: তিনি ‘কুটি’ রোমেরো নামে পরিচিত। শৈশবে তার বড় বোন আলদানা ‘ক্রিস্টিয়ান’ নামটি উচ্চারণ করতে না পেরে কেবল ‘কুটি’ বলে ডাকতেন, যা ২০২১ সালে দ্য অ্যাথলেটিকের একটি বিশদ প্রতিবেদনে উঠে আসে।
- ফ্যাকুন্দো মেদিনা: তিনি বুয়েনস আইরেস প্রদেশের লোমাস ডি জামোরার একটি এলাকা ভিলা ফিওরিতোতে বড় হয়েছেন। এই এলাকার সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যক্তিটি হলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা।
- নিকোলাস তাগলিয়াফিকো: ফুটবলের পাশাপাশি তাগলিয়াফিকো একজন প্রতিভাবান শিল্পী, যিনি অ্যানিমে কার্টুন আঁকেন। ২০২৪ সালে তার ইউটিউব চ্যানেলের একটি ভিডিওতে তাকে ‘ড্রাগন বল’ সিরিজের কিছু মূল চরিত্র আঁকতে দেখা গেছে।
মধ্যমাঠ
- লেয়ান্দ্রো পারেদেস: বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার যখন পাঁচ বছরের শিশু, তখন তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিভার প্লেটের স্কাউটরা তাকে দলে নিতে চেয়েছিল। ২০২৪ সালে ওলগা স্ট্রিমিং চ্যানেলকে পারেদেস বলেন, রিভার প্লেটের কর্মকর্তারা যখন তাদের বাড়িতে আসেন, তখন তিনি ভয়ে নিজের ঘরে তালা বন্ধ করে কেঁদেছিলেন। এর ছয় মাস পর বোকা জুনিয়র্স তাকে দলে নেয়।
- রদ্রিগো ডি পল: ডি পলের প্রয়াত দাদু ওসভালদোর কল্যাণে প্রতিটি ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা দলের ক্যান্ডি খাওয়ার একটি রেওয়াজ রয়েছে। দ্য অ্যাথলেটিককে আর্জেন্টাইন এফএ নিশ্চিত করেছে, এই ক্যান্ডির জন্য তারা ৫০০ কেজি রসদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেছে। শৈশবে ওসভালদো তার নাতিকে অনুশীলনে নিয়ে যেতেন এবং প্রতিবার চকলেট কেনার জন্য কিছু কয়েন দিতেন। দাদুর প্রতি শ্রদ্ধা ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ডি পল ও তার সতীর্থরা ম্যাচের আগে ক্যান্ডি চিবিয়ে থাকেন।
- এক্সেকুয়েল পালাসিওস: পালাসিওস যখন রিভার প্লেটে ছিলেন, তখন রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। স্প্যানিশ সংবাদপত্র মার্কাকে তিনি বলেন, ‘ক্লাবের কর্মীরা আমার মেডিক্যাল টেস্ট করার জন্য এসেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইনজুরির কারণে বিষয়টি আর এগোয়নি।’ তবে পরবর্তীতে তিনি মাদ্রিদের আইকন এবং ব্ল্যাঙ্কোসদের ভবিষ্যৎ কোচ জাবি আলনসোর অধীনে বায়ার লেভারকুসেনে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান।
- এনজো ফার্নান্দেজ: উরুগুয়ের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ খেলা রিভার প্লেটের কিংবদন্তি এনজো ফ্রান্সেসকোলির নামানুসারে তার নাম রাখা হয় ‘এনজো’। চেলসি ও বেনফিকায় যাওয়ার আগে ফার্নান্দেজ তার পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন আর্জেন্টিনার রিভার প্লেটেই।
- অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার: তার বড় ভাইও একজন ফুটবলার (যিনি বেলজিয়ামের ক্লাব ইউনিয়ন সেন্ট-গিলোইসের হয়ে খেলেন)। হলিউড সিনেমা ‘হোম অ্যালোন’-এর চরিত্রের নামানুসারে তার নাম রাখা হয়েছিল কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টার। ১৮ বছর বয়সে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের আগ পর্যন্ত কেভিন নিজেই বিষয়টি জানতেন না।
- জিওভানি লো সেলসো: ইনজুরির কারণে লো সেলসো ২০২২ সালের বিশ্বকাপ মিস করলেও, সেই সময় তিনি তার মেয়ের জন্মের মুহূর্তে পাশে থাকতে পেরেছিলেন। লিওনেল মেসি যখন মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করে আর্জেন্টিনাকে বিদায় নেওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে তার স্ত্রীর প্রসববেদনা শুরু হয়েছিল। ২০২৩ সালে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ম্যাচের মাঝপথেই লিও গোলটি করে আর আমাদের তখন হাসপাতালের দিকে ছুটতে হয়। আমার মনে আছে, গাড়িতে করে যাওয়ার সময় ফোনে আমি ম্যাচটি দেখছিলাম এবং এনজোর (ফার্নান্দেজ) গোলটি গাড়িতে বসেই দেখি। এরপর আমরা হাসপাতালে যাই এবং ভোরে আমার মেয়ে জন্ম নেয়। আমি পুরোটা সময় উপস্থিত ছিলাম; এটি জীবন আমাকে অনন্য ও জাদুকরি এক মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করার সুযোগ করে দিয়েছিল।
- ভ্যালেন্টিন বার্কো: বোকা জুনিয়র্সের তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে বার্কো তার মা-বাবার সঙ্গে বুয়েনস আইরেস প্রদেশের ২৫ ডি মেও শহর থেকে প্রতিদিন চার ঘণ্টা যাতায়াত করে অনুশীলনে আসতেন।
আক্রমণভাগ
- লিওনেল মেসি: বার্সেলোনার সঙ্গে মেসির প্রথম চুক্তিটি লেখা হয়েছিল একটি ন্যাপকিন পেপারে, যা পরবর্তীতে ২০২৪ সালে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলারে নিলামে বিক্রি হয়। আরও মজার বিষয় হলো, মেসির মা যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সংগীতশিল্পী লিওনেল রিচির নামানুসারে তার নাম রেখেছিলেন ‘লিওনেল’। গত বছর এই দুই তারকার দেখাও হয়েছিল।
- নিকো পাজ: নিকো হলেন আর্জেন্টিনার আরেক আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় পাবলো পাজের ছেলে, যিনি ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। নিকো তেনেরিফেতে জন্মগ্রহণ করলেও স্পেনের চেয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাকেই বেছে নেন।
- থিয়াগো আলমাদা: আলমাদা হলেন সেই সব আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের একজন, যারা ফুটবলের মাধ্যমে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ফরোয়ার্ড কার্লোস তেভেজের মতো বুয়েনস আইরেসের একই এলাকা ফুয়েন্তে অ্যাপাচের বাসিন্দা।
- নিকোলাস গঞ্জালেস: গঞ্জালেস তার দেশের হয়ে ফরোয়ার্ড লাইনের সব পজিশনসহ লেফট-ব্যাকেও খেলেছেন। ২০২০ সালের নভেম্বরে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে লেফট-ব্যাক পজিশন থেকেই তিনি একটি হেডার গোল করে ব্রেকথ্রু পান। ওরাল দেপোর্তিভাকে দেওয়া এক রেডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাইরের মানুষ জিজ্ঞেস করতো নিকো গঞ্জালেস কে, সে কোথায় খেলে? মানুষের মুখ বন্ধ করে দেওয়াটা আমি সত্যিই খুব পছন্দ করি।’
- গিউলিয়ানো সিমিওনে: আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ ডিয়েগো সিমিওনের ছেলে গিউলিয়ানো ২০২৩ সালে আলাভেসের প্রাক-মরসুম ম্যাচ চলাকালীন ফিবুলা ফ্র্যাকচার এবং গোড়ালি স্থানচ্যুতির শিকার হন। ডিয়েগো তখন মাদ্রিদের ফ্লাইটে ছিলেন এবং ল্যান্ড করার পর বিষয়টি জানতে পেরে গাড়ি চালিয়ে বাস্ক কান্ট্রিতে ছেলের পাশে ছুটে যান। গিউলিয়ানো তখনও স্পেনের শীর্ষ লিগে খেলেননি, তবে তার এজেন্টদের বলেছিলেন তিনি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলবেন।
- লাউতারো মার্তিনেস: আগ্রাসী খেলাশৈলীর কারণে তার ডাকনাম ‘এল তোরো’ (ষাঁড়)। লাউতারো অত্যন্ত ধার্মিক মানুষ। খেলার সময় তিনি তার শিন গার্ডের ভেতরে আর্জেন্টিনার রক্ষাকর্ত্রী ‘আওয়ার লেডি অব লুজান’-এর একটি ছবি গুঁজে রাখেন।
- হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ: ‘এল ফ্লাকো’ (চিকন) নামে পরিচিত এই খেলোয়াড় যখন ব্রাজিলের ক্লাব পালমেইরাসে আসেন, তখন দেখতে খুবই রোগা ছিলেন। পরবর্তীতে একটি ব্যক্তিগত পুষ্টি ও ফিটনেস প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি ১০ কেজি মাসল মাস বাড়াতে সক্ষম হন।
- হুলিয়ান আলভারেজ: শৈশবে মাঠে এত দ্রুত দৌড়াতেন যেন মনে হতো তার আটটি পা আছে, তাই তাকে ‘লা আরানা’ (মাকড়সা) নাম দেওয়া হয়। পেশাদার ক্যারিয়ারেও ডাকনামটি থেকে গেছে এবং আলভারেজ গোল করার পর স্পাইডারম্যানের মতো ভঙ্গি করে উদযাপন করেন।
সূত্র: দ্য অ্যাথলেটিক








