২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবল শাসন করেছিল স্পেন। নিখুঁত ও দৃষ্টিনন্দন টিকি-টাকা স্টাইল দিয়ে তারা জিতেছিল একটি বিশ্বকাপ ও দুটি ইউরো। তবে ২০১৩ সালের কনফেডারেশনস কাপের ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর স্পেনের সেই চেনা ফুটবল ভোঁতা হতে শুরু করে। প্রতিপক্ষরা স্পেনের ছক ধরে ফেলায় পরবর্তী ইউরো ও বিশ্বকাপগুলোতেও ব্যর্থ হয় তারা। স্পেনের এই হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে আনতে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন দায়িত্ব দেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে।
খেলোয়াড় হিসেবে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের হয়ে দুবার লা লিগাজয়ী ফুয়েন্তের কোচিংয়ের ট্র্যাক রেকর্ড ছিল দুর্দান্ত। স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২১ দলকে ইউরো জেতানোর পাশাপাশি টোকিও অলিম্পিকে রুপা এনে দিয়েছিলেন তিনি। বড়দের দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৩ সালে নেশনস লিগ ও ২০২৪ সালে ইউরো জিতে এবার দলকে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন এই ৬৫ বছর বয়সী মাস্টারমাইন্ড। বর্তমানে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ইউরোপীয় দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ছুঁয়েছে স্পেন।
ফুয়েন্তে স্পেনের ঐতিহ্যবাহী বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে খেলায় গতি, দ্রুত আক্রমণ এবং প্রতিপক্ষের ফাঁকা জায়গা ব্যবহারের রণকৌশল যোগ করেছেন, যা টিকি-টাকা ২.০ নামে পরিচিত। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে পেড্রো পোরোর করা জয়সূচক গোলটি ছিল এই আধুনিক ঘরানার অন্যতম উদাহরণ।
জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক অলিভার কান স্পেনের এই পরিবর্তন নিয়ে বলেন, গত ১০-১২ বছরে ওরা টিকি-টাকাকে আরও উন্নত করেছে, কারণ দে লা ফুয়েন্তে এতে কিছু পরিবর্তন এনেছেন। তারা এখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক এবং ভার্টিক্যাল ফুটবল খেলছে। ১০ বছর আগের চেয়ে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক স্পেন।
আসরে স্পেনের পাসের নিখুঁততা ৯১ শতাংশ হলেও এবার তারা সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১২১টি স্প্রিন্ট এবং প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পথ দৌড়েছে।
আক্রমণের পাশাপাশি স্পেনের রক্ষণভাগও এবার দেয়ালের মতো শক্ত। ৭ ম্যাচে তারা গোল খেয়েছে মাত্র ১টি, ক্লিন শিট রেখেছে ৬টিতে।
ফুয়েন্তের বড় শক্তি তার অসাধারণ মানব-ব্যবস্থাপনা। স্পেনের যুব দলগুলোতে দীর্ঘ সময় কাজ করায় খেলোয়াড়দের তিনি খুব ভালো করে চেনেন। তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী সান্তান্তি দেনিয়া জানান, এই ধারাবাহিকতার কারণে দলের ভেতরের বোঝাপড়া ক্লাব ফুটবলের চেয়েও দারুণ হয়েছে। স্পেনের সাবেক অধিনায়ক ফার্নান্দো হিয়েরো বলেন, ওরা একটা নিবিড় পরিবারের মতো সময় কাটায় এবং আনন্দ করে, যা লুইসের পূর্বপ্রস্তুতিরই ফল।
দলের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে নিয়েও সতর্ক ফুয়েন্তে। মেসির সঙ্গে ইয়ামালের তুলনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লামিনেকে লামিনেরই মতো হতে হবে। মেসি অবিশ্বাস্য এক প্রতিভা এবং তরুণদের রোল মডেল। তবে লামিনেকে সাহায্য করার সেরা উপায় হলো তাকে সমর্থন দেওয়া, যাতে সে নিজের মতো খেলতে পারে।
আজকের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে ফুয়েন্তে বলেন, আমি বড় বড় কথা বলা পছন্দ করি না। জয় পাওয়ার মতো অবস্থানে থাকাটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমি প্রতি বছর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে হারতেও রাজি, কারণ এটিই দেখায় টুর্নামেন্টটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এখন লড়াই করে জেতার সুযোগ আছে এবং আমরা সেটাই করব।
মেসির আর্জেন্টিনার সামনে যেখানে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি, সেখানে স্পেনের সামনে সুযোগ এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা করার।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

যেভাবে আর্জেন্টিনাকে আবার বিশ্বসেরা বানালেন স্ক্যালোনি
বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন দেখছিলেন ঢাবি অধ্যাপক, ফাইনালের দিন যা বললেন
মেসিকে থামানোর উপায় জানালেন ইনিয়েস্তা






