ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনার প্রতীক হয়ে ওঠা লিওনেল মেসির নামের সঙ্গে ব্রাজিলকে একসঙ্গে কল্পনা করা কঠিন। কিন্তু শতাধিক বছর ধরে চাপা থাকা পারিবারিক রহস্য এবার সামনে এনেছে চমকে দেওয়া এক তথ্য। নতুন এক বংশানুসন্ধানভিত্তিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, মেসির এক পূর্বপুরুষের জন্ম হয়েছিল ব্রাজিলের সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যে। সেখান থেকেই পরবর্তীতে পরিবারটি পাড়ি জমায় আর্জেন্টিনায়। সেই যাত্রাপথেই বদলে যায় তাদের পারিবারিক নামের বানানও।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো জানিয়েছে, ইতালীয় গবেষক ফিওরেঞ্জো সানতিনি- যিনি বংশগত ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেন-কয়েক বছর ধরে মেসির পারিবারিক ইতিহাস নিয়ে কাজ করেছেন। বার্সেলোনায় মেসির ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ‘মেসি’ পদবির উৎস জানার আগ্রহ থেকেই তার এই গবেষণার শুরু।
গবেষণায় উঠে এসেছে, মেসির বাবার দিকের প্রপিতামহ অ্যাঞ্জেলো মেসি ১৮৯৩ সালে ইতালির রেকানাতি শহর ছেড়ে স্ত্রীকে নিয়ে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে চলে যান।
অন্যদিকে মায়ের দিকের প্রপিতামহ রানিয়েরি কুচ্চিত্তিনি ও তার স্ত্রী রোজা রিক্কেজা ১৮৯৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘ওয়াশিংটন’ নামের জাহাজে চড়ে ব্রাজিলের সান্তোস বন্দরে পৌঁছান। তাদের গন্তব্য ছিল সাও পাওলো অঙ্গরাজ্য।
ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, বিদেশি নাম লিখতে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর পরিবারের নামের বানানে পরিবর্তন আসে। সেই সময়ের অনেক অভিবাসী পরিবারের ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা ঘটতো।
পরিবারটি প্রথমে সাও পাওলোর রিনকাও অঞ্চলের একটি খামারে কাজ শুরু করে। পরে তারা রিবেইরাও প্রেতো শহরে চলে যায়। সেখানেই ১৯০৪ সালে জন্ম হয় পরিবারের দুই সন্তানের একজন আর্দিরিগোর।
আর্দিরিগোর জন্মের প্রায় এক বছর পর পরিবারটি ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় চলে যায় এবং রোজারিওর কাছে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
সেখানেই পরে জন্ম নেন মেসির নানা আন্তোনিও কুচ্চিত্তিনি, এরপর তার মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি। সবশেষে ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্ম হয় লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচ্চিত্তিনির।
গবেষক সানতিনি জানান, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চলা গবেষণার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, ইতালিতে কুচ্চিত্তিনি পদবির কোনো রেকর্ড নেই। পরে মেসির মায়ের আত্মীয়দের সহায়তা ও বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে তিনি জানতে পারেন, পরিবারের নাম ও বানানের পরিবর্তন হয়েছিল ব্রাজিলে অবস্থানকালে।
এই গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে ইতালির সান সেভেরিনো মারকে শহর মেসিকে তার পারিবারিক শিকড়ের সম্মান জানিয়ে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে।
গবেষণায় এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যে, ১৯০৫ সালে আর্জেন্টিনায় চলে যাওয়ার পর মেসির পরিবারের কেউ ব্রাজিলে থেকে গিয়েছিলেন।
তবে একটি প্রতীকী স্মৃতি এখনও রয়ে গেছে। ব্রাজিলের রিবেইরাও প্রেতো শহরের একটি সড়কের নাম ‘মার্তিনিকো প্রাদো’, যিনি সেই খামারের মালিক ছিলেন এবং সাও পাওলোতে থাকার সময় মেসির পূর্বপুরুষদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। সেই নাম আজও ব্রাজিলের মাটিতে মেসি পরিবারের অতীতের এক নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।









