এশিয়ান গেমস ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েরা কঠিন গ্রুপে পড়েছে। লাল সবুজ দলের প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার। তিন দলের বিপক্ষে লড়াইটা কঠিন হবে—তা মেনে নিয়েছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার। তবে এই কঠিন গ্রুপেই দলের উন্নতির সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি। তবে এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন না এই ইংলিশ কোচ।
গত জুলাইয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ফিরে আসার পর এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি শুরু করে বাংলাদেশ। রবিবার রাতে চীনের উদ্দেশে দেশ ছাড়বে দল। সেখানে ৭ ও ১০ সেপ্টেম্বর দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর জাপানে গিয়ে এশিয়ান গেমসে ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়া, ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া ও ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
এশিয়ান গেমসের আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তুতি ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন বাটলার। পদক জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘উত্তরটা হয়তো কিছুটা কঠিন শোনাবে, তবে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমরা এখনো পদক জয়ের মতো স্তরে পৌঁছাইনি।’
তবে এতে হতাশ হওয়ার কিছু দেখছেন না বাটলার। তার চোখে এশিয়ান গেমস বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য নিজেদের সীমাবদ্ধতা বোঝার বড় সুযোগ। তার ভাষায়, ‘চীনে খেলার সুযোগ পাওয়াটা দারুণ বিষয়। ভালো মানের দলের বিপক্ষে খেলার এমন সুযোগ আমাদের আরও বেশি প্রয়োজন।’
চীনে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন বাটলার। তার ভাষায়, গুয়াংজুর শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা হবে ভিন্ন শারীরিক সক্ষমতা ও কৌশলের বিপক্ষে নিজেদের পরখ করার সুযোগ। প্রস্তুতি ক্যাম্পে মেয়েদের কঠোর পরিশ্রমের কথাও জানান তিনি।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিপক্ষ মিয়ানমার—এমন ধারণার সঙ্গেও একমত নন বাটলার। তার মতে, তিনটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলেই বেশি শেখা যায়। মিয়ানমার বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলক বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ হলেও তাদের ফিফা র্যাঙ্কিং ৫০-৬০-এর মধ্যে—এ কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
কোরিয়া প্রসঙ্গে বাটলারের অবস্থান আরও স্পষ্ট। বড় ব্যবধানে হারলেও উত্তর কোরিয়া বা দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলতে তার আপত্তি নেই।
এদিকে, দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলেছেন বাফুফের উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ। অস্ট্রেলিয়া সফর, অলিম্পিক বাছাই এবং সর্বশেষ সাফে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার প্রসঙ্গে কোচের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কোচ চেষ্টা করেছে। তবে আরও ভালো করা উচিত ছিল।’
সাফে টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে সেই সুযোগ নষ্ট হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আলোচনায় আসে সাফের সময় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আলোচিত দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমির বিষয়টিও। তাকে আবার এশিয়ান গেমসের দলে রাখার কারণ জানতে চাইলে কিরণ বলেন, ‘এ বিষয়ে বাফুফের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।’ তদন্ত কমিটি কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় নওমির বিরুদ্ধে আপাতত কিছু নেই বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে বলে এমনটাই জানান কিরণ।









