ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি ঘিরে ব্যস্ততা বাড়ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ)। মাঠের অবস্থা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা, টিকিট ও দর্শকদের প্রবেশব্যবস্থাসহ সবকিছু নিয়েই চলছে সমন্বয়। এর মধ্যে টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা, আর সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। প্রতিটি টিকিটে দেখা যাবে দুটি ম্যাচ। আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সমন্বয় সভা করেছে বাফুফে ও সাফ। সভায় মাঠের কন্ডিশন, নিরাপত্তাব্যবস্থা, টিকিট ব্যবস্থাপনা এবং দর্শকদের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিয়ে আলোচনা হয়।
সভা শেষে সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কার্টেল বলেন, ‘দর্শকদের জন্য সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। মাঠের কন্ডিশন থেকে শুরু করে ইনার গেট, আউটার গেট ও ভিআইপি গেটের ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাফুফের সঙ্গে আমাদের মূল আলোচনা হয়েছে মাঠের কন্ডিশন, ম্যাচ, টিকিট, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ইনার-আউটার ও ভিআইপি গেট নিয়ে। অতিথিরা কীভাবে প্রবেশ করবেন, দর্শকরা কীভাবে নির্বিঘ্নে স্টেডিয়ামে ঢুকে খেলা উপভোগ করবেন-এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। দর্শকদের জন্য বিষয়গুলো কীভাবে যৌথভাবে সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিই ছিল মূল লক্ষ্য।’
সাফে এবার গ্যালারির টিকিটের দাম এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা দিয়ে করপোরেট বক্সের টিকিট কিনতে হবে। তবে এই টিকিটে দুটি ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন দর্শকেরা। টিকিটের দাম নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ থাকলেও সাফের পক্ষ থেকে পূর্ণ গ্যালারির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাফুফের কম্পিটিশন কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউস জানিয়েছেন, টিকিটের মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি সাফের এখতিয়ার। তিনি বলেন, ‘দুটি ম্যাচের জন্য টিকিটের মূল্য এক হাজার টাকা। দর্শকদের জন্য এটি কিছুটা চাপের হতে পারে। তবে টিকিটের বিষয়টি সাফের ওপর নির্ভর করে। এবার সাফই টুর্নামেন্টটি নিয়ন্ত্রণ করছে, আমরা বাফুফে থেকে সহযোগিতা করছি।’
টিকিটের দাম নিয়ে আলোচনা থাকলেও দর্শক উপস্থিতি নিয়ে আশাবাদী সাফ। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা সবসময়ই ম্যাচে পূর্ণ গ্যালারি থাকবে। আমরা সেটাই ধরে নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও পূর্ণ গ্যালারি থাকবে- এমনটা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
এবারের সাফে বিদেশি দর্শকদের ঢাকায় আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। সফরকারী দলগুলোর সমর্থকদের ভিসা পেতে সহযোগিতা করছে সাফ। সদস্য দেশগুলোর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তামূলক চিঠিও দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
সাফের এবারের আসরে ভারতের দল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সাফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশে আসবে। যেহেতু এটি টায়ার ওয়ান প্রতিযোগিতা, তাই ভারত যে দলই পাঠাক, সেটিকে তাদের প্রথম দল হিসেবেই বিবেচনা করবে সাফ।
টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলগুলোর অনুশীলনের জন্যও একাধিক মাঠ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ মাঠ, বুয়েট মাঠ, ৩০০ ফিট এলাকার একটি মাঠ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন মাঠ এবং কিংস অ্যারেনার বাইরের অনুশীলন মাঠ। দলগুলোর অনুশীলন মাঠ নির্বাচন ও ব্যবস্থাপনায় সাফের সঙ্গে সমন্বয় করছে বাফুফে।
জাতীয় স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। আগের ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার শুরু থেকেই বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গোলাম গাউস।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে নিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ অনেক বিষয় থাকে। আমাদের রাষ্ট্রপতি মহোদয়সহ অন্য অতিথিরাও আসবেন। এসব বিষয় নিয়ে সাফের সচিবের সঙ্গে আজ সমন্বয় সভা হয়েছে। আগে এভাবে সমন্বয় সভা হয়নি, আজ থেকেই শুরু হলো। সামনে প্রতিদিনই এ ধরনের সভা চলবে।’
সাম্প্রতিক সময়ে সিঙ্গাপুর ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগাতে চায় বাফুফে। প্রথম ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরের ম্যাচে আয়োজন আরও ভালো করা সম্ভব হয়েছিল উল্লেখ করে গাউস জানান, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সাফে দর্শকদের জন্য আরও ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী দিনে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাফুফের কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা যতটুকু শুনেছি, প্রথম দিন আমাদের মাননীয় রাষ্ট্রপতি ইনশাআল্লাহ উপস্থিত হবেন। সাফের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। আর ফাইনালের দিন হয়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকতে পারেন। বিষয়টি সাফের সঙ্গে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হবে।’
মাও সেতুংকে নিয়ে মন্তব্যের পর চীনে বিপাকে এমবাপ্পে