বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিরিজ জয়

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৪:৩৬, অক্টোবর ২৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩০, অক্টোবর ২৫, ২০১৮

কলামওয়ানডে সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ ছাড়াই জিতব এমন আত্মবিশ্বাস আগাগোড়াই ছিল। তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি জিম্বাবুয়েকে মানসিকভাবে হয়তো চাঙ্গা করতে পারে, কিন্তু তার কোনও ফায়দা ম্যাচ থেকে তারা আদায় করতে পারেনি একটুও।

দ্বিতীয় ম্যাচে যথেষ্ট ভালো ব্যাটিং সহায়ক পিচে জিম্বাবুয়ে দারুণ শুরু করেছিল। কিন্তু তার শেষটা মোটেও ভালো হয়নি, যা নাকি একটা দুর্বল দলের চারিত্রিক বহিঃপ্রকাশ। জিম্বাবুয়ের সেরা দুজন ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেলর ও সিকান্দার রাজা পিচে তাদের উপস্থিতি লম্বা করতে পারলে স্কোর ২৮০ থেকে ২৯০ হওয়া অসম্ভব ছিল না এবং একই সঙ্গে তৃতীয় পাওয়ার প্লে বা ডেথ ওভারে সেট ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বল করার চাপটা আমাদের বোলাররা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে সেটাও বোঝা যেত। প্রথম ম্যাচের চেয়ে কাল আমাদের বোলিং ইউনিটের উন্নতি চোখে পড়লেও প্রথম ২৫ ওভারে যথেষ্ট ধার ছিল না।

টস জেতার কারণে ভাগ্য আমাদের প্রতি আরও সহায় ছিল। আমাদের ব্যাটিংয়ের সময় হালকা কুয়াশাপড়তে শুরু করায় পিচের আচরণ আরও ব্যাটিং উপযোগী হয়ে যায়। তারই ফলশ্রুতিতে লিটন দাসের দারুণ টাইমিং সমৃদ্ধ চমৎকার ড্রাইভ ও নিখুঁত প্লেসমেন্টের কারণে বারবার বাউন্ডারির সীমানা অতিক্রম করে বল। ভালো লেগেছে যে তিনি তার অধিকাংশ ড্রাইভ মাটি গড়ানো শটে খেলেছেন। তবে এমন ম্যাচজয়ী সূচনা পাওয়ার পর দুজন ওপেনারের সেঞ্চুরি না পাওয়ার ব্যাপারটি তাদের দ্বিতীয় লক্ষ্য অর্জনে যথেষ্ট আন্তরিক মনে হয়নি।

বস্তুত যে কোনও ম্যাচে বড় দলের বিপক্ষে দুজন সেট ব্যাটসম্যানকে এভাবে হারালে কী হয়, এশিয়া কাপের ফাইনালই তার প্রমাণ। তাই ৭ উইকেটে ম্যাচ জেতার পরও ব্যাটিংয়ে এই বিষয়ে সেট ব্যাটসম্যানদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের আরও উন্নতি ঘটাতে হবে, আত্মতৃপ্তিতে ভুগলে চলবে না।

ফজলে রাব্বি নিশ্চয়ই একজন ভালো ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের তিন নম্বরে ব্যাট করার সুযোগ এই মুহূর্তে পাওয়া দারুণ ভাগ্যের ব্যাপার এবং কাল দলের এমন মজবুত অবস্থায়ও তাকে বেশ বিচলিত মনে হয়ছে। সিরিজ জেতায় তার ব্যর্থতা আলোচনায় উঠে আসবে না এবং শেষ ম্যাচেও তাকে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দারুণ শুরু করা মুমিনুল দুই ম্যাচেই খারাপ করলে দলে বা একাদশে রাখা হয় না, সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে রাব্বির একাদশ বা দলে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ দেখছি। শেষ ম্যাচটি খেলার সুযোগ তিনি যদি পান, তবে সেটা হবে তার জন্য লটারি জেতার সমান।

দ্বিতীয় ম্যাচের হালকা ঘাসের চাদর বিছানো পিচটির আচরণ আমার ভালো লেগেছে। দেশীয় কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু তার দায়িত্ব চট্টগ্রামে ভালোভাবেই পালন করেছেন। বল শট খেলার মতো গতি নিয়ে ব্যাটে এসেছে, বাউন্স ছিল ধারাবাহিক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আসন্ন সফরে চট্টগ্রামের এ উইকেট হবে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

গতকাল ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের একদিনের টাই হওয়া ম্যাচ যারা দেখেছেন, নিশ্চয়ই উপভোগ করেছেন কতটা চাপের মধ্যে ম্যাচের শেষ ১০ ওভারে লড়াই হয়েছে। জানতে পেরেছি ইতোমধ্যে ভারত থেকে একজন অভিজ্ঞ কিউরেটর যোগ দিয়েছেন বিসিবিতে, আশা করি  মিরপুর মাঠের পিচের উন্নতির দেখা মিলবে অচিরেই।

এই সিরিজ জেতায় মাশরাফি নিজে বিশ্রামে যেতে পারেন তৃতীয় ম্যাচে এবং নতুন একাধিক খেলোয়াড়কেও দলে সুযোগ দিতে পারেন। তবে তৃতীয় ম্যাচে টস জিতলে আগে ব্যাট করা উচিত। তাতে জিম্বাবুয়ের দুর্বল বোলিংয়ের বিপক্ষে আমরা সর্বোচ্চ কত রান করতে পারি বা কুয়াশা ভেজা বলে আমাদের লাইন লেন্থ কতটা নিখুঁত থাকে, সেটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরবর্তী সিরিজের আগে পরখ করে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ