দলের প্রত্যাশা পূরণ করলেন ব্যাটসম্যানরা

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২১:৫৮, নভেম্বর ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:০০, নভেম্বর ১২, ২০১৮

মিরপুরের পিচে ঘাস ছিল এবং জিম্বাবুয়ে দলে ছিল তিনজন পেস বোলার, এরপরও টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে দ্বিধা করেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা আনতে দল বদ্ধপরিকর, তাই আর্দ্রতা ভরা উইকেটে প্রতিপক্ষের তিন পেসারকে মোকাবিলায় ক্যালকুলেটিভ ঝুঁকি মাথায় নিয়ে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করেছে এবং চতুর্থ ইনিংসটি রেখে দিয়েছে জিম্বাবুয়ের জন্য।

দ্বিতীয় দিনের শেষে বলা যায় সার্বিকভাবে সফল হয়েছে বাংলাদেশের আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত। মুমিনুল ও মুশফিক বড় রানের ইনিংস খেলেছেন। ধুঁকতে থাকা মিডল অর্ডার তাদের আস্থা পুনরুদ্ধার করেছে। নতুন বলের মোকাবিলায় আমাদের টপ অর্ডার মোটেই স্বচ্ছন্দে ছিল না। পিচের থেকে প্রাপ্ত সাহায্য দারুণ লাইন ও লেন্থে বল করে প্রথম ও দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনের নিয়ন্ত্রণ ছিল জিম্বাবুয়ের দখলে। তাদের বলে গতির বিষ না থাকলেও তাদের চমৎকার লাইন ও লেন্থ ভালো প্রস্তুতির সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগমুহূর্তে। অফস্টাম্পের বাইরের বল ছাড়ার ব্যাপারে অনেক সর্তক ছিল ব্যাটসম্যানরা, তবে কাইল জার্ভিসের একটা বেশ বাইরের লিফটিং ডেলিভারিতে মাহমুদউল্লাহর আউট হওয়াটা বেমানান ছিল। হয় এই ধরনের বল তাকে ছাড়তে হবে, নইলে উইকেটের পেছনে বা মন্থর পিচে ব্যাটের কানায় লেগে সিলেট টেস্টের মতো বোল্ড হতে হবে। মাহমুদউল্লাহর হাত ও চোখের কো-অর্ডিনেশন দারুণ, তার সঙ্গে পেছনের পা যদি একটু ব্যাক একক্রস নিয়ে যান, তবে তিনি এসব বল টেস্টে আরও ভালোভাবে ছাড়তে পারবেন। আর একদিনের ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঝুঁকি ছাড়া খেলতে পারবেন। এত নামিদামি কোচ থাকার পর একই চ্যানেলে বারবার মাহমুদউল্লাহর মূল্যবান উইকেটের পতন দেখতে ভালো লাগে না।

সকালের সেশন ছাড়া বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের তেমন স্কিলের পরীক্ষা দিতে হয়নি। তবে ব্যাট হাতে ভালো টেম্পারমেন্ট দেখিয়েছেন সবাই। মুশফিকের স্কিলের পরীক্ষা পুরোটা প্রতিপক্ষ নিতে না পারলেও তার ইনিংসটাকে অনেক বড় করার প্রত্যয় ও টেম্পারমেন্টই বাংলাদেশের ইনিংসকে ৫২২-এ নিয়ে গেছে বা অনায়াসে ১৬০ ওভার পর্যন্ত পিচের দখল সুনিশ্চিত করেছে। অসাধারণ একটি ইনিংস তিনি খেলেছেন এবং দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সতর্ক ছিলেন মুশফিক বল নির্বাচনের ব্যাপারে।

মেহেদী হাসান মিরাজ তার স্বভাবসুলভ ক্রিকেট খেলেছেন। হেড কোচ যদি তার ব্যাটিং অনুশীলনের দিকে নজর দেন, তাহলে চাহিদা অনুযায়ী আরও একজন বোলার দলে সংযোজনের সুযোগ ছিল।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে জার্ভিস দারুণ বল করেছেন। ১৩০ কিলোমিটার কম-বেশিতে বল করেন তিনি। দুর্দান্ত গতি না থাকলেও লাইন ও লেন্থের ওপর নির্ভর করেও যে দলের সেরা বোলার হওয়ায় যায়, তার প্রমাণ ঢাকা টেস্টে রাখলেন তিনি। জিম্বাবুয়ের স্পিন বোলিং ইউনিট খুবই অনভিজ্ঞ ও সাদামাটা হওয়ায় পেস বোলিং ইউনিটকে যোগ্য সমর্থন দিতে পারেনি। সর্বপরি, অধিনায়ক মাসাকাদজা আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক ফিল্ডিং প্লেসমেন্টে খুব ভুল করেছেন, সেই সুবাদে অনেক চার তিনি বাঁচাতে পারেননি।

জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা বল ছাড়ার ব্যাপারে যথেষ্ট মনোযোগী, তাই তাদের খেলতে বাধ্য করানোর জন্য অফস্টাম্পের লাইনে আরও বেশি বল করা উচিত ছিল মোস্তাফিজের। এক পর্যায়ে রাউন্ড দ্য উইকেটে বল করে সেটি করার চেষ্টাও করেছেন। হাতে গোনা কয়েকটি ডেলিভারি ছাড়া বাকি বলগুলোতে তেমন বেগ পেতে হয়নি। তরুণ খালেদ আহমেদ সম্পর্কে আরেকটু সময় নিয়ে মতামত দিতে চাই। উত্তেজনার কারণে সম্ভবত প্রথম ওভারটিতে লেন্থ ও লাইনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তবে তার রান-আপ ও উচ্চতা বলে দেয় তিনি প্রতিশ্রুতিশীল। খালেদকে অনুপ্রাণিত করার জন্য স্লিপে সহজ ক্যাচটি ধরা উচিত ছিল। মিঠুনের হাতের ক্যাচটির ওপর আরিফুলের ঝাঁপিয়ে পড়াটা ছিল পুওর জাজমেন্ট।

স্লিপে সাধারণত দলের অভিজ্ঞ ও প্রথম একাদশের নিয়মিত সদস্যরাই সচরাচর দাঁড়ায়, কেন জানি না বাংলাদেশ দলে এর ব্যতিক্রম দেখি প্রায়শই। আজ (সোমবার) ছিলেন জীবনের প্রথম ও দ্বিতীয় টেস্ট খেলা মিঠুন ও আরিফুল। অনেক হেড কোচ আসলেন এবং চলেও গেলেন, কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গায় ক্যাচ ধরার জন্য বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাউকেই গড়লেন না।

সিলেট টেস্টে লিটন-মিরাজ-শান্তরা যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন ক্লোজিং পজিশনে। ঢাকা টেস্টেও প্রাপ্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে ক্লোজিং ফিল্ডম্যানদের। তবে আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকালে প্রথম ১০ ওভারে সিমাররা একাধিক উইকেট তুলতে না পারলে জিম্বাবুয়েও একটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে। তৃতীয় দিনও পিচ সম্ভবত ব্যাটসম্যানদের পক্ষেই কথা বলবে।

/কেআর/

লাইভ

টপ