সাজা নয়, সাঞ্চোদের প্রাপ্য প্রশংসা

Send
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৩:০৮, জুন ০৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:২০, জুন ০৪, ২০২০

সাঞ্চোজর্জ ফ্লয়েড হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে যেভাবে ফুঁসে উঠেছে সারাবিশ্বের মানুষ, তাতে জ্যাডেন সাঞ্চোসহ চার ফুটবলারকে শাস্তি দেওয়ার সাহস পাচ্ছে না বুন্দেসলিগা। বুধবার জার্মান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ফ্লয়েড হত্যার ন্যায়বিচারের দাবিতে  সাঞ্চোরা সোচ্চার হয়েছেন বলেই তাদের কোনও শাস্তি হবে না।

৩১ মে জার্মানির বুন্দেসলিগায় জ্যাডেন সাঞ্চোর হ্যাটট্রিকে ৬-১ গোলে প্যাডারবর্নকে উড়িয়ে দিয়েছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। ম্যাচ শেষে ২০ বছর বয়সী ‘ফুটবল সেনসেশনে’র হ্যাটট্রিকটা আড়াল হয়ে গেছে তার গোল উদযাপনের ভঙ্গিমায়। ম্যাচে প্রথম গোলটি করেই আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গ পুলিশের নির্যাতনে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডর্টমুন্ডের ইংলিশ উইঙ্গার। জার্সি খুলে ভেতরের গেঞ্জিতে লেখা ‘জাস্টিস ফর জর্জ ফ্লয়েড’ শ্লোগানটির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিশ্ববাসীর। অর্থাৎ ফ্লয়েড হত্যার ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছেন। তবে জার্সি খোলার অপরাধে হলুদ কার্ডও দেখতে হয়েছে সঙ্গে সঙ্গেই।

পরের দিন বোঝা গেল বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি)। সাজা হতে পারে সাঞ্চোসহ এ ম্যাচে তার সহখেলোয়াড় ও আরেক গোলদাতা আশরাফ হাকিমি এবং আগের দুই ম্যাচের গোলদাতা শালকের ওয়েলকন ম্যাককেনি ও বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের মার্কাস থুরামের। ফিফা আইনে ম্যাচের মধ্যে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায়, কিন্তু  রাজনীতিকে সমর্থন দেওয়া যায় না। সাঞ্চো, হাকিমি, ম্যাককেনি ও থুরামের বক্তব্য তো পুরোপুরি রাজনৈতিক!

কিন্তু দুদিন পরই ১৮০ ডিগ্রি উল্টে গেল কেন ডিএফবি? গেল আসলে ফিফার অবস্থানের কারণে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মঙ্গলবার ডিএফবির কাছে  বার্তা পাঠান, ‘খেলোয়াড়েরা যেভাবে প্রতিবাদ করেছে, তাতে তাদের শাস্তি নয়, বরং প্রশংসাই প্রাপ্য। আমাদের সবাইকে বর্ণবাদ ও যেকোনও ধরনের বৈষম্যকে না বলতে হবে।’

ডিএফবির সভাপতি ফ্রিট্জ কেলার পরদিন কথা বলেছেন ইনফান্তিনোর সুরেই, ‘ডিএফবি দৃঢ়ভাবে সব ধরনের বর্ণবাদ, বৈষম্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ধৈর্য, উদারতা এবং বৈচিত্র্যের পক্ষে কথা বলে। সুতরাং এই খেলোয়াড়েরা যা করেছে তার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা আছে।’

ভবিষ্যতে মেসির জুতোয় পা কে গলাবে সেটি নিয়ে ফুটবলবোদ্ধাদের মধ্যে জল্পনা এখন তুঙ্গে। তবে সাঞ্চো যে অন্যতম ‘প্রার্থী’, তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ সামান্যই।  দুই উইংয়ে খেলতে পারেন সমানভাবে। গোল করতে পারেন, করাতে পারেন। ঠিক মেসির মতো। এ মৌসুমে ২৭ ম্যাচ খেলে ৩৪টি গোলে অবদান রেখেছেন, গোল ও অ্যাসিস্ট সমান ১৭টি করে। ক্যারিয়ারে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছেন এদিন, এটিই সাঞ্চোকে আলোচনায় রাখার জন্য ছিল যথেষ্ট। কিন্তু কোথায় কী! হ্যাটট্রিক ঢাকা পড়ে গেলো ওই উদযাপনে, বলা ভালো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে।

খেলা থেকে ফোকাসটা সরে যাবে না তো সাঞ্চোর? ত্রিনিদাদ বংশোদ্ভুত ইংলিশ তরুণের মধ্যে ফুটবল প্রতিভার আগুন তো আছেই, আরেকটি আগুনও দেখাতে পাচ্ছেন অনেকে। যে আগুন জ্বালিয়ে দেয় মানবিকতার আলো আর পুড়িয়ে ফেলে বৈষম্যের জঞ্জাল।

 

/পিকে/

লাইভ

টপ