‘দ্বিতীয় বাড়ি’ থেকে জিতেই কাঠমান্ডু ফিরতে চান বালগোপাল

Send
তানজীম আহমেদ
প্রকাশিত : ২১:৩৪, অক্টোবর ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৩, অক্টোবর ২৮, ২০২০

বালগোপাল মহারাজন, নেপালের ভারপ্রাপ্ত কোচনেপালের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের ফুটবল দ্বৈরথে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে। সর্বশেষ দুটি ম্যাচেই হেরেছে জেমি ডের ছাত্ররা। ২০১৮ সাফ ফুটবলে নিজেদের মাঠে গ্রুপ পর্বে ২-০ গোলে হার। পরের বছর কাঠমান্ডু এসএ গেমসে হারতে হয়েছে ১-০ গোলে। দুটি ম্যাচেই হিমালয়ের দেশটির কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন একসময় বাংলাদেশে খেলে যাওয়া বালগোপাল মহারাজন। আসন্ন দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে তার হাতেই থাকছে নেপাল দলের ভার। দুটি ম্যাচেই আগের জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাইছেন সাবেক মিডফিল্ডার।

তবে বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে দুটি দলই যে একই সমান্তরালে আছে তা সেটি অস্বীকার করেননি ৪৮ বছর বয়সী কোচ। বাংলাদেশ দল গত শনিবার থেকে অনুশীলন শুরু করেছে। সেই জায়গায় নেপাল কিছুটা পিছিয়ে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে মাঠে নামতে যাচ্ছে তারা। সুইডিশ কোচ ইয়োহান কালিনেরই কোচ হয়ে ঢাকায় অসার কথা ছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ কারণে সুইডিশ কোচ কাঠমান্ডুতে আসতে পারেননি। তাই বালগোপালই ভরসা।

আগে যেমনই থাক, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে তেমন কোনও পার্থক্য এখন দেখছেন না বাল গোপাল। হোয়াটসঅ্যাপে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন,‘এই মুহুর্তে আমি তো তেমন পার্থক্য দেখছি না। দুই দলই কোভিডের পর প্রথম ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে। দুই দলের খেলোয়াড়েরাই অনুশীলনে ছিলো না অনেকদিন। এখন সবারই মাঠে নতুন করে পরীক্ষা হবে। আমি মনে করি ম্যাচ দুটি ৫০-৫০ হবে। মাঠের লড়াইয়ে যারা গোলের সুযোগ গুলো কাজে লাগাতে পারবে তারাই জয় পাবে।’ তবে দুটি ম্যাচেই জয়ের আশায় আছেন বালগোপাল। বাংলাদেশ থেকে এবারও জিতে ফেরাই তার বাসনা,‘বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে এবারও আমরা জিততে চাই। আগের দু’বারের মুখোমুখিতে আমরা জিতেছিলাম। তবে এমনিতেই দল দুটির মধ্যে বড় কোনও পার্থক্য নেই। টেকনিক্যাল-ট্যাকটিকাল দুই দিকেই প্রায় সমানে সমান। তবে আগের খেলা দেখে মনে হয়েছে বাংলাদেশের মিডফিল্ড একটু ভালো। গোছানো। তাদের বল ডিস্ট্রিবিউশন দেখার মতো।’ বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার কথা আলাদা করে বললেন নেপালের ভারপ্রাপ্ত কোচ,‘আপনাদের অধিনায়ক বেশ ভালো খেলে। এছাড়া আমাদের বিমল ঘাটতির সঙ্গে হল্যান্ডের ক্লাবে ট্রায়ালে যাওয়া (হেমন্ত ভিনসেন্ট)ফুটবলারটিও অনেক প্রতিশ্রুতিশীল।’

ফিফা র‌্যাংঙ্কিংয়ে নেপাল এগিয়ে, ১৭০তম স্থানে। ১৩ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ১৮৭। র‌্যাঙ্কিংটা আরও কমিয়ে আনার রসদ জোগাড় করতে চান বালগোপাল ঢাকায়,‘আমরা চাইবো ম্যাচ জিতে র‌্যাঙ্কিং এগিয়ে নিতে। তবে কাজটি যে সহজ হবে না তা আমরা জানি।’ একসময় নেপাল থেকে গনেশ থাপা, রাজু শাক্য, হরি খড়কা ও বালগোপাল বাংলাদেশের দেশের ঘরোয়া ফুটবলে খেলে গেছেন। বালগোপাল ২০০১ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত ব্রাদার্স ইউনিয়নে খেলেছেন। চার বছর আগে কমলা জার্সিধারীদের কোচও ছিলেন কিছুদিনের জন্য। বাংলাদেশ তার জন্য পয়মন্তও।

দেশের বাইরে নেপাল প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতেছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের শিরোপা জিতে, ২০১৬ সালে। সেই দলের কোচ ছিলেন বালগোপাল। বাংলাদেশ তার কাছে অনেকটা ‘দ্বিতীয় বাড়ি’র মতোই। বালগোপাল নিজেই বলেছেন,‘বাংলাদেশ আমি খেলেছি। কোচিং করিয়েছি। এখানে আমি দেশের হয়ে সাফল্যও পেয়েছি। এখানকার মানুষজন বেশ ভালো। তারা সহজেই আপন করে নিতে পারে। অনেক বন্ধু-বান্ধব আছে। তাই বাংলাদেশে গেলে মনে হয় আমার নিজের দেশেই আছি। অনেকটা দ্বিতীয় বাড়ির মতো।’

আগামী ৫ নভেম্বর চার্টার্ড বিমানে করে নেপাল দলের ঢাকায় আসার কথা। পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে দলকে এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবেন। বালগোপালের আশা, এবারও তার ছাত্ররা তাকে হতাশ করবে না। দুটি ম্যাচ জিতেই কাঠমান্ডুতে ফিরে যেতে পারবেন। তবে স্বাগতিক বাংলাদেশ সেটি হতে দিলেই হয়!

 

/টিএ/পিকে/

লাইভ

টপ