মেটার নতুন ভিআর হেডসেট কি অ্যাপলের ভিশন প্রোর প্রতিদ্বন্দ্বী?

প্রযুক্তি ডেস্ক
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২০ আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২০

চোখে হেডসেট, পকেটে ছোট একটি কম্পিউটিং প্যাক। সামনে দেখা যাচ্ছে ভার্চুয়াল কিবোর্ড, পাশে ট্র্যাকপ্যাড। চাইলে ইমার্সিভ ভিডিও দেখা যাচ্ছে, আবার একই ডিভাইস দিয়ে অফিসের কাজ, ওয়েব ব্রাউজিং, গেম খেলা কিংবা ভিডিও কনফারেন্সও করা যাচ্ছে। এমন অভিজ্ঞতা নিয়েই অ্যাপলের ভিশন প্রোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নতুন ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) হেডসেট এনেছে মেটা।

নতুন ডিভাইসটির নাম মেটা ভিআর গ্লাসেস। দাম ১ হাজার ২৯৯ ডলার। দামের পাশাপাশি ওজনেও এটি অ্যাপলের ভিশন প্রোর চেয়ে অনেকটাই কম। তবে শুধু দাম কম হলেই কি অ্যাপলের ভিশন প্রোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব? মেটার নতুন হেডসেটের নকশা, ব্যাটারি, ডিসপ্লে ও ব্যবহারের সুবিধাগুলো দেখলে বিষয়টি কিছুটা পরিষ্কার হয়।

হেডসেটের ভার কম, কম্পিউটার পকেটে

নতুন হেডসেটটির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এর নকশায়। সাধারণভাবে হেডসেটের ভেতরেই প্রসেসর, কুলিং ফ্যান, ব্যাটারি ও অন্যান্য কম্পিউটিং যন্ত্রাংশ থাকে। মেটা এবার সেগুলো হেডসেটের বাইরে নিয়ে গেছে।

এসব যন্ত্রাংশ রাখা হয়েছে আলাদা একটি প্যাকে। সেটি পকেটে ক্লিপ করে রাখা যাবে, আবার টেবিলের ওপরও রাখা যাবে। ফলে হেডসেটটির ওজন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ গ্রামে। অ্যাপলের ভিশন প্রোর তুলনায় এটি প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ এবং মেটার কোয়েস্ট ৩এসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের সময় এই হালকা নকশা বেশ আরামদায়ক বলে প্রদর্শনীতে দেখা গেছে।

অর্থাৎ মেটার নতুন ডিভাইসে মাথায় থাকা অংশটিকে যতটা সম্ভব হালকা রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কম্পিউটিংয়ের ভার চলে গেছে পকেটের প্যাকে।

ভিশন প্রোর অনেক সুবিধাই থাকছে

ব্যবহারের ক্ষেত্রে মেটার নতুন হেডসেটটি ভিশন প্রো ও কোয়েস্ট সিরিজের বেশ কিছু সুবিধা এক জায়গায় নিয়ে এসেছে। এতে ইমার্সিভ ভিডিও দেখা যাবে। অফিসের কাজ করা যাবে। ম্যাক বা পিসির বাইরের মনিটর হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। রয়েছে ওয়েব ব্রাউজিং, গেম খেলা ও ভিডিও কনফারেন্সের সুবিধা। এর সঙ্গে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টও থাকছে।

দামের জায়গায় অবশ্য বড় পার্থক্য আছে। মেটা ভিআর গ্লাসেসের দাম ১ হাজার ২৯৯ ডলার। অন্যদিকে অ্যাপলের ভিশন প্রোর দাম ৩ হাজার ৬৯৯ ডলার। অর্থাৎ মেটার নতুন হেডসেটটির দাম ভিশন প্রোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

তবে মেটার নিজের কোয়েস্ট ৩-এর তুলনায় এটি বেশ ব্যয়বহুল। কোয়েস্ট ৩-এর দাম ৫৯৯ ডলার, অর্থাৎ নতুন হেডসেটটির দাম এর দ্বিগুণেরও বেশি।

ব্যাটারিতেও কিছুটা এগিয়ে

একবার চার্জে মেটা ভিআর গ্লাসেস প্রায় তিন ঘণ্টা চলবে। এটি ভিশন প্রোর চেয়ে কিছুটা বেশি। আবার কোয়েস্ট ৩-এর তুলনায় সর্বোচ্চ দ্বিগুণ ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে পারে। চাইলে ডিভাইসটি সবসময় চার্জে রেখেও ব্যবহার করা যাবে।

হেডসেটের ভেতর থেকে ব্যাটারি সরিয়ে আলাদা প্যাকে রাখার নকশার সঙ্গে এই ব্যবস্থাটিও যুক্ত। ফলে ব্যবহারকারীর মাথায় থাকা ডিভাইসটি হালকা রাখা সম্ভব হয়েছে।

ডিসপ্লেতে ভিশন প্রো এগিয়ে

তবে সব জায়গায় মেটা এগিয়ে নেই। ডিসপ্লের দিক থেকে অ্যাপলের ভিশন প্রো এগিয়ে। মেটার নতুন হেডসেটে প্রতি চোখের জন্য প্রায় ২.৫কে রেজল্যুশনের ডিসপ্লে রয়েছে। ভিশন প্রোতে রয়েছে ৪কে রেজল্যুশন। তবে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে লেখা ও গ্রাফিকস যথেষ্ট স্পষ্ট দেখা গেছে। প্রদর্শনীতে দুই ডিভাইসের পার্থক্য খুব বেশি চোখে পড়েনি।

মেটার নতুন হেডসেটে কোয়ালকমের নতুন স্ন্যাপড্রাগন রিয়েলিটি এলিট প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে।

এবার ভার্চুয়াল অবতারও আরও বাস্তব

নতুন হেডসেটের অন্যতম বড় সুবিধা ভিডিও কনফারেন্সিং। হোলোগ্রাম প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ব্যবহারকারীর একটি ভার্চুয়াল সংস্করণ তৈরি করা যাবে।

প্রদর্শনীতে তৈরি করা ভার্চুয়াল অবতারকে ব্যবহারকারীর সঙ্গে প্রায় একই রকম দেখিয়েছে। মেটার আগের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অবতারের তুলনায় এটি বড় ধরনের পরিবর্তন। এই সুবিধা পরে ডিসপ্লেযুক্ত মেটার রে-ব্যান স্মার্ট গ্লাসেও আসবে।

টেবিলের ওপরই ভার্চুয়াল কিবোর্ড

মেটার নতুন হেডসেটে টাচ টাইপিংয়ের সুবিধাও রয়েছে। হেডসেটটি টেবিলের ওপর ভার্চুয়াল কিবোর্ড ও ট্র্যাকপ্যাড দেখাতে পারে। ফলে কম্পিউটারের মতো টাইপ করা যাবে।

আগের কোয়েস্ট হেডসেট ও ভিশন প্রোতে বাতাসের ওপর ভার্চুয়াল কিবোর্ড ব্যবহারের সুবিধা ছিল। নতুন ডিভাইসে টেবিলের ওপর কিবোর্ড দেখিয়ে টাইপ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রদর্শনীতে এই অভিজ্ঞতা আইপ্যাডে টাইপ করার মতোই দ্রুত বলে মনে হয়েছে।

দাম ও অভিজ্ঞতার হিসাব

একদিকে অ্যাপলের ভিশন প্রোর ৩ হাজার ৬৯৯ ডলারের দাম, অন্যদিকে মেটার নতুন হেডসেটের ১ হাজার ২৯৯ ডলার। ওজনের পার্থক্যও বড়। মেটার ডিভাইস প্রায় ১০০ গ্রাম, কারণ এর প্রসেসর, ব্যাটারি ও অন্যান্য কম্পিউটিং যন্ত্রাংশ আলাদা প্যাকে রাখা হয়েছে।

আবার ডিসপ্লের রেজল্যুশনে ভিশন প্রো এগিয়ে। মেটার নতুন ডিভাইসেও ইমার্সিভ ভিডিও, অফিসের কাজ, বাইরের মনিটর হিসেবে ব্যবহার, ওয়েব ব্রাউজিং, গেম ও ভিডিও কনফারেন্সের মতো সুবিধা রয়েছে।

মেটার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই দামের কারণে হেডসেট বিক্রি করে প্রতিটি ডিভাইসে লোকসান না করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে ভিআরকে লাভজনক একটি প্রযুক্তি ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে মেটার।

তাই মেটার নতুন ভিআর হেডসেটকে অ্যাপলের ভিশন প্রোর সঙ্গে তুলনা করার জায়গাটা শুধু কে বেশি শক্তিশালী, সেই প্রশ্নে আটকে থাকছে না। দামের পার্থক্য, ওজন, ব্যাটারি, ডিসপ্লে এবং ব্যবহারের অভিজ্ঞতা; সব মিলিয়েই তৈরি হচ্ছে নতুন প্রতিযোগিতার জায়গা।

/জেএ/ইউএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
খেলনা ট্রেনে নীলগিরির সেরা দৃশ্য দেখবেন যেভাবে
খেলনা ট্রেনে নীলগিরির সেরা দৃশ্য দেখবেন যেভাবে
১০০ পদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ, আবেদন ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত
১০০ পদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ, আবেদন ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত
ময়মনসিংহে ডেঙ্গুতে ২৩ জনের মৃত্যু, ভয়াবহতার কারণ কী
ময়মনসিংহে ডেঙ্গুতে ২৩ জনের মৃত্যু, ভয়াবহতার কারণ কী
ফিফা আসিয়ান কাপে আজ মালয়েশিয়ার সামনে বাংলাদেশ, ম্যাচ দেখবেন কোথায়? 
ফিফা আসিয়ান কাপে আজ মালয়েশিয়ার সামনে বাংলাদেশ, ম্যাচ দেখবেন কোথায়? 
সর্বাধিক পঠিত
চাকরি পাওয়ার খুশিতে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে জড়ালেন হত্যা মামলায়
চাকরি পাওয়ার খুশিতে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে জড়ালেন হত্যা মামলায়
দেশে জ্বালানি তেলের দাম কখন কমবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
দেশে জ্বালানি তেলের দাম কখন কমবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে
স্লিপার বাসে ‘পোড়া গন্ধ’ পেয়েও থামাননি চালক, আগুনে প্রাণ হারালেন ৯ জন 
স্লিপার বাসে ‘পোড়া গন্ধ’ পেয়েও থামাননি চালক, আগুনে প্রাণ হারালেন ৯ জন 
‘রসুনের নগরী’ হিসেবে পরিচিত যে শহরটি
‘রসুনের নগরী’ হিসেবে পরিচিত যে শহরটি