ল্যাবরেটরির বিশেষায়িত সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের সম্পৃক্ততা ছাড়াই শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম ও শারীরিক সক্ষমতা পরিমাপের সুযোগ দিতে নতুন ধরনের শ্বাস বিশ্লেষণ মাস্ক আনছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পিএনওই। প্রতিষ্ঠানটি ১ অক্টোবর নতুন ‘পিএনওই ২.০’ বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাস্কটির মাধ্যমে জিম বা ফিটনেস সেন্টারে ব্যবহারকারী নিজেই পরীক্ষা করতে পারবেন। এ জন্য মাস্কটি মুখে পরার পর শুধু একটি বোতাম চাপ দিয়ে প্রায় আট মিনিট স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিলেই পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
নতুন মাস্কটি ব্যবহারকারীর নিশ্বাস-প্রক্রিয়ায় গৃহীত অক্সিজেন এবং প্রশ্বাসের সঙ্গে বের হওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে শরীর কীভাবে শক্তি ব্যবহার করছে, সে সম্পর্কে তথ্য দেবে। পিএনওই-এর দাবি, এই পরীক্ষায় মোট ২৩টি বায়োমার্কার পরিমাপ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ অক্সিজেন ব্যবহারের সক্ষমতা বা ভিও২ ম্যাক্স, বিশ্রামের সময় শরীরের ক্যালরি খরচ বা রেস্টিং মেটাবলিক রেট এবং শক্তির উৎস হিসেবে শরীর কতটা দক্ষতার সঙ্গে চর্বি ও কার্বোহাইড্রেটের মধ্যে পরিবর্তন করতে পারে, সেই সক্ষমতাকে ‘মেটাবলিক ফ্লেক্সিবিলিটি’ বলা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সংস্করণ ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজন হয়। নতুন সংস্করণে সেই প্রয়োজন দূর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অ্যাপোস্টোলোস আতসালাকিসের ভাষ্য, ব্যবহারকারীকে শুধু মাস্ক পরে একটি বোতাম চেপে প্রায় আট মিনিট শ্বাস নিতে হবে। এতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী ছাড়াই পরীক্ষা চালানো সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে ফার্মেসিতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।
পিএনওই ২.০ আগের সংস্করণের তুলনায় ছোট এবং এতে যন্ত্রাংশও কম রাখা হয়েছে। ইলেকট্রনিক অংশটি সিলিকন মাস্ক ও স্ট্র্যাপ থেকে আলাদা করা যায়। ফলে মূল যন্ত্রটি একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারবেন এবং প্রত্যেকের জন্য আলাদা মাস্ক ব্যবহার করা যাবে। এভাবে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার পাশাপাশি একই যন্ত্র দিয়ে একাধিক ব্যবহারকারীর পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে মাস্কটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) অনুমোদিত চিকিৎসা সরঞ্জাম নয়। পিএনওই এটিকে চিকিৎসা-সংক্রান্ত রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র হিসেবে নয়, বরং স্বাস্থ্য ও সুস্থতা পর্যবেক্ষণের ‘ওয়েলনেস’ ডিভাইস হিসেবে বাজারজাত করছে। তাই এর মাধ্যমে পাওয়া পরীক্ষার ফলের উপর ভিত্তি করে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা শুরু বা ওষুধ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণ করে রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করার বিষয়ে গবেষণা চালাতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে রোগ নির্ণয়ের কাজে প্রযুক্তিটি ব্যবহারের আগে আরও গবেষণা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন আতসালাকিস।
পিএনওই বর্তমানে মূলত বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এই সেবা দিচ্ছে। ইকুইনক্স, ফোর সিজনস, রেড বুল, এনবিএ, মাউন্ট সিনাই হেলথ সিস্টেম ও রিস্টোর হাইপার ওয়েলনেসের মতো প্রতিষ্ঠান এর গ্রাহক। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি ৪০০ ডলার থেকে ১ হাজার ডলারের বেশি ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে যন্ত্র, সফটওয়্যার, প্রশিক্ষণ ও বিপণন সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পিএনওই জানিয়েছে, তাদের মোট ব্যবসার প্রায় ৮৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র-কেন্দ্রিক। পাশাপাশি ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার বাজারেও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত এক বছরে ব্যবসা ১০০ শতাংশের বেশি হারে বেড়েছে এবং সম্প্রতি তারা লাভজনক অবস্থায় পৌঁছেছে।