উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানবজাতির জন্য ‘বিপর্যয়কর বা অস্তিত্বের সংকট’ তৈরি করতে পারে- এমন সতর্কবার্তা নিয়ে আইপিওর মাধ্যমে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সাবধান করার পরিকল্পনা করছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। একই প্রযুক্তি থেকে মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করা কোনও কোম্পানির পক্ষ থেকে এমন সতর্কবার্তা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
রয়টার্সের পর্যালোচনা করা কোম্পানির আইপিও প্রসপেক্টাসে তাদের এআই মডেলগুলোর সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই মডেলগুলো ‘আত্মরক্ষামূলক আচরণ’ প্রদর্শন করতে পারে। যার মধ্যে শাটডাউন বা বন্ধ করার প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা, তথ্য গোপন বা কারসাজি করা এবং ‘ব্ল্যাকমেলের মতো’ আচরণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ফাইলিংয়ে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, আমাদের অত্যন্ত উন্নত মডেল, প্ল্যাটফর্ম এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলোর বিকাশ, ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ব্যবহারের পরিধি প্রসারিত হওয়ায় মডেলগুলোর কারণে ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।
পাবলিক কোম্পানিগুলো নিয়মিতভাবেই তাদের বিনিয়োগকারীদের পণ্যের ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করলেও, তাদের প্রযুক্তি মানব বিলুপ্তির কারণ হতে পারে- এমন সতর্কবার্তা খুব কম কোম্পানিই দিয়েছে। অ্যানথ্রপিক এআইয়ের রূপান্তরকারী সম্ভাবনার পাশাপাশি এটিকে ভুলভাবে পরিচালনা করা হলে তা যে অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে, উভয় বিষয়টির ওপরই জোর দিয়েছে। ওপেনএআইসহ অন্যান্য এআই ডেভেলপারদের মতো অ্যানথ্রপিকও এমন কিছু ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে যেখানে পরীক্ষামূলক সিস্টেমগুলো সীমাবদ্ধতা অমান্য করেছে।
নিরাপত্তাকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের ২৬১ পৃষ্ঠার মূল প্রসপেক্টাসের প্রায় ৮০ পৃষ্ঠাজুড়ে ঝুঁকিগুলো তুলে ধরেছে, যা তাদের ব্যবসা বর্ণনা করতে ব্যবহৃত ৪৮ পৃষ্ঠার প্রায় দ্বিগুণ। তুলনামূলকভাবে, এক্সএআই-এর মূল মালিক স্পেসএক্স তাদের ২৭৭ পৃষ্ঠার প্রসপেক্টাসের মাত্র ৩৮ পৃষ্ঠা ঝুঁকি সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য উৎসর্গ করেছিল।
প্রসপেক্টাসে অ্যানথ্রপিক আরও উল্লেখ করেছে, এআই নিরাপত্তা গবেষণায় বিনিয়োগের রিটার্ন বা সুফল কতটা পাওয়া যাবে, তা এখনও অনিশ্চিত। তবে নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ এআই সিস্টেম গড়ে তোলা একটি সম্মিলিত দায়িত্ব এবং বাজার এর যথাযথ মূল্যায়ন করবে বলে তারা বিশ্বাস করে।
সূত্র: রয়টার্স
ট্রুকলারে এক ক্লিকেই যাচাই করা যাবে সন্দেহজনক লিংক ও মেসেজ