X
সোমবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ৩ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

টাওয়ার কোম্পানি ইডটকোর ওপর আসছে বিধিনিষেধ

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৩০

টাওয়ার সংখ্যা, আয় ও বাজার নিয়ন্ত্রণের হার অন্য সবার চেয়ে অস্বাভাবিক বেশি হওয়ায় মোবাইল ফোন টাওয়ার কোম্পানি ইডটকোর ওপর আসতে পারে বিধিনিষেধ।

কোম্পানিটিকে এসএমপি (সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার) তথা ‘তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা’ ঘোষণা করা হতে পারে। এর ফলে ইডটকো চাইলেও একটি নির্দিষ্ট সীমার ওপর তাদের ব্যবসা বাড়াতে পারবে না।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে ইডটকোর বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি অনুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি দিয়েছে কমিশন। মূলত টেলিযোগাযোগ খাতে কেউ যাতে একচেটিয়া ব্যবসা করতে না পারে সেজন্যই এসএমপির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘একটি কোম্পানি একাই ৯০ ভাগ ব্যবসা নিয়ে যাবে, তা হতে পারে না। টাওয়ার খাতে লাইসেন্স পাওয়া আরও প্রতিষ্ঠান আছে। তাদেরও টিকে থাকতে হবে। আমরা একটি এসএমপির অনুমোদন দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের করণীয় ও বর্জনীয়ও ঠিক করে দেওয়া হবে।’

জানা যায়, টেলিযোগাযোগের সম্পত্তি, স্থাপনার সর্বোত্তম ব্যবহার, পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস, গঠন ও পরিচালন ব্যয় হ্রাস, নতুন প্রবেশকারী কমানোর জন্য ২০১৮ সালে টাওয়ার শেয়ারিং-এর জন্য রেগুলেটরি ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়। ওই গাইডলাইন অনুসারে দেশে এখন পর্যন্ত ৪টি প্রতিষ্ঠানকে টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। 

ইডটকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের টাওয়ার সংখ্যা ১২ হাজার ৮৯৬টি। মার্কেট শেয়ার ৯২ দশমিক ২৩ শতাংশ। সামিট টাওয়ার্স লিমিটেডের টাওয়ার সংখ্যা ৫৪৭টি, মার্কেট শেয়ার ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। কীর্ত্তনখোলা টাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেডের টাওয়ার আছে ৯৭টি। এবি হাই-টেক কনসোর্টিয়ামের আছে ৪০৬টি। টাওয়ার কোম্পানিগুলোর হাতে রয়েছে ১৩ হাজার ৯৮৩টি টাওয়ার।

প্রসঙ্গত, টেলিযোগাযোগ সেবা সম্পর্কিত সব লাইসেন্সধারীর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা বজায় রাখতে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর বিটিআরসি এসএমপি (সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার) প্রবিধানমালা ২০১৮ প্রণয়ন করে। প্রবিধানমালার ধারা ৭ অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা বজায় রাখতে কমিশন ‘তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা’ নির্ধারণ করতে পারবে।

২০১৯ সালের নভেম্বরে এসএমপি প্রবিধান ঘোষণা করে বিটিআরসি। বিটিআরসির প্রবিধানের আওতায় প্রথমেই পড়ে দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোনকে এসএমপি ঘোষণা করে বিটিআরসি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টাওয়ারের সংখ্যার দিক থেকে ইডটকোর মার্কেট শেয়ার ৯২ দশমিক ২৩ শতাংশ, রাজস্বের দিক থেকে ৯৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বাজার নিয়ন্ত্রণের শতকরা হারও ৪০ শতাংশের বেশি। প্রবিধানমালায় বলা আছে, যেকোনও একটি নির্ণায়কের হার ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলে তা ওই বাজারের জন্য এসএমপি হিসেবে সংজ্ঞায়িত হবে। ইডটকোর দুটি নির্ণায়কই ৪০ শতাংশের বেশি।

সূত্র আরও জানায়, ইডটকোর মার্কেট শেয়ার ও টাওয়ার বেশি হওয়ায় অন্য কোম্পানিগুলো কমিশনে চিঠি দেয়। চিঠিতে জানানো হয়, বাজারে নতুন টাওয়ার কোম্পানি আসার পর থেকে অস্বাভাবিক স্বল্পমূল্যে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে বিভিন্ন প্যাকেজ দিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করছে ইডটকো। এতে প্রতিযোযোগিতাও ব্যাহত হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি টাওয়ার শেয়ারিং কোম্পানি সম্মিলিতভাবে এসএমপি নির্ধারণের অনুরোধ করে।

/এফএ/
সম্পর্কিত
মোবাইলের দাম বাড়ছে, তীব্র হবে ফোন সংকট
মোবাইলের দাম বাড়ছে, তীব্র হবে ফোন সংকট
দিনে তিনটির বেশি প্রমোশনাল এসএমএস নয়
দিনে তিনটির বেশি প্রমোশনাল এসএমএস নয়
এবার মোবাইল ফোনের টাওয়ার খাতে এসএমপি
এবার মোবাইল ফোনের টাওয়ার খাতে এসএমপি
বন্ধের তালিকায় ১ লাখ ২৫ হাজার মোবাইল ফোন
বন্ধের তালিকায় ১ লাখ ২৫ হাজার মোবাইল ফোন

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
মোবাইলের দাম বাড়ছে, তীব্র হবে ফোন সংকট
মোবাইলের দাম বাড়ছে, তীব্র হবে ফোন সংকট
দিনে তিনটির বেশি প্রমোশনাল এসএমএস নয়
দিনে তিনটির বেশি প্রমোশনাল এসএমএস নয়
এবার মোবাইল ফোনের টাওয়ার খাতে এসএমপি
এবার মোবাইল ফোনের টাওয়ার খাতে এসএমপি
বন্ধের তালিকায় ১ লাখ ২৫ হাজার মোবাইল ফোন
বন্ধের তালিকায় ১ লাখ ২৫ হাজার মোবাইল ফোন
তারবিহীন চার্জার, একসঙ্গে ৪ ডিভাইসে চার্জ দেওয়া যাবে
তারবিহীন চার্জার, একসঙ্গে ৪ ডিভাইসে চার্জ দেওয়া যাবে
© 2022 Bangla Tribune