X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

‘তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক’

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২১, ১০:০০

গতবছর লকডাউনে অটোরিকশায় খাবার নিয়ে ছুটেছেন কর্মহীন, অসহায়দের কাছে। তার এমন কাজকে অভিনন্দন জানিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করেছিল একটি প্রতিষ্ঠান। এরপরই তার আরেক নাম হয়ে যায় ‘একজন বাংলাদেশ’। বলছিলাম রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা নাফিসা আনজুম খানের কথা। অনেকের সহযোগিতায় সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য দিনে দিনে হয়ে উঠেছেন ‘সুপারগার্ল’।

 

বাংলা ট্রিবিউন: শুরুটা কী করে?

নাফিসা আনজুম খান: করোনার আগে দরিদ্র শিশুদের জন্য মোহাম্মদপুরে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। সেখানে সপ্তাহের তিন দিন প্রায় ৮০০ শিশু পড়তো। স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক হিসেবে ছিলেন দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। লকডাউনের ফলে ওটা বন্ধ হয়ে যায়। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পরিবারের অবস্থাও তখন শোচনীয়। তাদের কথা ভেবে নিজের জমানো টাকায় শুরুতে ৫০০ শিশু শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে দাঁড়াই এক সপ্তাহের শুকনো খাবার নিয়ে।

ফেসবুকে বিষয়টা পোস্ট করার পর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন বন্ধু, সহকর্মী, পরিচিত-অপরিচিত অনেকে। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সহমর্মীদের সংখ্যা। বেড়ে যায় আমার ব্যস্ততাও। কাজের নাম দিই ‘প্রজেক্ট ডাল-ভাত’। অবশ্য নামে ডাল-ভাত হলেও খাবারের তালিকায় থাকতো মাছ, মাংস, ডিম, দুধও। 

এরপর ফেসবুক পোস্টের সাহায্যে অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়। চাল, ডাল, আলু ও আরও কাঁচাবাজার পাঠিয়েছেন অনেকে। সবার সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা দিতে পেরেছি ১৫ হাজারেরও বেশি পরিবারকে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মসজিদে মাইক থেকে শুরু করে সিলিং ফ্যান, জায়নামাজ, ব্ল্যাকবোর্ড, হুইলচেয়ার, দরিদ্র নারীদের জন্য সেলাই মেশিনও বিতরণ করেছি।

গত শনিবার আমরা কয়েকজন সাতক্ষীরার প্রবীণ আবাসন কেন্দ্রে (বৃদ্ধাশ্রম) গিয়েছিলাম। সেখানে অনেক বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি আমরা। তাদের জন্য খাবার, নতুন কাপড় আর কিছু আসবাবপত্র নিয়ে গিয়েছিলাম।

 

বাংলা ট্রিবিউন: সামাজিক কাজে যুক্ত হবার পর জীবন কতটা বদলে গেলো?

নাফিসা আনজুম খান: গত দুটো ঈদ কেটেছে বাইরে- মানুষের কাছে উপহার পৌঁছে দিয়ে। গত কোরবানির ঈদেও আমরা অনেকে মিলে মাংস সংগ্রহ করেছি সারাদিন। সেগুলো রান্না করে দরিদ্রদের খাইয়েছি আমি ও আমার স্বেচ্ছাসেবক দল। এসব কাজ দারুণ পরিশ্রমের। তবে এর চেয়ে আনন্দটাই বেশি। খাওয়ার পর ওদের তৃপ্তি ভরা মুখ দেখতে পারাটাই আমাদের বড় পাওয়া।

শুরুতে একটি সিএনজি নিয়েই ছুটতেন দরিদ্রদের দ্বারে দ্বারে

বাংলা ট্রিবিউন: এখন কী পেশায় আছেন? পেশা ও সামাজিক কাজ একসঙ্গে চালাচ্ছেন কী করে?

নাফিসা আনজুম খান: ২০১৮ সালে ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) থেকে সাংবাদিকতায় মাস্টার্স করার পর এখন একটি বহুজাতিক কোম্পানির ব্র্যান্ডিং প্রধান হিসেবে কাজ করছি। সামাজিক কাজকর্ম চালানোর জন্য আমি আমার কলিগ ও অফিসের পরিচালকের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের সহযোগিতাতেই এ কাজ চালিয়ে যেতে পারছি।

তাছাড়া পরিবারও প্রথম থেকে আমাকে সাহস যুগিয়ে আসছে। আশেপাশের অসংখ্য মানুষ সাপোর্ট করেছেন, পাশে থেকেছেন। তাদের প্রচুর সাড়া পেয়েছি । মানুষের সাড়া না পেলে আমি সফল হতে পারতাম না। সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।

দরিদ্র নারীদের সাবলম্বী হতে দিয়েছেন সেলাই মেশিন

বাংলা ট্রিবিউন: কোনও সমস্যায় পড়েছেন?

নাফিসা আনজুম খান: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিব্রতকর ও আক্রোষের শিকার হচ্ছি প্রতিনিয়ত। তবে এসবের বিরুদ্ধেও বলে যাচ্ছি। অনেকে বলে আমি লোক দেখানো কাজ করছি। আমি চাইবো তারাও এমন লোক দেখানো কাজ করুক। এতে আর যাই হোক কিছু মানুষের উপকার হবে।

অসহায়দের পাশে থেকে বেশ ভালো সময় কাটে নাফিসার

বাংলা ট্রিবিউন: ভবিষ্য পরিকল্পনা কী?

নাফিসা আনজুম খান: সুদূরপ্রসারী কোনও চিন্তা নেই। কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ভর করবে পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর। খাবারের সংকটে থাকা মানুষের পাশে থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। তবে প্রত্যেকে যদি নিজেদের জায়গা থেকে সাধ্যমতো এগিয়ে আসে তবে আর কাউকে সমস্যায় পড়তে হবে না।

 

 

/এফএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব
গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপ-এর প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকবৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব
ডিম ছাড়ছে না হালদার মা মাছ, ভারী বৃষ্টির অপেক্ষা
ডিম ছাড়ছে না হালদার মা মাছ, ভারী বৃষ্টির অপেক্ষা
নরসিংদী রেল স্টেশনে সেদিন কি ঘটেছিল?
নরসিংদী রেল স্টেশনে সেদিন কি ঘটেছিল?
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সহ-সভাপতিকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সহ-সভাপতিকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত