X
সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২
১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

কেকের ক্যানভাস রাঙানো নিতু বাবুর্চির গল্প

নওরিন আক্তার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:৩৭আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:০০

পেইন্টিং নাইফের নিখুঁত স্পর্শে গাছ থেকে ঝরে পড়া পাতাগুলোকে মনে হয় জীবন্ত। কখনও সেই গাছের ডালেই আনমনে দোল খায় চঞ্চল কিশোরী। কখনও আবার সমুদ্রের ঢেউ এসে থমকে দাঁড়ায় কিনারে। চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো হঠাৎ দেখলে মনে হবে বসার ঘরে টাঙিয়ে রাখা স্নিগ্ধ পেইন্টিং। তবে এগুলো কাপড়ের ক্যানভাসে আঁকা কোনও পেইন্টিং নয়, বরং কেকের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা অসাধারণ সব দৃশ্য। 

 

কেকের ক্যানভাস রাঙানো নিতু বাবুর্চির গল্প

কেক কেবল একটি খাবারই নয়, একেকটি কেক ধারণ করে হৃদয়ের গভীর থেকে আসা আবেগ। সেই আবেগটুকুই তিনি সাজান নিপুণ দক্ষতায়। বলছিলাম সাবরিনা আকতার ভূঁইয়ার নিতুর কথা। যিনি শৈল্পিকতার নিপুণ ছোঁয়ায় রাঙান কেক। তার স্পর্শে প্রাণ পায় কোনও এক প্রিয়জনের একান্ত আবেগ।  

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগে শেষ বর্ষে পড়ছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা। পাশাপাশি ‘নিতুবাবুর্চির পোর্টফলিও’ নামের একটি অনলাইন শপের মাধ্যমে কাজ করছেন কেক নিয়ে।

জানালেন, খুব ছোটবেলা থেকেই আঁকতে পছন্দ করতেন। সেই আগ্রহ দেখে বাবা ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন আর্ট স্কুলে। তবে ক্লাস ফাইভে বার্ষিক, বৃত্তি সব কিছুর চাপে পড়ে আর্ট স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সেই স্কুলে শেখা প্রাথমিক বিদ্যা ও নিজের প্র্যাকটিস- এই দুয়ে মিলেই ছবি আঁকার শখটা একটু একটু করে এগিয়ে গেছে নিতুর। 

 

কেকের ক্যানভাস রাঙানো নিতু বাবুর্চির গল্প


ক্যানভাস হিসেবে কেক বেছে নেওয়া হলো কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে নিতু বলেন, ‘আসলে ব্যাপারটা উল্টো। ক্যানভাস হিসেবে কেক বাছিনি। আমি যাই করি সবকিছুর সাথেই আসলে আর্টের একটা যোগসূত্র হয়ে যায়। এর আগেও আমি কাজ করেছি মেহেদি আর্ট, ফেব্রিকে হ্যান্ড পেইন্ট বা কাস্টমাইজড হ্যান্ডমেইড প্ল্যাকার্ড বানানো নিয়ে। কেক খেতে আমি খুব ভালোবাসি। তাই নিজে বাসায় বানানোর চেষ্টা করতাম। ব্যবসা করবো এমন পরিকল্পনা ছিল না। সময় কাটানো ও আর্টের ওপর ভালোবাসা থেকে কেকের ক্যানভাসে টুকটাক আঁকতাম, যা দেখে বন্ধুরা উৎসাহ দিতো।’ তখনও ‘নিতুবাবুর্চির পোর্টফলিও’ পেইজটির যাত্রা শুরু হয়নি।

 

কেকের ক্যানভাস রাঙানো নিতু বাবুর্চির গল্প

 

সেসময় চলছিল লকডাউন, দোকানপাট বন্ধ। তখন প্রথম কেকের অর্ডার পান নিতু। অর্ডার পেয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। কারণ একান্তই নিজের জন্য বানানো কেক কার কেমন লাগবে সেটা নিয়ে বেশ দ্বিধান্বিত ছিলেন তিনি। কিন্তু যেহেতু বন্ধু অর্ডার করেছে, তাই রাজী হয়ে যান নিতু। হলুদ আর বিয়েতে দুটো কেক নেয় তারা। সেই অনুষ্ঠানে কেক দেখে দুদিনের মাথায়ই আরেকটা অর্ডার চলে আসে। এভাবে পরিচিতরা কেক অর্ডার করতে শুরু করলে পেইজ খোলার উৎসাহ পান নিতু।

 

কেকের ক্যানভাস রাঙানো নিতু বাবুর্চির গল্প

একেকজনের একেক রকম ডিজাইনের অর্ডার থাকে। তবে প্যালেট নাইফ আর্ট করতেই বেশি ভালোবাসেন এই শিল্পী। ছিমছাম কোনও প্রাকৃতিক দৃশ্য আঁকতে আনন্দ পান। পাশাপাশি মান্ডালা বা মেহেদি ডিজাইনের মতো নকশাগুলো কেকে ফুটিয়ে তুলতে বেশ লাগে বলে জানালেন। ‘আরেকটা ভালো লাগার বিষয় হচ্ছে কেকের ওপর লেখা। মানুষের মনের কথাগুলো কেকে লিখতে খুব ভালো লাগে। ছোট্ট ক্যানভাসে ঠিকঠাক লিখতে শেখাও ছিল যথেষ্ট কষ্টসাধ্য’- বলেন নিতু।

 

কেকের ক্যানভাস রাঙানো নিতু বাবুর্চির গল্প

নিখুঁত এই কাজগুলো করতে বেশ অনেকটাই সময় ব্যয় করতে হয় নিতুকে। কেক বানানো বাদে শুধু আঁকতেই কমপক্ষে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় চলে যায়। নকশার ভিত্তি করে কখনও ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত সময়ও লাগে। বেকিং থেকে ডিজাইন- সবকিছু একাই করেন বলে জানালেন তিনি।

তবে মানুষের ভালোবাসা ও উৎসাহ সেই ক্লান্তি দূর করে দেয় পুরোটাই। জানান, কখনও চিন্তাও করেননি শখের বশে করা কাজ এত বেশি মানুষ পছন্দ করবে।

কেক নিয়ে ভবিষ্যতে কী ভাবছেন? ‘এখন পর্যন্ত শুধু চট্টগ্রামেই কেক ডেলিভারি দিই। তবে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চট্টগ্রামের বাইরে কেক পাঠানোর কথা বলেন। ইচ্ছে আছে একসময় আমার কেক সারা দেশে পৌঁছে যাবে’- বলেন নিতু।

 

কেকের ক্যানভাস রাঙানো নিতু বাবুর্চির গল্প

 

অনেকে বেকিং পছন্দ করেন। কেউ শখে করেন, কেউবা ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেক বানান। তবে যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই কাজকে ভালোবাসাটা জরুরি বলে মনে করেন তরুণ এই উদ্যোক্তা। অনেক প্র্যাকটিস ও নিজের ভুলগুলো নিজে বের করতে পারাটা বড় গুণ বলে মনে করেন। প্রতিযোগিতাটা অন্যের সাথে না করে নিজের সাথে করলে ভুলগুলো শুধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথটা সহজ হয়।

/এনএ/
নেইমার অনুপস্থিতিতে শঙ্কা থাকলেও জয়ের আশা ব্রাজিল সমর্থকদের
নেইমার অনুপস্থিতিতে শঙ্কা থাকলেও জয়ের আশা ব্রাজিল সমর্থকদের
গোল্ডেন জিপিএ-৫ না পাওয়ায় মায়ের বকা, অভিমানে প্রাণ দিলো মেয়ে
গোল্ডেন জিপিএ-৫ না পাওয়ায় মায়ের বকা, অভিমানে প্রাণ দিলো মেয়ে
চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির যাবতীয় ফি দেওয়া যাবে সোনালী ব্যাংকে
চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির যাবতীয় ফি দেওয়া যাবে সোনালী ব্যাংকে
আদালতের আদেশ অমান্য করায় ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন
আদালতের আদেশ অমান্য করায় ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন
সর্বাধিক পঠিত
‘বিএনপিকে চালায় আ.লীগ, আমরা না চাইলে নির্বাচনে আসতে পারবেন না’
‘বিএনপিকে চালায় আ.লীগ, আমরা না চাইলে নির্বাচনে আসতে পারবেন না’
ইতালিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ইতালিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা
মরক্কোর বিপক্ষে হারের পর বেলজিয়ামে দাঙ্গা
মরক্কোর বিপক্ষে হারের পর বেলজিয়ামে দাঙ্গা
চাকরি ছাড়ছেন ডিএনসিসির পাঁচ ভেটেরিনারি কর্মকর্তাই!
চাকরি ছাড়ছেন ডিএনসিসির পাঁচ ভেটেরিনারি কর্মকর্তাই!
বেলজিয়ামকে হারিয়ে দিলো মরক্কো
বেলজিয়ামকে হারিয়ে দিলো মরক্কো