X
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

বাবার লাশ আর সাদা হাতাকাটা গেঞ্জিই একমাত্র স্মৃতি: তাপস

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২০, ০৮:৫২

শেখ ফজলুল হক মনি (ছবি: সংগৃহীত)

১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেটের আঘাতে সপরিবারে শহীদ হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন অন্যসব শিশুদের মতো ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সেই বাড়িতে বাবা শেখ ফজলুল হক মনি ও মা আরজু মনি’র কোলে ঘুমিয়ে ছিলেন দুই শিশু শেখ ফজলে নূর তাপস ও শেখ ফজলে শামস পরশ। কিন্তু ঘাতকের বুলেটের আঘাত থেকে এই দুই শিশু প্রাণে বেঁচে গেলেও শহীদ হন পিতা শেখ ফজলুল হক মনি ও মা আরজু মনি। সেই বিভীষিকাময় কালো রাত্রির স্মৃতি নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র।

বাংলা ট্রিবিউন: ১৫ আগস্ট আপনার বাবা মাসহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে শাহাদাত বরণ করেন। সেদিনকার কোনও স্মৃতি আপনার মনে পড়ে কি?

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস: তখন আমার বয়স ছিল পৌনে চার বছর। আমি এবং আমার বড় ভাই রাতে বাবা-মায়ের সঙ্গে একই খাটে ঘুমিয়ে ছিলাম। সেই হত্যাকাণ্ডের কোনও স্মৃতি আমার নেই। এমনকি বাবা মায়ের সঙ্গেরও কোনও স্মৃতি ঠিক মনে পড়ে না। আমার আবছা একটি স্মৃতি মনে পড়ে। সেটা হলো- বাবার লাশ। তিনি সাদা হাতকাটা একটি গেঞ্জি পরা ছিলেন। গলায় একটি খতের দাগ ছিল এবং উনাদের দুজনকে যখন নিয়ে যাওয়া হয় নিচে রক্ত জমাট ছিল। এর বেশি কিছু স্মরণ করতে পারি না। অন্যান্য দিনের মতো সেদিনও আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। যখন গুলির শব্দে আমাদের ঘুম ভাঙে আমরা চিৎকার করি। বাবা মাকে ডাকি। তাদের খুঁজি। আমি এবং আমার বড় ভাই কোনও দিন বাবা মাকে পাইনি। সেই দুর্বিষহ সময়টার কথা যখনই চিন্তা করি তখন বেদনা বাড়ে। বিশেষ করে আগস্ট মাসটা যখন আসে মনটা ভারী হয়ে উঠে। ১৫ আগস্ট আসলে আমাদের কষ্টের দিন কাটে।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি তো তখন হাটতে পারতেন। কম বেশি কথাও বলতে পারতেন। সেদিন কি আপনার দুই ভাই আপনাদের বাবা মায়ের দাফন কাফনে অংশ নিতে পেরেছিলেন? পরিবেশটা কেমন ছিল?

মেয়র ফজলে নূর তাপস (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন) ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস: না। আমরা তো আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। এরপর বাবা-মায়ের লাশ নিয়ে যাওয়া হলো হাসপাতালে। সেখানেও আক্রমণ করা হলো। যারা শাহাদাত বরণ করেছেন তাদের সবাইকে বনানী কবরস্থানে এক সঙ্গে দাফন করা হয়েছে। যারা খুনি ছিল তারাই সেখানে ছিল। এতে পরিবারের কেউ অংশগ্রহণ করতে পারেনি। সেখানে স্বাভাবিক কোনও জানাজা যা দাফন কিন্তু হয়নি। এমনকি বঙ্গবন্ধুকেও নিয়ে যাওয়া হলো টুঙ্গিপাড়াতে। কেউ যেন জানতে না পারে এবং জানাজায় অংশগ্রহণ করতে না পারে। সেখানেও কিন্তু একটি আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছিলো। সেই আতঙ্কের মধ্যেই তাকে দাফন করা হয়েছে। সেই সময় ওখানকার যারা ছিলেন তারা কোনও রকম তাকে একটি…। তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তিনি জাতির পিতা কিন্তু তাকে একটি সাধারণ সাবান দিয়ে কোনও রকম গোসল দিয়ে দাফন দেওয়া হয়েছিলো। তাতে অংশ নেওয়ার কোনও পরিস্থিতি ছিল না। জীবন বাঁচানোর জন্য আমাদেরকে অন্যান্য জায়গায় আশ্রয় নিতে হয়েছে। পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। বাসা ছেড়ে দিতে হয়েছে। আমাদের অস্বাভাবিক, আতঙ্কের এবং ঝুঁকিপূর্ণ জীবন ছিল। সেই দিনকার বিষয়টা যদি বলি তারা হামলা করে হত্যা করে চলে যায় ঠিকই কিন্তু পরক্ষণে তারা আবার ফিরে আসে এবং আবার আক্রমণ করে আমাদেরকে জীবন বাঁচানোর জন্য পালিয়ে যেতে হয়। আমাদের চাচাদেরও পালিয়ে যেতে হয়। বাসার পাশে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনারের বাসা ছিল তারা কিন্তু আমাদেরকে আশ্রয় দেন। যার কারণে আমরা প্রাণে বেঁচে যাই। না হলে কিন্তু পরবর্তীতে তারা যখন আরও আক্রমণ করছিলো যদি সেখানে পেতো, যেমনি শিশু রাসেলকে হত্যা করা হয়েছিলো তেমনি আমাদেরকেও হত্যা করা হতো। এমন একটি দুর্বিষহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিলো। পরিবারের যাকেই পাবে তাকেই হত্যা করা হবে। কোনও নারী বা শিশু সে বিষয়টিও বিবেচনায় আনা হয়নি। যেমনি লক্ষ্য করেছেন বঙ্গমাতাকেও হত্যা করা হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: বাবা মাকে ছাড়া কীভাবে বেড়ে উঠেছেন?

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস: অনেক কষ্ট, যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আমাদের সময় কেটেছে। দাদি আমাদের দুই এতিম ভাইকে লালন-পালন করেছেন। আমাদের সান্ত্বনা দিয়ে বলা হতো, বাবা-মা বিদেশে কাজে গেছেন। কয়েকদিন পর তারা চলে আসবেন। এভাবেই দিন যাচ্ছিল। একটা সময় বুঝলাম, বাবা-মা আর কোনও দিন আসবেন না।

সেই সময়গুলোতে বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে লুকিয়ে থাকতে হতো। সব সময় ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে থাকতাম। একটা পর্যায়ে দাদি আমাদের নিয়ে ভারতে চলে যান। বছর দুয়েক পর যখন ঢাকায় ফিরে আসি তখনও ঘাতকরা সক্রিয়। ঢাকায় তখনও বঙ্গবন্ধুর পরিবার, আত্মীয়স্বজনের ওপর নানা রকমের চাপ ছিল। আমাদের বাড়ি ভাড়া দিতে চাইত না। কোনও স্কুল আমাদের বেশি দিন রাখতে চাইত না। ভর্তিও নিতো না। স্কুলের শিক্ষকদের ডেকে নিয়ে হুমকি দেওয়া হতো। স্কুল কর্তৃপক্ষও আমাদেরকে নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকতো।

বাংলা ট্রিবিউন:   আজ আপনি সেই শহরের পিতা, বিষয়টা কীভাবে দেখছেন?

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস: দেখুন যে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে সেটি ইতিহাসের জঘন্যতম অধ্যায়। আমরা প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের বিষয় কখনও চিন্তা করিনি। আমরা চিন্তা করেছি সুষ্ঠুভাবে যাতে এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচারটা হয়। পরবর্তীতে সেই ন্যায় বিচারের পথও আইন করে রোধ করে রাখা হয়েছিলো। তথাকথিত একটি আইন দিয়ে একটি বিচার বন্ধ করার নজির সারাবিশ্বে আর নেই। তো সেটাও করা হয়েছিলো। জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পরে ১৯৮১ সালে ধীরে ধীরে সংগ্রাম আন্দোলন ও ঘাত প্রতিঘাতের মাধ্যমে তার দৃঢ়তা ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে এই প্রতিকূলতা অতিক্রম করেছেন। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর আমার বাবা মাসহ জাতির পিতা হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। আমাদের জীবনে একটি বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল সেই বিচারটা যেন হয়। জাতির পিতার হত্যার বিচারটা আমরা যেন দেখে যেতে পারি। আমাদের অনেক মুরুব্বি ও অভিভাবক, যাদের আশা ছিল বিচারটি দেখে যাওয়ার। আমার সৌভাগ্য আমি সেই বিচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরেছি। আমার আইনজীবী হওয়ার পেছনে এটিও বড় ভূমিকা পালন করেছে। আমি আইনজীবী হিসেবে পড়াশোনা করে যখন ঢাকায় আসলাম তখন সেই বিচারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমি সেটার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছি। এটা আমার জীবনের একটি বড় প্রাপ্তি। জীবনের একটি আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই আমাদের ফুফু শেখ হাসিনা ও দাদি সব সময় আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন জাতির পিতার আদর্শ পালন করা, তার স্বপ্নগুলো পূরণ করা। আমি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় ঢাকাবাসীর সেবা করার যে সুযোগ হয়েছে সেটা যদি করতে পারি সেটাই হবে বড় প্রাপ্তি। তাদের আত্মা তখনই শান্তি পাবে আমরা যদি জনগণের জন্য কিছু করতে পারি। মূলত তারা তাদের জীবনটাই উৎসর্গ করে গেছেন বাংলার জনগণের জন্য। সেই বাংলার জনগণের জন্য যদি কিছুটা অবদান রাখতে পারি সেটাই হবে তাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও শান্তি কামনা। এতে তারা শান্তি পাবেন। সেভাবেই আমরা বড় হয়েছি সেভাবেই আমরা শিক্ষা পেয়েছি।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি তো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম একজন আইনজীবী ছিলেন। এই মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে কোনও বাধার সম্মুখীন বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল কিনা?

ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, ছবি: সাজ্জাদ হোসেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস: অবশ্যই। আপনাদের হয়তো বা খেয়াল আছে ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পরে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করেন। সেটা না হলে মামলাটি করা যাচ্ছিল না। সেখানে সাক্ষী পাওয়াটা খুব কঠিন ছিল। একটি কুচক্রী মহল কখনও চায়নি এই বিচারটি হোক। সব সময় আইনগত, সামাজিক ও রাজনৈতিকসহ সব রকম বাধার সৃষ্টি করেছিল। শেখ হাসিনার দৃঢ় সংকল্পের কারণে বাধাগুলো অতিক্রম করা হয়েছে। সেখানে সাক্ষী থেকে আরম্ভ করে মামলার সব বিষয়ে বাধা ছিল। ২০০১ সাল পর্যন্ত মামলাটা পরিচালিত হলো। আমরা নিম্ন আদালতে রায় পেলাম। হাইকোর্টের অনেকগুলো বেঞ্চ কিন্তু বিব্রত বোধ করলো। তারা শুনানি করতে চাইলো না। মামলাটি ফেরত দিয়ে দিল। কাল বিলম্ব করা হলো। তখন অন্য সরকার আসলো তারা এই মামলাটিকে আবার চাপা দেওয়ার চেষ্টা করলো। ২০০৯ সালে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার নির্বাচিত হওয়ার পরেই কিন্তু মামলাটা সম্পন্ন হয়েছে। রায় কার্যকর করা গেছে। আমার সৌভাগ্য যে মাত্র পড়াশোনা শেষ করে মামলায় লড়ার সুযোগ পেয়েছি। মামলার প্রধান কৌশলী সিনিয়র অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক সাহেবের নেতৃত্বেই আমার আইনাঙ্গণে হাতেখড়ি। এই মামলার মাধ্যমেই আমার আইনাঙ্গণে পদার্পণ হয়। পরে হাইকোর্টের আপিলেট ডিভিশনেও আমি আনিসুল হক (বর্তমান আইন মন্ত্রী) সাহেবের সঙ্গে ছিলাম। এই মামলাটিও একটি ইতিহাস। দীর্ঘ পথ-পরিক্রমায় এতো দূর এসেছে। এর ওপরে অবশ্যই লেখা হবে। জনগণ জানতে পারবে।

বাংলা ট্রিবিউন: বাবা মাকে কোন সময়টাতে সব চেয়ে বেশি মনে পড়ে?

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস: আসলে বাবা মায়ের কথা সব সময়ই মনে পড়ে। বিশেষ করে একটি সন্তানের কোনও অর্জন প্রাপ্তির সময় কিন্তু তাদের সান্নিধ্য সন্তান চায়। আমরা কিন্তু সেটা পাইনি। সেই শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে পড়াশোনার সময় ক্লাসে যদি ভালো করলাম, কিছু ভালো অর্জন হলো, খেলাধুলাতে ভালো করলাম, হয়তো বা কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলাম, কিন্তু বাবা মায়ের সান্নিধ্য পাইনি। এই শূন্যতার মাঝেই বড় হতে হয়েছে। আমার সঙ্গে আমার বন্ধু-বান্ধবরা যেমন তাদের বাবা মাকে পাচ্ছে তাদের সঙ্গে আলিঙ্গন করছে, তাদের হাসি কান্নার স্মৃতি হচ্ছে। এগুলো কিন্তু আমরা পাইনি। সব সময়ই একটা শূন্যতা থাকতো।

 

 

/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

সরকারি ৭ হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই

সরকারি ৭ হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

সচিবালয়ে সুনসান নীরবতা

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৯:২৩

ঈদুল আজহার তিনদিনের সঙ্গে সাপ্তাহিক দুদিনসহ মোট পাঁচদিনের ছুটি শেষ হয়েছে শনিবার। সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার (২৫ জুলাই) সরকারের প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে বিরাজ করছে ভুতুড়ে পরিবেশ। যদিও করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের জারি করা ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে সরকারি বেসরকারি সকল অফিস আদালত বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যেও জরুরি কিছু নির্দেশনা বাস্তবায়নে সচিবালয়ের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি সেল খোলা রয়েছে। সেখানে কাজ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। তবে বেশিরভাগ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বিরাজ করছে ভুতুড়ে পরিবেশ। রবিবার (২৫ জুলাই) সচিবালয়ে গিয়ে এমন দৃশ্য নজরে এসেছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লাইট বন্ধ, কলাপসিবল গেটে তালা। করোনা সংক্রমণের কারণে বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি সেবা দেওয়া সুনির্দিষ্ট কয়েকটি দফতর ছাড়া সরকারি অন্যান্য অফিস বন্ধ রয়েছে। সরকারি আদেশ অনুযায়ী বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস বা দফতরও বন্ধ রয়েছে। এ কারণেই সচিবালয়ের অধিকাংশ মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বন্ধ রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কয়েকটি উইং খুবই সীমিত পরিসরে খোলা। সেগুলোয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথানিয়মের কিছুটা ব্যত্যয় ঘটিয়ে সকাল ১০টার পর নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত হয়েছেন।

জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে এ বিভাগের অধিকাংশ দফতর বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাঠ প্রশাসন অধিশাখায় কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০ শতাংশ জনবল দিয়ে এ দফতরে কাজ চলছে। বিধিনিষেধ চলাকালীন বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম-সচিব, উপ-সচিবসহ অপরাপর কর্মকর্তারা কাজ করছেন নিজ নিজ দফতরে। এদের মধ্যে অনেকেই ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় পর্বটি সেরেছেন টেলিফোনে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দেখা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর দফতর, সচিবের দফতর খোলা রয়েছে। তবে তারা কেউই দফতরে আসেননি। প্রয়োজনীয় কাজ সারছেন টেলিফোনে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের দফতর খোলা থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে সীমিত জনবল রাখা হয়েছে এখানে।

সরকারের প্রচারযন্ত্র হিসবে তথ্য অধিদফতর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু রেখেছে। তথ্য অধিদফতরের নিউজরুম সারা বছরই খোলা থাকে। তাই কঠোর বিধিনিষেধে এখানে কোনও এ প্রভাব পড়েনি। কারণ ঈদের দিনও পিআইডির নিউজ রুমে রোস্টার অনুযায়ী কর্মকর্তা কর্মচারীরা কাজ করেন। এখনও করছেন সেভাবে।

দেখা গেছে, সচিবালয় ক্লিনিক খোলা রয়েছে। সেখানে কাজ করছেন চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। কোভিডের টিকা দেওয়ার কেন্দ্র হিসেবেও সচিবালয় ক্লিনিক কাজ করছে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষও খোলা রয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুমও খোলা।

কোভিড নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পুরোটাই খোলা রাখা হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের আংশিক খোলা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, করোনার কারণে সরকারি বেসরকারি স্বায়ত্তশাসিত সকল অফিস আদালত বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া শিডিউল অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যক্রম চলছে। এ সময় সচিবালয়ে সুনসান নীরবতা বিরাজ করার ঘটনাই স্বাভাবিক। আশা করছি, সেদিন বেশি দুরে নয়, যেদিন আমরা করোনামুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবো। কারণ করোনা মহামারি তো আর সারাজীবন থাকবে না।

প্রসঙ্গত, কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে গত ২৩ জুলাই ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে ১৪ দিনের আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ চলবে আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত। এই সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া প্রায় সব মন্ত্রণালয় বন্ধ রয়েছে। তবে চলমান কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের বিভাগ/শাখার কার্যক্রম চলছে সীমিত জনবল নিয়ে।

/এমআর/

সম্পর্কিত

সরকারি ৭ হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই

সরকারি ৭ হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই

মৃত্যু বেড়ে ২২৮, শনাক্ত ১১ হাজার ২৯১

মৃত্যু বেড়ে ২২৮, শনাক্ত ১১ হাজার ২৯১

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

সরকারি ৭ হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৮:৪৮

রাজধানী ঢাকায় করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া ১৬টি হাসপাতালের মধ্যে বড় সাতটি হাসপাতালেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র-আইসিইউ ফাঁকা নেই। রবিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতর এ তথ্য জানিয়েছে।

করোনা ডেডিকেটেড ১৬টি হাসপাতালের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতাল এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা হলেও সেখানে তাদের জন্য আইসিইউর ব্যবস্থা নেই।

বাকি হাসপাতালগুলোর মধ্যে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের ২৬ বেড, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ১০ বেড, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ছয় বেড, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২০ বেড, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১০ বেড এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ আইসিইউ বেডের সবগুলোতে রোগী ভর্তি রয়েছে।

এছাড়া অন্য হাসপাতালগুলোর মধ্যে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের ১৬ বেডের মধ্যে দুইটি, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের ১৫ বেডের মধ্যে ছয়টি, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আট বেডের মধ্যে দুইটি, টিবি হাসপাতালের ১৬ বেডের মধ্যে ১৪টি, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ১০ বেডের মধ্যে পাঁচটি এবং  ডিএনসিসির করোনা হাসপাতালর ২১২ বেডের মধ্যে ১১টি বেড ফাঁকা রয়েছে।

অর্থাৎ তিনটি হাসপাতাল বাদ দিয়ে রাজধানীতে  করোনা ডেডিকেটেড ১৩টি হাসপাতালের মধ্যে এই মুহূর্তে সাতটি হাসপাতালে কোনও আইসিইউ ফাঁকা নেই।  মোট ৩৯৩টি বেডের মধ্যে ফাঁকা রয়েছে মাত্র ৪০টি বেড।

/জেএ/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

মৃত্যু বেড়ে ২২৮, শনাক্ত ১১ হাজার ২৯১

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৮:৪০

দেশে আবারও করোনায় একদিনে মৃত্যু ২০০ পার হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২২৮ জন। এতে এক ধাক্কায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু বেড়ে গেলো ৩৩ জন। গতকাল (২৪ জুলাই) ১৯৫ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। 

মৃত্যুর পাশাপাশি বেড়েছে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে ১১ হাজার ২৯১ জন শনাক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে অধিদফতর। গতকাল (২৪ জুলাই) ছয় হাজার ৭৮০ জন, আর তার আগের দিনে ছয় হাজার ৩৬৪ জন শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল অধিদফতর।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২২৮ জনকে নিয়ে দেশে সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেলেন ১৯ হাজার ২৭৪ জন। আর শনাক্ত হওয়া ১১ হাজার ২৯১ জনকে নিয়ে দেশে সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হলেন ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৩৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ৫৮৪ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনা থেকে সুস্থ হলেন নয় লাখ ৯৮ হাজার ৯২৩ জন। 

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্তের হার ৩০ দশমিক শূন্য চার শতাংশ আর এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ আর মৃত্যুর হার এক দশমিক ৬৫ শতাংশ। 

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৭২টি আর পরীক্ষা হয়েছে ৩৭ হাজার ৬৮৭টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৪ লাখ ৫৫ হাজার ২৮১টি। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৫৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ১৯ লাখ ৭৮ হাজার ২২৮টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২২৮ জনের মধ্যে পুরুষ ১২৫ জন আর নারী ১০৩ জন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে পুরুষ মারা গেলেন ১৩ হাজার ১৯৯ জন আর নারী ছয় হাজার ৭৫ জন।

এদের মধ্যে ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে রয়েছেন দুজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩৩ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৭০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫০ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে আট জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দুই জন আর শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে রয়েছে একজন।

মারা যাওয়া ২২৮ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন ৬৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৪০ জন, রাজশাহী বিভাগের ২১ জন, খুলনা বিভাগের ৫০ জন, বরিশাল বিভাগের ছয় জন, সিলেট বিভাগের ১১ জন, রংপুর বিভাগের ১৬ জন আর ময়মনসিংহ বিভাগের ১৫ জন।

আর স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছেন, ২২৮ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৭৪ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৪০ জন আর বাড়িতে ১৪ জন।

/জেএ/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

দেশে পৌঁছালো জাপানের দেওয়া অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা 

দেশে পৌঁছালো জাপানের দেওয়া অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা 

করোনায় আরও ১৮৭ জনের মৃত্যু

করোনায় আরও ১৮৭ জনের মৃত্যু

নতুন রেকর্ড, একদিনে মৃত্যু ২৩১

নতুন রেকর্ড, একদিনে মৃত্যু ২৩১

একদিনে আরও ২২৫ মৃত্যু, শনাক্ত ছাড়ালো ১১ লাখ 

একদিনে আরও ২২৫ মৃত্যু, শনাক্ত ছাড়ালো ১১ লাখ 

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৬:২০

করোনার চিকিৎসা আর ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা এক হাসপাতালে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল নির্ধারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। রবিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কনভেনশন সেন্টারে নির্মাণাধীন ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। প্রায় ১২শ’ রোগী ইতোমধ্যে ভর্তি হয়েছে। আমরা একদিকে নন কোভিড রোগীর চিকিৎসা, অপরদিকে করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা, অন্যদিকে টেস্ট ও ভ্যাকসিন— সব মিলিয়ে একসঙ্গে করতে হচ্ছে। তাই আমরা আজকে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল চিহ্নিদ করেছি, যেখানে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা নেবো। কারণ, যেখানে করোনা রোগীর চিকিৎসা হয়, সেখানে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি আরও  বলেন, ‘যেসব হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা করা হবে সেগুলো হচ্ছে— স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল,  টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, লালকুঠি হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতালসহ আরও কয়েকটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা হবে। অন্যান্য হাসপাতালে জায়গা নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে এ বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী আপনারা ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নেবেন।’  

 

/এসও/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

সরকারি ৭ হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই

সরকারি ৭ হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

বঙ্গবন্ধুর ১৮ দিনের বিদেশ সফর ২৬ জুলাই

বঙ্গবন্ধুর ১৮ দিনের বিদেশ সফর ২৬ জুলাই

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৭:৩৩

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও সংক্রমণজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক হিসাবে ঢাকা এগিয়ে আছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

রবিবার (২৫ জুলাই) কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর আয়োজিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

জেলাভিত্তিক শনাক্তের হিসাবে ঢাকা শীর্ষে অবস্থান করছে, ইতোমধ্যে ঢাকায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এরপরে আছে যথাক্রমে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, বগুড়া, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, ফরিদপুর এবং সবচেয়ে কম রোগী রাজশাহীতে।’

জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণ ছাড়াও বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর হারেও ঢাকা বিভাগ সর্বোচ্চ। এরপরের অবস্থান খুলনা বিভাগের।

এদিকে, গত সাত দিনের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহ কম হয়েছে এবং সে অনুযায়ী পরীক্ষাও কম হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ কারণে মোট রোগীর সংখ্যা কমেছে।’ কিন্তু তাতে সংক্রমণের হার কমেনি বলেন অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘শতকরা হিসাবে সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশের নিচে নামেনি। বরং ২৪ জুলাই ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছে।’

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম জানান, ২৯তম এপিডেমিক সপ্তাহে ২৪ জুলাই পর্যন্ত দুই লাখ দুই হাজার ১১৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় পরীক্ষার হার ২৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমেছে।

ঈদের বন্ধে এই সংখ্যা কমতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে সুস্থতার হার ১৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।’

 

 

/জেএ/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

সরকারি ৭ হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই

সরকারি ৭ হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

সর্বশেষ

ফুটবল মাঠে গরু চরানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২০

ফুটবল মাঠে গরু চরানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২০

টিসিবির ‘ট্রাকসেল’ সোমবার থেকে ফের শুরু

টিসিবির ‘ট্রাকসেল’ সোমবার থেকে ফের শুরু

টিকা নিয়ে উপহাস করা মার্কিনির করোনায় মৃত্যু

টিকা নিয়ে উপহাস করা মার্কিনির করোনায় মৃত্যু

‘রোহিঙ্গা’ সম্বোধনে পিটিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

‘রোহিঙ্গা’ সম্বোধনে পিটিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

স্ত্রী-মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা: বাবার বিরুদ্ধে আরেক মেয়ের জবানবন্দি

স্ত্রী-মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা: বাবার বিরুদ্ধে আরেক মেয়ের জবানবন্দি

সচিবালয়ে সুনসান নীরবতা

সচিবালয়ে সুনসান নীরবতা

প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেন না সাকিব

প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেন না সাকিব

ডেঙ্গুবিরোধী অভিযানে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

ডেঙ্গুবিরোধী অভিযানে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

নাঈম ফিরলেও রানের চাকা সচল রেখেছেন সৌম্য-সাকিব

নাঈম ফিরলেও রানের চাকা সচল রেখেছেন সৌম্য-সাকিব

পুকুরে ভাসছিল দুই শিশুর মরদেহ

পুকুরে ভাসছিল দুই শিশুর মরদেহ

সরকারি ৭ হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই

সরকারি ৭ হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই

কারিগরিতে পদোন্নতি

কারিগরিতে পদোন্নতি

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সরকারি ৭ হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই

সরকারি ৭ হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

মৃত্যু ও সংক্রমণে এগিয়ে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

করোনামুক্ত হয়েও ধকল বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা

বঙ্গবন্ধুর ১৮ দিনের বিদেশ সফর ২৬ জুলাই

বঙ্গবন্ধুর ১৮ দিনের বিদেশ সফর ২৬ জুলাই

টিকার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

টিকার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাতেই দেশে আসছে ২০০ টন অক্সিজেন

রাতেই দেশে আসছে ২০০ টন অক্সিজেন

নমুনা পরীক্ষার সঙ্গে কমেছে শনাক্তও

নমুনা পরীক্ষার সঙ্গে কমেছে শনাক্তও

দেশে করোনায় মৃত্যু ১৯ হাজার ছাড়ালো

দেশে করোনায় মৃত্যু ১৯ হাজার ছাড়ালো

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন উদ্যোগ

© 2021 Bangla Tribune