X
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮

সেকশনস

কটু কথাগুলো কবিতার মতো মনে হয় এপি তালুকদারের

আপডেট : ১৬ মে ২০২১, ২২:২৯

‘নারী নিজের মতো করে কিছু করতে চাইলে, নারী কিছু না করলেও এই সমাজে কটু কথা শোনানোর রেওয়াজ আছে। আমার কাছে কটু কথাগুলো শুনতে কবিতার মতো।  এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিতে হয়। তার না হলে একসময় আপনার সব কষ্টের কারণ হয়ে উঠবে এসব’—কথাগুলো বলছিলেন সাইক্লিস্ট মৌসুমি আখতার এপি তালুকদার।

সম্প্রতি ঢাকা থেকে সান্তাহার পর্যন্ত ২৫৫ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে গিয়ে গণমাধ্যমের নজরে আসেন তিনি। পেশায় শিক্ষক এপি তালুকদারের সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। তিনি বলেন, ‘কেবল সাইকেল চালানো না, নারীর  কাজের জন্য তাকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়। সেই প্রশ্নকে যদি আপনি এড়িয়ে চলতে শেখার চ্যালেঞ্জ না নেন তাহলে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব। কেবল বাইরে না পরিবারেও আমাকে নিয়ে চিন্তিত হতে দেখি। রাতে কেন আসলাম, পথে যদি কিছু হয়। আমি বুঝাতে চেষ্টা করি। আমার কিছু হওয়ার থাকলে সেটা বাসেও হতে পারে। তাই বলে, আমি যেটা যেভাবে চাই সেটুকু করতে পারবো না?’

কেন সাইকেলে গেলেন?

‘আমি ২০১৭ সালে সাইকেল কিনি। এটা ঢাকা শহরে আমার প্রধান বাহন। সাইকেল নিয়ে বাড়ি আসার ইচ্ছা মনে মনে পুষে রেখেছিলাম অনেক দিন থেকেই। কিন্তু কখনও আসা হয়নি দূরত্ব বেশি বলে যে, একদিনে শেষ করাটা অনেক কঠিন হবে এই চিন্তা করে। কিন্তু ৩ মে হঠাৎই আমি সিদ্ধান্ত নিই কাজটি আমি করবো। প্রথমে ভাবছিলাম পথে থেমে থেমে যাব। তাই টাঙ্গাইলে থাকার জায়গা খুঁজতে গিয়ে আরেকজন সঙ্গী পেয়ে গেলাম যিনি রাতে আমার সঙ্গে সাইকেল চালিয়ে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত যাবেন। তখন পরিকল্পনায় বদল আসে। মাত্র ২৫ মিনিটে প্রস্তুত হয়ে আমি রওনা হই সান্তাহারে, বাড়ীর পথে’ বলছিলেন এপি তালুকদার

পথে পথে কত অভিজ্ঞতা

তিনি বলেন, ‘সত্যি নানারকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। লকডাউন থাকায় রাস্তায় গাড়ি ছিল না বললেই চলে। রাস্তায় আমরা ঝড় বৃষ্টি পেয়েছি, পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে যখন তখন পথে নেমে কিছু সময় একা বসে থেকেছি, পথে পথে বন্ধুরা নানা জায়গায় অপেক্ষায় ছিলেন তাদের দেখা পেয়েছি। সে এক ভিন্নরকম ভালোলাগা। ৩ তারিখ সন্ধ্যার পরে খামার বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু। সেদিন সারারাত চালিয়ে পরের দিন সিরাজগঞ্জ পৌঁছানোর পরে সঙ্গী রাসেল বিদায় নেয়। এরপরের পথটুকু আমি একা গেছি। বগুড়ায় রাতটা কাটিয়ে ভোররাতে সেহরির পরে রওনা দেই সান্তাহারের পথে। এবার পথের দুধারে সোনালী ধান চাষিদের ফসল কাটার দৃশ্য দেখে অস্ফুটে গেয়ে উঠেছি হায়রে আমার মন মাতানো দেশ/হায়রে আমার সোনা ফলা মাটি/রূপ দেখে তোর কেন আমার/নয়ন ভরে না।’

এখন কী করছেন?

‘আমি এখানে এসেও রোজ সাইকেল নিয়ে বের হই। সান্তাহার থেকে স্বল্পদূরত্বে বেশকিছু ঐতিহ্যবাহী স্থান রয়েছে। সেসব জায়গায় সাইকেল নিয়ে যাচ্ছে। সঙ্গে কখনও কেউ থাকছেন কখনও থাকছেন না’ বলেন এপি তালুকদার।

বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে যখন ১৬ মে কথা হয় তখন তিনি পতিসরে গিয়েছেন। লকডাউনের কারণে দর্শনীয় স্থান সব বন্ধ থাকায় ভেতরে না যেতে পারলেও বাইরে থেকে দেখে ঘুরে আসছেন।

এতটা পথ কি এবারই প্রথম?

 ‘একটানা এত লম্বা পথ এবারই প্রথম। কিন্তু আমি এর আগে পাহাড়ে সাতদিন  সাইকেল চালিয়েছি। ওটা আরেক অভিজ্ঞতা ছিল। দার্জিলিংয়ে ১২ দিন চালিয়েছি। কিন্তু টানা ১৪ ঘণ্টায় ২৫৫ কিলো চালিয়ে এবারই প্রথম। এবারের উত্তেজনাও অন্যরকম ছিল। আমাদের সাইক্লিস্টদের একটা গ্রুপ আছে। আমরা আমাদের পরস্পরকে সাহায্য সহযোগিতা করে আনন্দ নিয়ে চ্যালেঞ্জ উদযাপন করি’—বলছিলেন তিনি।

ভয় পেলেন কিনা

 ‘আমার ভয় ছিল না তা নয়। আমাদের লাইটের চার্জের স্বল্পতা ছিল। একজনের আলো দিয়ে আরেকজন চালিয়েছি। নারী হিসেবে যেকোনও উদ্যোগ নেওয়ার সময় ভয় হয়তো মনের কোনে উঁকি দেয় কিন্তু ভয় পাওয়া যাবে না। আমরা শুরুর অনেকটা পথ দুজন ছিলাম বলে ভয়টা অতটা না থাকলেও পথে যেকোনও কিছু ঘটতে পারে সেই মানসিক প্রস্তুতিটা নিশ্চয় ছিল।’

গণমাধ্যম আমার সঙ্গে কথা বললে খুশি হতাম

কথার এক ফাঁকে একটু ক্ষোভ ঝরলো এপি তালুকদারের কণ্ঠে। তিনি বলেন,  ‘আমি এসেছি ৩ মে। আমি ফেসবুকে পোস্টও করেছি। আমার লিস্টে গণমাধ্যমকর্মীদের কেউ কেউ আছেন তাদের মাধ্যমে পত্রিকায় ছাপা হলো আমি ৮ মে সান্তাহার গিয়েছি। তারা এই তারিখটি কার কাছে কীভাবে পেলো জানি না। আর এরপর আরও অনেকগুলো পত্রিকা আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করেই ওই ভুল তথ্য প্রকাশ করতে থাকলো। আমরা যারা এ ধরনের চ্যালেঞ্জ এর সঙ্গে বাস করি তারা মিথ্যা খুব অপছন্দ করি। কিছু লেখার আগে আমার সঙ্গে কথা বলে নিলে ভুল হতো না।’

ফিরছেন কবে?

সেই ক্ষোভ থেকেই অভিমানের সুরে এপি তালুকদার বলেন,  ‘কবে ফিরব তা আমি এবার কাউকে জানাবো না।’

 

/এমআর/

সম্পর্কিত

সংসদীয় কমিটির সুপারিশ নারী জাতির জন্য অসম্মানজনক

সংসদীয় কমিটির সুপারিশ নারী জাতির জন্য অসম্মানজনক

গার্ড অব অনারে নারী ইউএনও’র বিকল্প নির্ধারণের সুপারিশের প্রতিবাদ মহিলা পরিষদের

গার্ড অব অনারে নারী ইউএনও’র বিকল্প নির্ধারণের সুপারিশের প্রতিবাদ মহিলা পরিষদের

মহামারিকালে শহরে নারীর কাজ বেড়েছে ১২৮ শতাংশ

মহামারিকালে শহরে নারীর কাজ বেড়েছে ১২৮ শতাংশ

গড়ে ১০১ মৃত্যু, বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে যাদের

গড়ে ১০১ মৃত্যু, বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে যাদের

সর্বশেষ

বাঁশ বেঁধেও ঠেকানো যাচ্ছে না মানুষের চলাচল

বাঁশ বেঁধেও ঠেকানো যাচ্ছে না মানুষের চলাচল

গ্রিজমানের গোলে হার এড়ালো ফ্রান্স

গ্রিজমানের গোলে হার এড়ালো ফ্রান্স

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইব্রাহিম রায়িসিকে বিজয়ী ঘোষণা

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইব্রাহিম রায়িসিকে বিজয়ী ঘোষণা

ফতুল্লায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেলো রিকশার ২ যাত্রীর

ফতুল্লায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেলো রিকশার ২ যাত্রীর

ফিরোজায় ফিরেছেন খালেদা জিয়া

ফিরোজায় ফিরেছেন খালেদা জিয়া

শার্শায় ৪৩ নমুনা পরীক্ষায় ৩২ জনই আক্রান্ত

শার্শায় ৪৩ নমুনা পরীক্ষায় ৩২ জনই আক্রান্ত

কাবুলে মার্কিন দূতাবাসে করোনার তাণ্ডব: আক্রান্ত ১১৪

কাবুলে মার্কিন দূতাবাসে করোনার তাণ্ডব: আক্রান্ত ১১৪

মায়ের পর দগ্ধ মেয়েরও মৃত্যু

মায়ের পর দগ্ধ মেয়েরও মৃত্যু

ভারতে আসছে করোনার তৃতীয় ঢেউ

ভারতে আসছে করোনার তৃতীয় ঢেউ

ধোনিকে ছাড়িয়ে অধিনায়ক কোহলির রেকর্ড

ধোনিকে ছাড়িয়ে অধিনায়ক কোহলির রেকর্ড

গ্রুপ অ্যাডমিনদের জন্য নতুন ফিচার আনলো ফেসবুক

গ্রুপ অ্যাডমিনদের জন্য নতুন ফিচার আনলো ফেসবুক

বাগেরহাটের রেজাউল হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেফতার

বাগেরহাটের রেজাউল হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেফতার

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সংসদীয় কমিটির সুপারিশ নারী জাতির জন্য অসম্মানজনক

সংসদীয় কমিটির সুপারিশ নারী জাতির জন্য অসম্মানজনক

গার্ড অব অনারে নারী ইউএনও’র বিকল্প নির্ধারণের সুপারিশের প্রতিবাদ মহিলা পরিষদের

গার্ড অব অনারে নারী ইউএনও’র বিকল্প নির্ধারণের সুপারিশের প্রতিবাদ মহিলা পরিষদের

মহামারিকালে শহরে নারীর কাজ বেড়েছে ১২৮ শতাংশ

মহামারিকালে শহরে নারীর কাজ বেড়েছে ১২৮ শতাংশ

গড়ে ১০১ মৃত্যু, বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে যাদের

গড়ে ১০১ মৃত্যু, বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে যাদের

© 2021 Bangla Tribune